সোনাইমুড়ীতে ১৬ ফুটের রাস্তা এখন ৬ ফুটের!

ইসমাঈল হোসেন টিটুঃ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া,সাতরা গ্রামসহ একাধিক গ্রামবাসীর চলাচলে রাস্তাটি এখন মরণফাঁদের হাতছানি। এই গ্রামের একমাত্র চলাচলের সড়কটি বেহাল দশা। প্রতিনিয়তই ঘটছে রিক্সা,ভ্যান সহ অন্যান্য পরিবহন উল্টে মারাত্বক দুর্ঘটনা। চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাটি সংস্করণ ও পাকা করণের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জোড় দাবী জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। নোয়াখালী এক আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম তিন বছর পূর্বে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, এখনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে থানার হাট বাজার আসা-যাওয়া করে থাকেন। এবং সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ নোয়াখালী সদরে যাতায়াত করে। যাতায়াত ব্যাবস্থা খারাপ থাকায় মানুষের অসুখ বিসুখ হলে চিকিৎসা নিতে বিরম্ভনার শিকার হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা কাদায় ভরে যায়। কোন রিক্সা ভ্যান চলাচল করতে পারে না। এমনকি ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার জন্য একমাত্র স্কুলে যাতায়াত করতেও নানা অসুবিধা হচ্ছে।

ধুলিয়াপাড়া সাতরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,এখানে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছয়টা মসজিদ, একটি মাদ্রাসা রয়েছে।

এ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র। ভোট কেন্দ্রে মালামাল আনা নেওয়া সহ নানা রকম কাজ করতে অনেক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। সাতরা গ্রামে থেকে ধুলিয়াপাড়া হাজি বাড়ি পর্যন্ত থেকে এক কিলোমিটার রাস্তাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্করণ ও পাকাকরণ দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করার জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন।

সাতরা গ্রামের রিক্সাচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগের মত এখন আর যাত্রী পাইনা, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে যাত্রীরা রিক্সায় উঠে না।রাস্তা দিয়ে দুটি রিক্সা আসা-যাওয়া করতে পারেনা। বৃষ্টি হলে তো রিক্সা বাইরে করিনা। অনেক কষ্টেে করে সংসার চালিয়ে যেতে হয় আমাদেরকে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার কাজ করা হোক। আমাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত হোক।

৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ জসিম বলেন,
১৬ ফুটের রাস্তাটি এখন ছয় থেকে সাত ফুটে পরিণত হয়েছে । দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই রাস্তাটি এক দুই বছর পরে বিলীন হয়ে যাবে। আমাদের এমপি এইচ এম ইব্রাহিম ভাইকে আমরা সরোজমিনে এনে রাস্তাটি দেখিয়েছি তিনি তিন বছর পূর্বে আমাদেরকে অসংখ্য লোকের সামনে এ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের করার আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা সত্যি খুব অবহেলিত। যুগের পর যুগ ধরে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। কেউ দেখার নেই। রাস্তার এ করুন অবস্থার কারণে গ্রামের জনগণের জন্য দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। আমাদের গ্রামের অসুস্থ রোগীরা এক কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে ধুলিয়াপাড়া গিয়ে রিক্সা যোগে থানার হাট বাজার এবং সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ চাটখিলে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হয়। আমরা এ কষ্টকর অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি, মনজুর রহমান বলেন,
আমি এবিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং এলাকার মেম্বারকে একাধিকবার বলেছি। প্রতিবারে তারা আশ্বস্ত করেছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেননি তারা।

এ ব্যাপারে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আকবর পলাশ জানায়, IRDC-JMP3 এই প্রকল্পে প্রথমে এই রাস্তার নাম দেওয়া আছে। এই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত রাস্তাটি কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা যে পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ পেয়ে থাকি রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন জন্য। এই টাকা দিয়ে উন্নয়ন এবং সংস্কার করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ টাকাই জেলাশহরে পৌরসভায় খরচ হয়ে যায়। এইজন্যেই গ্রামের অনেক কাজ দেরিতে হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» চাটখিলের সন্তান বাঁধনের জিপিএ ফাইভ অর্জন

» নারীর লাশ ঝুলছে, সন্তানের পানিতে,স্বামী পলাতক

» সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের নুতন সভাপতি খোরশেদ আলম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া

» করোনা দুর্যোগে নোয়াখালীর ৩০ হাজার মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম

» বেগমগঞ্জে ঈদের রাতে আ,লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সহ আহত ৯ গ্রেফতার ৩

» নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসের ফেসবুক আইডি হ্যাক

» চাটখিলে বাবার বাড়ী থেকে ১ সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

» করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘন্টা পরে মারা গেলেন বেগমগঞ্জের একজন

» স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উইফরইউ পাঠশালা’র ১২০ শিক্ষার্থী পেল ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ

» নোয়াখালীতে নুতন আক্রান্ত ৭৭, চাটখিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগ বাদে সব বন্ধ

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

সোনাইমুড়ীতে ১৬ ফুটের রাস্তা এখন ৬ ফুটের!

ইসমাঈল হোসেন টিটুঃ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া,সাতরা গ্রামসহ একাধিক গ্রামবাসীর চলাচলে রাস্তাটি এখন মরণফাঁদের হাতছানি। এই গ্রামের একমাত্র চলাচলের সড়কটি বেহাল দশা। প্রতিনিয়তই ঘটছে রিক্সা,ভ্যান সহ অন্যান্য পরিবহন উল্টে মারাত্বক দুর্ঘটনা। চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাটি সংস্করণ ও পাকা করণের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জোড় দাবী জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। নোয়াখালী এক আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম তিন বছর পূর্বে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, এখনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে থানার হাট বাজার আসা-যাওয়া করে থাকেন। এবং সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ নোয়াখালী সদরে যাতায়াত করে। যাতায়াত ব্যাবস্থা খারাপ থাকায় মানুষের অসুখ বিসুখ হলে চিকিৎসা নিতে বিরম্ভনার শিকার হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা কাদায় ভরে যায়। কোন রিক্সা ভ্যান চলাচল করতে পারে না। এমনকি ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার জন্য একমাত্র স্কুলে যাতায়াত করতেও নানা অসুবিধা হচ্ছে।

ধুলিয়াপাড়া সাতরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,এখানে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছয়টা মসজিদ, একটি মাদ্রাসা রয়েছে।

এ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র। ভোট কেন্দ্রে মালামাল আনা নেওয়া সহ নানা রকম কাজ করতে অনেক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। সাতরা গ্রামে থেকে ধুলিয়াপাড়া হাজি বাড়ি পর্যন্ত থেকে এক কিলোমিটার রাস্তাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্করণ ও পাকাকরণ দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করার জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন।

সাতরা গ্রামের রিক্সাচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগের মত এখন আর যাত্রী পাইনা, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে যাত্রীরা রিক্সায় উঠে না।রাস্তা দিয়ে দুটি রিক্সা আসা-যাওয়া করতে পারেনা। বৃষ্টি হলে তো রিক্সা বাইরে করিনা। অনেক কষ্টেে করে সংসার চালিয়ে যেতে হয় আমাদেরকে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার কাজ করা হোক। আমাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত হোক।

৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ জসিম বলেন,
১৬ ফুটের রাস্তাটি এখন ছয় থেকে সাত ফুটে পরিণত হয়েছে । দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই রাস্তাটি এক দুই বছর পরে বিলীন হয়ে যাবে। আমাদের এমপি এইচ এম ইব্রাহিম ভাইকে আমরা সরোজমিনে এনে রাস্তাটি দেখিয়েছি তিনি তিন বছর পূর্বে আমাদেরকে অসংখ্য লোকের সামনে এ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের করার আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা সত্যি খুব অবহেলিত। যুগের পর যুগ ধরে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। কেউ দেখার নেই। রাস্তার এ করুন অবস্থার কারণে গ্রামের জনগণের জন্য দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। আমাদের গ্রামের অসুস্থ রোগীরা এক কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে ধুলিয়াপাড়া গিয়ে রিক্সা যোগে থানার হাট বাজার এবং সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ চাটখিলে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হয়। আমরা এ কষ্টকর অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি, মনজুর রহমান বলেন,
আমি এবিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং এলাকার মেম্বারকে একাধিকবার বলেছি। প্রতিবারে তারা আশ্বস্ত করেছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেননি তারা।

এ ব্যাপারে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আকবর পলাশ জানায়, IRDC-JMP3 এই প্রকল্পে প্রথমে এই রাস্তার নাম দেওয়া আছে। এই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত রাস্তাটি কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা যে পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ পেয়ে থাকি রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন জন্য। এই টাকা দিয়ে উন্নয়ন এবং সংস্কার করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ টাকাই জেলাশহরে পৌরসভায় খরচ হয়ে যায়। এইজন্যেই গ্রামের অনেক কাজ দেরিতে হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd