পেঁয়াজের ঝাঁজ কি পৌঁছে না মন্ত্রিপাড়ায়?

গোলাম রহমান দূর্জয়।।

গতকাল পেঁয়াজ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী,কৃষি মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাত-আটজন কর্তা ব্যক্তি কে টেলিফোন দিয়েছিলাম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার প্রশ্ন ছিল পেঁয়াজ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার দায়ভার কার ? তিনি বলেছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের । আমি পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম এই বিষয়টি বছরের শুরুতে পরিকল্পনার মধ্যে এনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় না করে প্রতিবছর এ সময় এসে ভারত পেয়াজ বন্ধ করে দিলে আপনাদের বোধোদয় হয় কেন?
উত্তর তাঁরা জানিয়েছেন তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা। তাদের পদক্ষেপ জনগণের কোনো কাজে আসেনি জনগণকে চড়া দামে পেঁয়াজ কিনে খেতে হয়।
অতপর কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার প্রশ্ন ছিল বারবার কেন একই সমস্যা তৈরি হচ্ছে ? তারা বললেন এক বছরে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় এ সমস্যার সমাধান পর্যাক্রমে কয়েক বছর লাগবে।
আমি বললাম ঠিক কি কি সমস্যার কারণে প্রতিবছর পেয়াজ নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয় এটা নিয়ে সঠিক কোনো উত্তর কৃষি মন্ত্রণালয় দিতে পারেনি।
অথচ বারবার সমস্যার সম্মুখীন হয়েও কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

প্রতিবছর বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন যা আমাদের দেশে দুই লক্ষ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। সংরক্ষণ ও ব্যাবস্থাপনার সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন এর অভাবে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করতে পারায় প্রায় ১০লক্ষ টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ৫ লক্ষ টন পেঁয়াজের ঘাটতি থেকে যায়।
আমরা বাকি পাঁচ লক্ষ টন প্রতিবছর ভারত সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
ভারত পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলেই প্রতিবছর এ সময় আমাদের পেঁয়াজের সমস্যাটা প্রকট হয় পাশাপাশি আমাদের অতি মুনাফালোভী মজুমদাররা সিন্ডিকেট করে বাণিজ্য করতে থাকে।

অতঃপর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিছু পরামর্শ তাদেরকে প্রদান করেছি যা নিচে তুলে ধরা হলো।

পেঁয়াজ সংকটের এক নম্বর কারণ
বীজ সংকটঃ
—————–
আমাদের দেশে প্রতি মৌসুমে পেঁয়াজ বীজের চাহিদা এগারোশো মেট্রিক টন।
সরকারিভাবে ৬/৭ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে।‌
আর বেসরকারিভাবে ৬০/৭০ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে।
বাকিটা কৃষক মান্ধাতার আমলের সনাতন নিয়মে ব্যবস্থা করে থাকেন।

অথচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় যদি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাইব্রিড বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়া করা যেত তাহলে একই জমিতে তিন গুণ পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব ছিল। যেমনটা আমরা উন্নত প্রযুক্তির বোরো ধান চাষ করে পেয়েছি।

দুই নম্বর সমস্যা হচ্ছে স্বতন্ত্র পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের অভাবঃ
————————
আমাদের দেশের যেই জেলাগুলোতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে সেখানে শুধুমাত্র পেঁয়াজ সংরক্ষণ এর জন্য কোন সংরক্ষণাগার নেই।
ফলে কৃষক বাড়িতে বিকল্প পন্থায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে যে কারণে অনেক পেঁয়াজ পচে যায় অথবা চারা গজায়।
অথচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় অথবা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করে যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংরক্ষণাগার তৈরি করা যেত তবে এই সংকট তৈরি হতো না এবং কৃষক পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ হারাতো না।

তিন নম্বর সমস্যা দামের ওঠানামা এবং কৃষক যথাযথ মূল্য না পাওয়াঃ
——————-
পেঁয়াজ উৎপাদনের কৃষকের যেই পরিমান ব্যয় হয় ফলনের মৌসুমে সেই পরিমাণ ন্যায্যমূল্য পায়না ফলে পেঁয়াজ উৎপাদন থেকে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে কৃষক।
অথচ মৌসুমে কৃষককে ঠকিয়ে দশ পনের টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে প্রথমে ২৫/ ৩০টাকা পরে ৪০ /৫০/ ৭০ /৮০ অথবা ১০০ /২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে সুবিধাজনক বিভিন্ন দাম নিয়ে থাকে।
অথচ পেঁয়াজের ব্যাপারে যদি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতো যেমন মৌসুমে কৃষক থেকে দশ পনের টাকা দরে পেঁয়াজ না কিনে ৩০/৪০ টাকা একটা নির্ধারিত মূল্য বেঁধে দিলে সারা বছর একই দাম থাকত। এতে করে কৃষক পেঁয়াজ উৎপাদনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাতে।

৪ নম্বর সমস্যা ফলনের মৌসুমী ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করাঃ
—————————————–
আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে যখন মৌসুম সেই সময়ে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে পেঁয়াজের বাজার একেবারেই নিম্নমুখী করে ফেলে ফলে আমাদের কৃষক চরমভাবে বঞ্চিত হয় । যদিও এই মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি টা বন্ধ রাখা যেত তাহলে আমাদের কৃষক প্রকৃত মূল্য পেত।
৫ নম্বর সমস্যা
সরকারি দলের ছত্রছায়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাণিজ্য
——————–
সরকারি দলের বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছত্রছায়ায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এ বিষয়টি অবশ্যই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সঠিক দেখতে হবে ‌।
আর আমাদের দেশে যে ২লক্ষ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে সেখানে যদি ইরি ধানের মত উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হতো সেখান থেকে আমরা তিনগূন পেঁয়াজ পেতাম।
ফলে আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা লাগত না বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমরা পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারতাম।

আমরা মাত্র পাঁচ লক্ষ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে গিয়ে পর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি।
অথচ সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে আমাদের দুই লক্ষ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে সঠিক মনিটরিং এর মাধ্যমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ,উন্নত বীজ, বিজ্ঞানসম্মত চাষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে বাকি পাঁচ লক্ষ না বরং দশ পনের লক্ষ টন অথবা তারও বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সংকটের সময়ে বিশাল অংকের ভর্তুকি দিয়ে মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার থেকে মৌসুমে কৃষককে প্রেট্রোনাইজ করা ভালো নয় কি?

লেখক
গোলাম রহমান দুর্জয়
সাবেক সভাপতি সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাব।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» রামগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিধবার উপর হামলা

» এএসপি পদোন্নতিতে লিটনকে চাটখিলে সংবর্ধনা

» বেগমগঞ্জে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলৎকার, ২ কিশোর আটক

» চাটখিল ও সোনাইমুড়ীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও অনুদান দিলেন জাহাঙ্গীর আলম 

» ধর্ষকদের জন্য আ’লীগের দরজা চিরতরে বন্ধ:ওবায়দুল কাদের

» বাহরাইনে সড়ক দূর্ঘটনায় সেনবাগের হিরন নিহত

» চাটখিলে ধর্ষক শরীফের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জনতার মানববন্ধন

» গুলি ফুটিয়ে ভয় দেখিয়ে আরেক নারীকে ধর্ষন যুবলীগ নেতা শরীফের

» দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর রাসেল গুলিবিদ্ধ

» সুবর্নচরে শিশু শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ৫৫ বছরের বৃদ্ধের

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

পেঁয়াজের ঝাঁজ কি পৌঁছে না মন্ত্রিপাড়ায়?

গোলাম রহমান দূর্জয়।।

গতকাল পেঁয়াজ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী,কৃষি মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাত-আটজন কর্তা ব্যক্তি কে টেলিফোন দিয়েছিলাম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার প্রশ্ন ছিল পেঁয়াজ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার দায়ভার কার ? তিনি বলেছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের । আমি পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম এই বিষয়টি বছরের শুরুতে পরিকল্পনার মধ্যে এনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় না করে প্রতিবছর এ সময় এসে ভারত পেয়াজ বন্ধ করে দিলে আপনাদের বোধোদয় হয় কেন?
উত্তর তাঁরা জানিয়েছেন তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা। তাদের পদক্ষেপ জনগণের কোনো কাজে আসেনি জনগণকে চড়া দামে পেঁয়াজ কিনে খেতে হয়।
অতপর কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার প্রশ্ন ছিল বারবার কেন একই সমস্যা তৈরি হচ্ছে ? তারা বললেন এক বছরে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় এ সমস্যার সমাধান পর্যাক্রমে কয়েক বছর লাগবে।
আমি বললাম ঠিক কি কি সমস্যার কারণে প্রতিবছর পেয়াজ নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয় এটা নিয়ে সঠিক কোনো উত্তর কৃষি মন্ত্রণালয় দিতে পারেনি।
অথচ বারবার সমস্যার সম্মুখীন হয়েও কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

প্রতিবছর বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন যা আমাদের দেশে দুই লক্ষ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। সংরক্ষণ ও ব্যাবস্থাপনার সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন এর অভাবে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করতে পারায় প্রায় ১০লক্ষ টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ৫ লক্ষ টন পেঁয়াজের ঘাটতি থেকে যায়।
আমরা বাকি পাঁচ লক্ষ টন প্রতিবছর ভারত সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
ভারত পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলেই প্রতিবছর এ সময় আমাদের পেঁয়াজের সমস্যাটা প্রকট হয় পাশাপাশি আমাদের অতি মুনাফালোভী মজুমদাররা সিন্ডিকেট করে বাণিজ্য করতে থাকে।

অতঃপর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিছু পরামর্শ তাদেরকে প্রদান করেছি যা নিচে তুলে ধরা হলো।

পেঁয়াজ সংকটের এক নম্বর কারণ
বীজ সংকটঃ
—————–
আমাদের দেশে প্রতি মৌসুমে পেঁয়াজ বীজের চাহিদা এগারোশো মেট্রিক টন।
সরকারিভাবে ৬/৭ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে।‌
আর বেসরকারিভাবে ৬০/৭০ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে।
বাকিটা কৃষক মান্ধাতার আমলের সনাতন নিয়মে ব্যবস্থা করে থাকেন।

অথচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় যদি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাইব্রিড বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়া করা যেত তাহলে একই জমিতে তিন গুণ পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব ছিল। যেমনটা আমরা উন্নত প্রযুক্তির বোরো ধান চাষ করে পেয়েছি।

দুই নম্বর সমস্যা হচ্ছে স্বতন্ত্র পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের অভাবঃ
————————
আমাদের দেশের যেই জেলাগুলোতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে সেখানে শুধুমাত্র পেঁয়াজ সংরক্ষণ এর জন্য কোন সংরক্ষণাগার নেই।
ফলে কৃষক বাড়িতে বিকল্প পন্থায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে যে কারণে অনেক পেঁয়াজ পচে যায় অথবা চারা গজায়।
অথচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় অথবা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করে যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংরক্ষণাগার তৈরি করা যেত তবে এই সংকট তৈরি হতো না এবং কৃষক পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ হারাতো না।

তিন নম্বর সমস্যা দামের ওঠানামা এবং কৃষক যথাযথ মূল্য না পাওয়াঃ
——————-
পেঁয়াজ উৎপাদনের কৃষকের যেই পরিমান ব্যয় হয় ফলনের মৌসুমে সেই পরিমাণ ন্যায্যমূল্য পায়না ফলে পেঁয়াজ উৎপাদন থেকে ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে কৃষক।
অথচ মৌসুমে কৃষককে ঠকিয়ে দশ পনের টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে প্রথমে ২৫/ ৩০টাকা পরে ৪০ /৫০/ ৭০ /৮০ অথবা ১০০ /২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে সুবিধাজনক বিভিন্ন দাম নিয়ে থাকে।
অথচ পেঁয়াজের ব্যাপারে যদি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতো যেমন মৌসুমে কৃষক থেকে দশ পনের টাকা দরে পেঁয়াজ না কিনে ৩০/৪০ টাকা একটা নির্ধারিত মূল্য বেঁধে দিলে সারা বছর একই দাম থাকত। এতে করে কৃষক পেঁয়াজ উৎপাদনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাতে।

৪ নম্বর সমস্যা ফলনের মৌসুমী ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করাঃ
—————————————–
আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে যখন মৌসুম সেই সময়ে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে পেঁয়াজের বাজার একেবারেই নিম্নমুখী করে ফেলে ফলে আমাদের কৃষক চরমভাবে বঞ্চিত হয় । যদিও এই মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি টা বন্ধ রাখা যেত তাহলে আমাদের কৃষক প্রকৃত মূল্য পেত।
৫ নম্বর সমস্যা
সরকারি দলের ছত্রছায়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাণিজ্য
——————–
সরকারি দলের বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছত্রছায়ায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এ বিষয়টি অবশ্যই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সঠিক দেখতে হবে ‌।
আর আমাদের দেশে যে ২লক্ষ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে সেখানে যদি ইরি ধানের মত উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হতো সেখান থেকে আমরা তিনগূন পেঁয়াজ পেতাম।
ফলে আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা লাগত না বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমরা পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারতাম।

আমরা মাত্র পাঁচ লক্ষ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে গিয়ে পর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি।
অথচ সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে আমাদের দুই লক্ষ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে সঠিক মনিটরিং এর মাধ্যমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ,উন্নত বীজ, বিজ্ঞানসম্মত চাষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে বাকি পাঁচ লক্ষ না বরং দশ পনের লক্ষ টন অথবা তারও বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সংকটের সময়ে বিশাল অংকের ভর্তুকি দিয়ে মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার থেকে মৌসুমে কৃষককে প্রেট্রোনাইজ করা ভালো নয় কি?

লেখক
গোলাম রহমান দুর্জয়
সাবেক সভাপতি সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাব।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd