বিপাকে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী! রায়পুরে ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষীপুর)ঃ

বিশ্ব ব্যাংকের ঋণের সহায়তায় নির্মাণ কাজ চলছে লক্ষীপুর রায়পুর উপজেলার ৮টি সাইক্লোন সেন্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। একেকটি ভবন, সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য নির্মাণে বরাদ্ধ হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা। ২ বছরের এ প্রকল্পটির কাজ ৪ বছরেও শেষ করা দূরে থাক কোথাও অর্ধেক আবার কোথাও কাজ শুরু করেই ফেলে রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ এগুলো পাঠদান কাজে ব্যবহার উপযোগী হবে তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।
১শ ৫৯ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার) টাকা ব্যয়ে মাল্টিপারপাস ডিজেস্টার শেল্টার প্রজেক্ট (এমডিএসপি) লক্ষীপুর জেলার ৩৪টি সাইক্লোন সেন্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ করছে নাভানা কনস্ট্রাকশন। সদর উপজেলায় ৭টি, রামগতিতে ১০টি, কমলনগরে ৬টি, রায়পুরে ৮টি এবং রামগঞ্জ উপজেলায় ৩টি সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল ভবন ও কানেক্টিং সড়ক, কালভার্ট নির্মাণ কাজ করছে তারা।
নতুন ভবনের আশায় পুরাতন ভবন ভেঙ্গে এবং জায়গা ছেড়ে দিয়ে বেকায়দায় স্কুলগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দিলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কোথায় বসে পাঠদান করবেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ভবনের সাথে সাথে অনিশ্চিত স্কুলগামী সংযোগ সড়ক ও কালভার্টগুলোর মেরামতের কাজও। নাভানা কনস্ট্রাক্টশনের এমন গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। মাল্টিপারপাস ডিজেস্টার শেল্টার প্রজেক্ট (এমডিএসপি)’ এর আওতায় এ কাজগুলো করছে তারা।
রায়পুরে যে ৮টি বিদ্যালয়ে প্রকল্পটির কাজ হচ্ছে সেগুলো হলো- উত্তর চর আবাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম চর আবাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাইয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বিকন্সফিল্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাখালিয়া আহাম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর চরপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উত্তর চর আবাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পুতুল রানী সরকার বলেন, মাত্র তৃতীয় তলার ছাদ নির্মাণ করে কাজটি ফেলে রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক গতিতে কাজ করলেও ৬ মাসের আগে এটিতে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে না। সেখানে অনিশ্চিতভাবে ফেলে রাখা হয়েছে কাজটি। অস্থায়ী টিনের ঘরটি পাঠদানের জন্য রাখা হলেও সেটির দরজা-জানালা নেই। বেঞ্চ ভাংচুর করে রাখা হয়েছে। চুরি হয়ে গেছে সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারী। শ্রেণী প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণীকক্ষ। কোনো শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই। বিদ্যালয় খুললে কি পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে তা নিয়ে আমরা মহা টেনশনে। খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করানো ছাড়া এখন পর্যন্ত ৩৮০ শিক্ষার্থীর জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
গাইয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার মজুমদার বলেন, গ্রামের একমাত্র বিদ্যালয়টিতে ছিল টিনশেডের ঝরাজীর্ণ ভবন। ছয় মাসের ভেতর তিনতলা নতুন ভবন তৈরি শেষ হবে এমন আশায় টিনশেড ভবনটি ভেঙ্গে খালি করে দেয়া হয়েছিল নতুন ভবন তৈরির জন্য। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভবন তৈরির কাজও শুরু হয়। ৬ মাস কাজ করে ১০ ফুট পর্যন্ত কয়েকটি পিলার উঠানোর পর কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চার বছরের বেশি সময় পরেও সেই ভবনের পিলার ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান নেই। টিনসেড ঘরটি পুনরায় মেরামত করে ক্লাস চালানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পশ্চিম চর আবাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় তৃতীয় তলার ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেওয়াল নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ করা হয়নি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে কাজটি এভাবেই পড়ে রয়েছে। একই অবস্থা রাখালিয়া আহাম্মদিয়া বিদ্যালয়েও। সেখানে তৃতীয় তলার ছাদ নির্মাণ করা হয়নি। করা হয়নি নিচ তলার ফ্লোর ও র‌্যাম্প। ২০১৯ ও ২০২০ সনে কাজটি বন্ধ থাকলেও ২০২১ সনে এসে কাজটি শুরু করে মার্চে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চর বিকন্স ফিল্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৭ সনের সেপ্টেম্বর মাসে কাজটি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত পিলার ছাড়া কিছুই হয়নি। রডগুলোও মরিচা ধরে খারাপ অবস্থা। দীর্ঘদিন অন্যের জায়গায় অস্থায়ী টিনের ঘর তুলে বিদ্যালয়টির অস্থায়ী শ্রেণীকক্ষ করা হলেও এখন সেখানে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জমির মালিক ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের চাপ দিচ্ছেন। আসবাবপত্রগুলো অব্যবহৃত ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নেই কোনো টয়লেটের ব্যবস্থাও। প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন এসব তথ্য। একই অবস্থা বিরাজ করছে পশ্চিম কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে দ্বিতীয় তলার ছাদ হয়েছে। ঘর সরাতে চাপ দিচ্ছেন জমির মালিক।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) কে এম মোসতাক আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণী কার্যক্রম কিভাবে চলবে তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। অস্থায়ী টিনের ঘরগুলোও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক স্থানের মালিকরা জমি থেকে অস্থায়ী ঘরগুলো সরাতে চাপ দিচ্ছেন। পুরো বিষয়টি জানিয়ে উর্ধ্বত্বন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, যে ৮টি বিদ্যালয়ে ভবনের কাজ হচ্ছে তার একটি তালিকা ছাড়া আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। প্রকল্পটিতে আমাদের শতভাগ তদারকিও নেই। তাই আমরা কাউকে বিস্তারিত জানাতে পারিনা।
নাভানা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী এএইচএম মাহবুবুর রহমান মোবাইলে বলেন, করোনা ও নিজেদের অন্যান্য সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজগুলো সমাপ্ত করা হয়নি। ২০২১ সনের এপ্রিল মাস থেকে কাজগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে আবারো কাজগুলো শুরু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ল²ীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম পাটওয়ারী বলেন, দুই বছরের কাজ নাভানা কনস্ট্রাকশন ৪ বছরেও শেষ করতে পারেনি। তাঁদের সাথে লক্ষীপুর জেলার সকল প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়কে এপ্রিল মাসে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাদেরকে যাতে সময় বর্ধিত করে পুন:টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয় সেটিও জানানো হয়েছে।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সোনাইমুড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৪জনের মৃত্যু

» ঢাকাস্থ নোয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরাম’র নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি

» হাতিয়ার ভাসানচর থেকে পালাতে গিয়ে আটক ১৮ রোহিঙ্গা

» বেগমগন্জে ১০ টাকার জন্য রিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা

» লক্ষ্মীপুরে ডেঙ্গু জ্বরে যুবক সাইফুলের মৃত্যু

» নোয়াখালী সদরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে গোলাগুলি,গুলিবিদ্ধ-১

» দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেনীর যুবককের মৃত্যু

» চাটখিলে রামনারায়নপুর স্কুলের শিক্ষকের স্মরনে সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

» বন্ধুর সাথে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, গ্রেফতার-১

» সন্তানসহ রামগতিতে নিখোঁজ সেই নারী চট্টগ্রামের বান্ধবীর বাসা থেকে উদ্ধার

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল kanon.press@gmail.com
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

বিপাকে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী! রায়পুরে ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষীপুর)ঃ

বিশ্ব ব্যাংকের ঋণের সহায়তায় নির্মাণ কাজ চলছে লক্ষীপুর রায়পুর উপজেলার ৮টি সাইক্লোন সেন্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। একেকটি ভবন, সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য নির্মাণে বরাদ্ধ হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা। ২ বছরের এ প্রকল্পটির কাজ ৪ বছরেও শেষ করা দূরে থাক কোথাও অর্ধেক আবার কোথাও কাজ শুরু করেই ফেলে রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ এগুলো পাঠদান কাজে ব্যবহার উপযোগী হবে তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।
১শ ৫৯ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার) টাকা ব্যয়ে মাল্টিপারপাস ডিজেস্টার শেল্টার প্রজেক্ট (এমডিএসপি) লক্ষীপুর জেলার ৩৪টি সাইক্লোন সেন্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ করছে নাভানা কনস্ট্রাকশন। সদর উপজেলায় ৭টি, রামগতিতে ১০টি, কমলনগরে ৬টি, রায়পুরে ৮টি এবং রামগঞ্জ উপজেলায় ৩টি সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল ভবন ও কানেক্টিং সড়ক, কালভার্ট নির্মাণ কাজ করছে তারা।
নতুন ভবনের আশায় পুরাতন ভবন ভেঙ্গে এবং জায়গা ছেড়ে দিয়ে বেকায়দায় স্কুলগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দিলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কোথায় বসে পাঠদান করবেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ভবনের সাথে সাথে অনিশ্চিত স্কুলগামী সংযোগ সড়ক ও কালভার্টগুলোর মেরামতের কাজও। নাভানা কনস্ট্রাক্টশনের এমন গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। মাল্টিপারপাস ডিজেস্টার শেল্টার প্রজেক্ট (এমডিএসপি)’ এর আওতায় এ কাজগুলো করছে তারা।
রায়পুরে যে ৮টি বিদ্যালয়ে প্রকল্পটির কাজ হচ্ছে সেগুলো হলো- উত্তর চর আবাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম চর আবাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাইয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বিকন্সফিল্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাখালিয়া আহাম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর চরপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উত্তর চর আবাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পুতুল রানী সরকার বলেন, মাত্র তৃতীয় তলার ছাদ নির্মাণ করে কাজটি ফেলে রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক গতিতে কাজ করলেও ৬ মাসের আগে এটিতে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে না। সেখানে অনিশ্চিতভাবে ফেলে রাখা হয়েছে কাজটি। অস্থায়ী টিনের ঘরটি পাঠদানের জন্য রাখা হলেও সেটির দরজা-জানালা নেই। বেঞ্চ ভাংচুর করে রাখা হয়েছে। চুরি হয়ে গেছে সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারী। শ্রেণী প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণীকক্ষ। কোনো শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই। বিদ্যালয় খুললে কি পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে তা নিয়ে আমরা মহা টেনশনে। খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করানো ছাড়া এখন পর্যন্ত ৩৮০ শিক্ষার্থীর জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
গাইয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার মজুমদার বলেন, গ্রামের একমাত্র বিদ্যালয়টিতে ছিল টিনশেডের ঝরাজীর্ণ ভবন। ছয় মাসের ভেতর তিনতলা নতুন ভবন তৈরি শেষ হবে এমন আশায় টিনশেড ভবনটি ভেঙ্গে খালি করে দেয়া হয়েছিল নতুন ভবন তৈরির জন্য। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভবন তৈরির কাজও শুরু হয়। ৬ মাস কাজ করে ১০ ফুট পর্যন্ত কয়েকটি পিলার উঠানোর পর কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চার বছরের বেশি সময় পরেও সেই ভবনের পিলার ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান নেই। টিনসেড ঘরটি পুনরায় মেরামত করে ক্লাস চালানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পশ্চিম চর আবাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় তৃতীয় তলার ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেওয়াল নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ করা হয়নি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে কাজটি এভাবেই পড়ে রয়েছে। একই অবস্থা রাখালিয়া আহাম্মদিয়া বিদ্যালয়েও। সেখানে তৃতীয় তলার ছাদ নির্মাণ করা হয়নি। করা হয়নি নিচ তলার ফ্লোর ও র‌্যাম্প। ২০১৯ ও ২০২০ সনে কাজটি বন্ধ থাকলেও ২০২১ সনে এসে কাজটি শুরু করে মার্চে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চর বিকন্স ফিল্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৭ সনের সেপ্টেম্বর মাসে কাজটি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত পিলার ছাড়া কিছুই হয়নি। রডগুলোও মরিচা ধরে খারাপ অবস্থা। দীর্ঘদিন অন্যের জায়গায় অস্থায়ী টিনের ঘর তুলে বিদ্যালয়টির অস্থায়ী শ্রেণীকক্ষ করা হলেও এখন সেখানে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জমির মালিক ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের চাপ দিচ্ছেন। আসবাবপত্রগুলো অব্যবহৃত ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নেই কোনো টয়লেটের ব্যবস্থাও। প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন এসব তথ্য। একই অবস্থা বিরাজ করছে পশ্চিম কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে দ্বিতীয় তলার ছাদ হয়েছে। ঘর সরাতে চাপ দিচ্ছেন জমির মালিক।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) কে এম মোসতাক আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণী কার্যক্রম কিভাবে চলবে তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। অস্থায়ী টিনের ঘরগুলোও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক স্থানের মালিকরা জমি থেকে অস্থায়ী ঘরগুলো সরাতে চাপ দিচ্ছেন। পুরো বিষয়টি জানিয়ে উর্ধ্বত্বন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, যে ৮টি বিদ্যালয়ে ভবনের কাজ হচ্ছে তার একটি তালিকা ছাড়া আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। প্রকল্পটিতে আমাদের শতভাগ তদারকিও নেই। তাই আমরা কাউকে বিস্তারিত জানাতে পারিনা।
নাভানা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী এএইচএম মাহবুবুর রহমান মোবাইলে বলেন, করোনা ও নিজেদের অন্যান্য সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজগুলো সমাপ্ত করা হয়নি। ২০২১ সনের এপ্রিল মাস থেকে কাজগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে আবারো কাজগুলো শুরু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ল²ীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম পাটওয়ারী বলেন, দুই বছরের কাজ নাভানা কনস্ট্রাকশন ৪ বছরেও শেষ করতে পারেনি। তাঁদের সাথে লক্ষীপুর জেলার সকল প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়কে এপ্রিল মাসে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাদেরকে যাতে সময় বর্ধিত করে পুন:টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয় সেটিও জানানো হয়েছে।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল kanon.press@gmail.com

Developed BY Trustsoftbd