ADS170638-2

ফেনীতে ইউপি মাদক মামলায় চেয়ারম্যান মানিক কারাগারে

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,ফেনী ঃ
সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জেলে ফিরলেন বহুল আলোচিত সমালোচিত ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুইবারের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এফ এম আজিজুল হক মানিক। মাদক মামলায় চট্টগ্রামে আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাকে জামিন না মন্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে আজিজুল হক মানিক আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন না মন্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার আরজিতে জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার সবুজবাগ কালিবাড়ির মুখ থেকে রেহানা আক্তার সুমি (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করে করে পুলিশ। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক মামলায় আজিজুল হক মানিককেও সেই মামলায় আসামি করা হয়। তার সাথে মানিক চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবী করে ওই মহিলা।

এই ঘটনায় চট্টগ্রামের হালিশহর থানার এ এস আই আবুল হোসেন বাদি হয়ে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের রামপুর এলাকার মো: মোস্তফার মেয়ে রেহানা আক্তার সুমিকে (৩৫) প্রধান আসামী করে ও ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আমিন শরীফের ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান আজিুল হক মানিক (৪৫) ও ইকবাল হোসেনকে (৩৮) আসামী করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হালিশহর থানার উপ-পরিদর্শক শহীদ উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী জানিয়েছেন ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো আজিজুল হক মানিকের । এ জন্য তাঁকে ধরতে অভিযানে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু এতদিন ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে । তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরবর্তী শুনানির দিন পুলিশের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিকের গ্রেফতারের পর পর খবরটি মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ফেইজবুক স্ট্যাটাসে কেউ কেউ মন্তব্য করতে গিয়ে তারা লিখেন চেয়ারম্যানের চরিত্র যদি এমন হয় তাহলে এখন চারিত্রীক সনদ দিবে কে? কেউ কেউ আবার লিখেন চেয়ারম্যান মানিক কিছুদিন পূর্বে জনসভা করে উচ্চস্বরে বলেছিলেন ছাগলনাইয়া বাজার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হবে এখন আগুন কে জ্বালাবে? এদিকে ২০১৯ সালের ৮ডিসেম্বর বিকেলে ঘোপাল ইউনিয়নের সমিতি বাজারে চেয়ারম্যান গ্রুফের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং এসময় পারভেজ ও জিহান নামে আরো দুইজন আহত হয়। সে সময় নিহত সিরাজের নিথর দেহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর রেখে হুকুমের আসামী হিসেবে চেয়ারম্যান মানিকসহ সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্লোগান দেয় নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসি। পরে নিহত সিরাজের বাবা ১৪ জনকে আসামী করে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করলেও রহস্যগত কারনে চেয়ারম্যান মানিকের নাম বাদ দেয়ায় এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পরে এবং পুনরায় ঐ মামলায় চেয়ারম্যান মানিকের নাম অন্তর্ভূক্তির দাবি জানায় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» চাটখিল-সোনাইমুড়ীর ১০ হাজার পরিবারে যাচ্ছে জাহাঙ্গীর আলমের খাদ্য সহায়তা

» কবিরহাটে ছাত্রলীগের ত্রাণ ও লিফলেট বিতরণ

» নোয়াখালীতে মোটর বাইক সহ সকল যান চলাচল বন্ধসহ দোকান বন্ধের নুতন নির্দেশনা জারি

» সুবর্ণচরে ঘাস কাটা নিয়ে বিরোধে কৃষক খুন, আটক ১

» বেগমগঞ্জে বিয়ে করতে যাওয়া বরকে কুপিয়ে হত্যা

» চাটখিলে করোনা সন্দেহে ৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্যে চট্রগ্রামে পাঠানো হয়েছে

» ফেনীর সোনাগাজীতে লোকালয় থেকে মেছো বাঘ উদ্ধার

» চাটখিলে বেসরকারী হাসপাতালের কর্মচারীদের পাশে দাঁড়ালেন মালিকপক্ষ

» আসুন মৃত্যুর মিছিল ঠেকাই। শত কষ্ট হলেও বাড়িতে থাকি

» দক্ষিণ আফ্রিকায় লকডাউন আইন অমান্য করায় বর ও কনেসহ ৫৩ গ্রেপ্তার

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

ফেনীতে ইউপি মাদক মামলায় চেয়ারম্যান মানিক কারাগারে

 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,ফেনী ঃ
সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জেলে ফিরলেন বহুল আলোচিত সমালোচিত ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুইবারের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এফ এম আজিজুল হক মানিক। মাদক মামলায় চট্টগ্রামে আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাকে জামিন না মন্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে আজিজুল হক মানিক আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন না মন্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার আরজিতে জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার সবুজবাগ কালিবাড়ির মুখ থেকে রেহানা আক্তার সুমি (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করে করে পুলিশ। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক মামলায় আজিজুল হক মানিককেও সেই মামলায় আসামি করা হয়। তার সাথে মানিক চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবী করে ওই মহিলা।

এই ঘটনায় চট্টগ্রামের হালিশহর থানার এ এস আই আবুল হোসেন বাদি হয়ে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের রামপুর এলাকার মো: মোস্তফার মেয়ে রেহানা আক্তার সুমিকে (৩৫) প্রধান আসামী করে ও ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আমিন শরীফের ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান আজিুল হক মানিক (৪৫) ও ইকবাল হোসেনকে (৩৮) আসামী করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হালিশহর থানার উপ-পরিদর্শক শহীদ উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী জানিয়েছেন ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো আজিজুল হক মানিকের । এ জন্য তাঁকে ধরতে অভিযানে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু এতদিন ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে । তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরবর্তী শুনানির দিন পুলিশের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিকের গ্রেফতারের পর পর খবরটি মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ফেইজবুক স্ট্যাটাসে কেউ কেউ মন্তব্য করতে গিয়ে তারা লিখেন চেয়ারম্যানের চরিত্র যদি এমন হয় তাহলে এখন চারিত্রীক সনদ দিবে কে? কেউ কেউ আবার লিখেন চেয়ারম্যান মানিক কিছুদিন পূর্বে জনসভা করে উচ্চস্বরে বলেছিলেন ছাগলনাইয়া বাজার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হবে এখন আগুন কে জ্বালাবে? এদিকে ২০১৯ সালের ৮ডিসেম্বর বিকেলে ঘোপাল ইউনিয়নের সমিতি বাজারে চেয়ারম্যান গ্রুফের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং এসময় পারভেজ ও জিহান নামে আরো দুইজন আহত হয়। সে সময় নিহত সিরাজের নিথর দেহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর রেখে হুকুমের আসামী হিসেবে চেয়ারম্যান মানিকসহ সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্লোগান দেয় নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসি। পরে নিহত সিরাজের বাবা ১৪ জনকে আসামী করে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করলেও রহস্যগত কারনে চেয়ারম্যান মানিকের নাম বাদ দেয়ায় এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পরে এবং পুনরায় ঐ মামলায় চেয়ারম্যান মানিকের নাম অন্তর্ভূক্তির দাবি জানায় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd