রামগঞ্জে কাজ না করে ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আবু তাহের, রামগঞ্জ ঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা জাহাঙ্গীর কোম্পানীর বাড়ী থেকে হরকার বাড়ী পর্যন্ত ও আথাকরা গোপাল বাড়ী থেকে নাপিত বাড়ী পর্যন্ত এ দুইটি রাস্তা বিগত তিন বছর যাবত কাজ নাকরে বার বার প্রকল্প দেখিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে সরকারের ১৭ লক্ষ ৮৫হাজার ৭৪৮ আতœসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অত্র ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহম্মদ মানিকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে দূদকে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেহলা জাহাঙ্গীর কোম্পানীর বাড়ি থেকে সরকার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ২০১৭-১৮ অর্থ বছর ৪০ দিনে কর্মসূচী প্রকল্প থেকে ৩৫শ্রমিক বাবত ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা , ২০১৮-১৯ অর্থ বছর একই রাস্তার জন্য একই প্রকল্প থেকে আবারও ৩৫শ্রমিক বাবত ২ লক্ষ ৮০হাজার টাকা ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে একই রাস্তার নাম পরিবর্তন করে হরকার বাড়ি স্থলে সরকার বাড়ি প্রকল্প দেখিয়ে ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের ১% (ভূমি কর) প্রকল্প থেকে ৩লক্ষ ৬৫ হাজার ৭শত ৪৮ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। অপরদিকে আথাকরা গোপাল বাড়ি থেকে নাপিত বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটিতে মাটি দ্বারা উন্নয়নের কাবিটা প্রকল্পের ২০১৭-১৮ অর্থ বছর ১লক্ষ ৮০হাজার, একই অর্থ বছর ৪০দিনের কর্মসূচী প্রকল্প থেকে ৫৫ জন শ্রমিক বাবত ৪লক্ষ ৪০হাজার ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে একই রাস্তার হিজবুল বাড়ি থেকে নাপিত বাড়ি পর্যন্ত নাম পরিবর্তন করে ৪০দিনের কর্মসূচী প্রকল্প থেকে ৩০ জন শ্রমিক বাবত ২লক্ষ ৪০হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওযা হয়।
স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে ও সরেজমিনে গিয়ে আতœসাতের সত্যতা পাওয়া গেছে।
দেহলা গ্রামের নূরনবী, জাহাঙ্গীর, খোদেজা বেগম, আথাকরা গ্রামের নিরধ ঘোষ, উমেষ ঘোষ, আলী আহম্মদ (সাবেক রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিস সহকারী)সহ এলাকাবাসী জানান, জাহাঙ্গীর কোম্পানীর বাড়ির থেকে হরকার বাড়ি, আথাকরা গ্রামের গোপাল বাড়ি থেকে নাপিথ বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি অত্যান্ত সরু ও খানাখন্দে ভরা , রিক্সাসহ যে কোন যান চলাচলের অযোগ্য । এ রাস্তাটি অনেক পুরানো বিগত ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এ রাস্তার জন্য সরকারী বরাদ্ধ হয়েছে বলেও আমাদের জানা নাই। বরং ইট ভাটার মালিক ও মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাঠের ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার সময় ব্যাক্তি উদ্যোগে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় কয়েকটি স্থানে কিছু মাটি ফেলে খানাখন্দ ভরাট করে দেয়। এছাড়াও তারা নিজেরা বাড়ির পুকুর লীজ দিয়ে ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে ৪/৫ বছর পূর্বে কংক্রিট দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করেন।
ভোলাকোট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন চৌধুরী জানান, আমরা পরিষদের সকল সদস্য চেয়ারম্যান বশির আহম্মেদের নিকট এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে উল্টো আমাদেরকে হুমকী ধমকী অব্যাহত রেখেছেন। পরে কান উপায়ন্তর না দেখে নোয়াখালী দূদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছি।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান বশির আহম্মেদের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিলীপ দে জানান, আমি অত্র উপজেলায় গত ডিসেম্বর মাসে যোগদান করেছি, আমি যোগদানের পর থেকে যাচাই বাচাই করে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি এবং কাজ বুজে নিয়ে বিল দিয়েছি। এর পূর্বে কি হয়েছে আমার জানা নাই।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তবে দুদকে অভিযোগের একটি কপি হাতে পেয়েছি।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» হাতিয়ায় বোনকে গলা টিপে হত্যা করল ভাই

» সোনাইমুড়ীর জয়াগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তরুন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের মৃত্যু

» বেগমগঞ্জে গোসল নিয়ে দ্বন্ধে যুবককে হত্যা, আটক ৫

» সোনাইমুড়ীতে পারিবারিক বিরোধে অবরুদ্ধ এক পরিবারের মানবেতর জীবন-যাপন

» করোনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বেগমগঞ্জের যুবকের মৃত্যু

» ইসলামিক ফোরাম অব আফ্রিকা ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

» সুবর্ণচরে বয়স্ক ভাতার ঘুষ নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

» সোনাইমুড়ীতে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি

» নোয়াখালীতে সুদের টাকার জন্য ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ, লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

» চাটখিলের খিলপাড়াতে ইসলামী ব্যাংকের ২য় শাখার কার্যক্রম শুরু

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

রামগঞ্জে কাজ না করে ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আবু তাহের, রামগঞ্জ ঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা জাহাঙ্গীর কোম্পানীর বাড়ী থেকে হরকার বাড়ী পর্যন্ত ও আথাকরা গোপাল বাড়ী থেকে নাপিত বাড়ী পর্যন্ত এ দুইটি রাস্তা বিগত তিন বছর যাবত কাজ নাকরে বার বার প্রকল্প দেখিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে সরকারের ১৭ লক্ষ ৮৫হাজার ৭৪৮ আতœসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অত্র ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহম্মদ মানিকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে দূদকে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেহলা জাহাঙ্গীর কোম্পানীর বাড়ি থেকে সরকার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ২০১৭-১৮ অর্থ বছর ৪০ দিনে কর্মসূচী প্রকল্প থেকে ৩৫শ্রমিক বাবত ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা , ২০১৮-১৯ অর্থ বছর একই রাস্তার জন্য একই প্রকল্প থেকে আবারও ৩৫শ্রমিক বাবত ২ লক্ষ ৮০হাজার টাকা ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে একই রাস্তার নাম পরিবর্তন করে হরকার বাড়ি স্থলে সরকার বাড়ি প্রকল্প দেখিয়ে ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের ১% (ভূমি কর) প্রকল্প থেকে ৩লক্ষ ৬৫ হাজার ৭শত ৪৮ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। অপরদিকে আথাকরা গোপাল বাড়ি থেকে নাপিত বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটিতে মাটি দ্বারা উন্নয়নের কাবিটা প্রকল্পের ২০১৭-১৮ অর্থ বছর ১লক্ষ ৮০হাজার, একই অর্থ বছর ৪০দিনের কর্মসূচী প্রকল্প থেকে ৫৫ জন শ্রমিক বাবত ৪লক্ষ ৪০হাজার ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে একই রাস্তার হিজবুল বাড়ি থেকে নাপিত বাড়ি পর্যন্ত নাম পরিবর্তন করে ৪০দিনের কর্মসূচী প্রকল্প থেকে ৩০ জন শ্রমিক বাবত ২লক্ষ ৪০হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওযা হয়।
স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে ও সরেজমিনে গিয়ে আতœসাতের সত্যতা পাওয়া গেছে।
দেহলা গ্রামের নূরনবী, জাহাঙ্গীর, খোদেজা বেগম, আথাকরা গ্রামের নিরধ ঘোষ, উমেষ ঘোষ, আলী আহম্মদ (সাবেক রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিস সহকারী)সহ এলাকাবাসী জানান, জাহাঙ্গীর কোম্পানীর বাড়ির থেকে হরকার বাড়ি, আথাকরা গ্রামের গোপাল বাড়ি থেকে নাপিথ বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি অত্যান্ত সরু ও খানাখন্দে ভরা , রিক্সাসহ যে কোন যান চলাচলের অযোগ্য । এ রাস্তাটি অনেক পুরানো বিগত ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এ রাস্তার জন্য সরকারী বরাদ্ধ হয়েছে বলেও আমাদের জানা নাই। বরং ইট ভাটার মালিক ও মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাঠের ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার সময় ব্যাক্তি উদ্যোগে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় কয়েকটি স্থানে কিছু মাটি ফেলে খানাখন্দ ভরাট করে দেয়। এছাড়াও তারা নিজেরা বাড়ির পুকুর লীজ দিয়ে ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে ৪/৫ বছর পূর্বে কংক্রিট দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করেন।
ভোলাকোট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন চৌধুরী জানান, আমরা পরিষদের সকল সদস্য চেয়ারম্যান বশির আহম্মেদের নিকট এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে উল্টো আমাদেরকে হুমকী ধমকী অব্যাহত রেখেছেন। পরে কান উপায়ন্তর না দেখে নোয়াখালী দূদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছি।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান বশির আহম্মেদের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিলীপ দে জানান, আমি অত্র উপজেলায় গত ডিসেম্বর মাসে যোগদান করেছি, আমি যোগদানের পর থেকে যাচাই বাচাই করে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি এবং কাজ বুজে নিয়ে বিল দিয়েছি। এর পূর্বে কি হয়েছে আমার জানা নাই।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তবে দুদকে অভিযোগের একটি কপি হাতে পেয়েছি।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd