আফ্রিকায় বন্ধু লরেন্সের মৃত্যুতে হাতিদের ভালোবাসা প্রকাশ

মো.শরীফ উদ্দিন, দক্ষিণ আফ্রিকাঃ

পশু আর মানুষের সেই প্রাচীন বন্ধুত্ব বর্তমানে তেমন চোখে পড়েনা। তাও আবার হাতির সঙ্গে বন্ধুত্ব! সত্যি এটি অদ্ভুত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলুতে বসবাসরত অ্যান্থনি পরিবার শোকে কাতর। তাঁদের কর্তা লরেন্স অ্যান্থনি মারা গেছেন তিন দিন আগে, হার্ট অ্যাটাকে। শোক তখনো কুয়াশার মতো চাদর বিছিয়ে রয়ে গেছে। এ রকম সময়ে সবাই খেয়াল করল, বন্য হাতির দুটো দল সারিবদ্ধভাবে আসছে লরেন্সের বাড়ির দিকেই। পুত্র ডিলান অ্যান্থনি বের হয়ে এসে দেখল, এরা তার বাবার হাতে বড় হওয়া হাতি। লরেন্সের মৃত্যুতে শোক জানানোর জন্য প্রায় ১২ মাইল দূরের জুলুল্যান্ডের বন থেকে হাতিগুলো এসেছে।

কী অদ্ভুত ব্যাপার! দুই দিন ধরে হাতিগুলো বাড়ির সামনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল, তাদের বন্ধুকে স্মরণ করে। হ্যাঁ, ওদের বন্ধুই ছিলেন লরেন্স।

১৯৯৯ সালের কথা, এই বন্য হাতিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সেখানকার প্রশাসন ওদের মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। বাঁচাতে এগিয়ে আসেন লরেন্স। নিজে দায়িত্ব নিয়ে হাতির পালগুলোকে দেখাশোনা করে আদরযত্নের সহিত বড় করতে থাকেন। তখন হাতিদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় এক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তিনি যেমন হাতিদের বুঝতেন, হাতিরাও বুঝত তাঁর কথা, ইশারা। পশু আর মানুষের সেই প্রাচীন বন্ধুত্ব! হাতির সঙ্গে বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে বইও লিখেছেন লরেন্স অ্যান্থনি। বানাতে চেয়েছিলেন ডকুমেন্টারিও। মৃত্যু সে সুযোগ দিল না।

ওদিকে বন্ধুর মৃত্যু টের পেয়ে শোক জানাতে হাতিরা ছুটে এসেছিল দল বেঁধে। কিন্তু তারা কীভাবে এই খবর টের পেল, সেটা এক রহস্য! আরও অদ্ভুত ব্যাপার হলো, প্রতিবছর মার্চের ৭ তারিখ লরেন্সের মৃত্যুবার্ষিকীতে হাতিগুলো এসে উপস্থিত হয় ওই বাড়িতে। এটাকেও রহস্যময় মনে হচ্ছে? তাহলে বলি শোনো, একে বলে বন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» চাটখিলে জমি আছে ঘর নেই, প্রতিবন্ধী কার্ড আছে কিন্তু ভাতা নেই!

» সোনাইমুড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৪জনের মৃত্যু

» ঢাকাস্থ নোয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরাম’র নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি

» হাতিয়ার ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে আটক ১৮ রোহিঙ্গা

» বেগমগন্জে ১০ টাকার জন্য রিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা

» লক্ষ্মীপুরে ডেঙ্গু জ্বরে যুবক সাইফুলের মৃত্যু

» নোয়াখালী সদরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে গোলাগুলি,গুলিবিদ্ধ-১

» দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেনীর যুবককের মৃত্যু

» চাটখিলে রামনারায়নপুর স্কুলের শিক্ষকের স্মরনে সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

» বন্ধুর সাথে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, গ্রেফতার-১

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল kanon.press@gmail.com
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

আফ্রিকায় বন্ধু লরেন্সের মৃত্যুতে হাতিদের ভালোবাসা প্রকাশ

মো.শরীফ উদ্দিন, দক্ষিণ আফ্রিকাঃ

পশু আর মানুষের সেই প্রাচীন বন্ধুত্ব বর্তমানে তেমন চোখে পড়েনা। তাও আবার হাতির সঙ্গে বন্ধুত্ব! সত্যি এটি অদ্ভুত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলুতে বসবাসরত অ্যান্থনি পরিবার শোকে কাতর। তাঁদের কর্তা লরেন্স অ্যান্থনি মারা গেছেন তিন দিন আগে, হার্ট অ্যাটাকে। শোক তখনো কুয়াশার মতো চাদর বিছিয়ে রয়ে গেছে। এ রকম সময়ে সবাই খেয়াল করল, বন্য হাতির দুটো দল সারিবদ্ধভাবে আসছে লরেন্সের বাড়ির দিকেই। পুত্র ডিলান অ্যান্থনি বের হয়ে এসে দেখল, এরা তার বাবার হাতে বড় হওয়া হাতি। লরেন্সের মৃত্যুতে শোক জানানোর জন্য প্রায় ১২ মাইল দূরের জুলুল্যান্ডের বন থেকে হাতিগুলো এসেছে।

কী অদ্ভুত ব্যাপার! দুই দিন ধরে হাতিগুলো বাড়ির সামনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল, তাদের বন্ধুকে স্মরণ করে। হ্যাঁ, ওদের বন্ধুই ছিলেন লরেন্স।

১৯৯৯ সালের কথা, এই বন্য হাতিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সেখানকার প্রশাসন ওদের মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। বাঁচাতে এগিয়ে আসেন লরেন্স। নিজে দায়িত্ব নিয়ে হাতির পালগুলোকে দেখাশোনা করে আদরযত্নের সহিত বড় করতে থাকেন। তখন হাতিদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় এক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তিনি যেমন হাতিদের বুঝতেন, হাতিরাও বুঝত তাঁর কথা, ইশারা। পশু আর মানুষের সেই প্রাচীন বন্ধুত্ব! হাতির সঙ্গে বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে বইও লিখেছেন লরেন্স অ্যান্থনি। বানাতে চেয়েছিলেন ডকুমেন্টারিও। মৃত্যু সে সুযোগ দিল না।

ওদিকে বন্ধুর মৃত্যু টের পেয়ে শোক জানাতে হাতিরা ছুটে এসেছিল দল বেঁধে। কিন্তু তারা কীভাবে এই খবর টের পেল, সেটা এক রহস্য! আরও অদ্ভুত ব্যাপার হলো, প্রতিবছর মার্চের ৭ তারিখ লরেন্সের মৃত্যুবার্ষিকীতে হাতিগুলো এসে উপস্থিত হয় ওই বাড়িতে। এটাকেও রহস্যময় মনে হচ্ছে? তাহলে বলি শোনো, একে বলে বন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল kanon.press@gmail.com

Developed BY Trustsoftbd