জীবন পরিবর্তনে প্রকৃত ভালো বন্ধু প্রয়োজন

শরীফ উদ্দিনঃ

“বন্ধু”তিন অক্ষরের ছোট এই শব্দের মাঝে যেন মিশে আছে সহজ সরল অনু। আর এই মায়ার বাঁধন তৈরি হয়েছে স্কুল জীবন থেকে। সেই সময় বন্ধুদের নিয়ে হাঁসি, ঠাট্টা, গল্প, আড্ডা, খেলাধুলা আর গানে গানে কাটেছে সময়। তখন আনন্দময় দিনগুলো নানা আয়োজনে মেতেছি সবাই। এসব সোনা, হিরা, রুপার বন্ধুর মধ্যে দিয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদেরকে নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে আমাদের। তবে হ্যাঁ এটা সত্যি, বন্ধুত্ব চলমান একটি প্রক্রিয়া। তাই শিশুকাল থেকে বৃদ্ধাকাল পর্যন্ত জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহুর্তে বন্ধু তৈরী হতে পারে। মনে রেখ হিরা পেয়ে সোনাকে ভুলে যেও না। কারন বাস্তব জীবনে হিরা ধারন করতে সোনাই লাগবে। আর সেই সোনা বন্ধু হলো স্কুল জীবনের বন্ধু।

এদিকে,বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমাদের ফেসবুকে-মেসেঞ্জারে নানা ধরনের বন্ধু তৈরি হয়ে থাকে। এদের স্থায়িত্ব হয় একদিন, দুদিন বা কয়েক মাস। এসব বন্ধু বিশ্বাস বা আস্থার জায়গায় থাকে হাতে গনা দু’একটি।

প্রায় ১যুগ আগে নিজ পরিবারসহ বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে বিদেশে আসতে হয়েছে আমাকে। প্রবাসে আসার পর নতুন করে আরেকটি বন্ধু মহল তৈরি হয়েছে।

জীবনে যতো বন্ধু আসবে স্কুল জীবনের বন্ধুরা হলো বেষ্ট। চিন্তা চেতনা হৃদয় জুড়ে আছে স্কুল জীবনের বন্ধুরা। বর্তমানে বন্ধুদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব দেখতে পাচ্ছি।

তাই একে একে বন্ধু সবাইকে ফোন করতে লাগলাম। ডাক্তার এম এ হাতেম, ডাঃ ফজলুল হক বারেক অপু, ডাঃ গোলাম মোস্তফা সোহেল, এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শাহীন, বি.এস.সি আবু সায়েদ সায়েম, শামছুদ্দিন, কাজী আবু সায়েম সবুজ, মোঃ সাইফুল্লাহ, শহীদ উল্লাহ সুমন, শহীদুল ইসলাম আকাশ, আনোয়ার হোসেন বাবলু , মোঃ জহির উদ্দিন, এ আর এম. ইয়াকুব হোসেন রাসেদ, মো.আব্দুল মতিন সুমন, ওয়াহিদ উল্লাহ, রহমত উল্লাহ, আজিজুর রহমান টিপু, আজিজুল হক কিরণ, আলা উদ্দিন মাসুদ, আলা উদ্দিন আলো, মোঃ গিয়াস উদ্দিন, শেখ সোহেল, মোঃ জহির উদ্দিন, আবু সালেহ ফরহাদ, কামরান হোসেন, সাহিদুল ইসলাম পলাশ, কাজী কামাল উদ্দিন, শেখ আব্দুল্লাহ সুমন, শেখ কামাল উদ্দিন, মোশারফ হোসেন সোহাগ, সিদ্দিক উল্লাহ মিলন, নুরুল হক মাসুদ, শিক্ষক আবুজর গিফারী নায়েব, শিক্ষকা খালেদা আক্তারসহ ক্লাসমেট প্রায় সব বন্ধুরা কেন আমার সাথে এমন আপনি আপনি করে কথা বলছে! স্কুল জীবনের ছোট বেলার বন্ধুরা আমাকে আপনি বলে সম্বোধন করছে শুনে নিজেকে বেশ ছোট মনে হচ্ছিল।

অর্থ, স্বার্থ, শিক্ষা নাকি অন্য কোন কারণে?
তাই পরাণ বন্ধুদের বলি ঘনিষ্ট বন্ধুরা পরস্পরকে তুই বলে ডাকে। যে কোন মর্যাদার দিক থেকে “বন্ধু” যত বড় হোক না কেন, বন্ধুত্বের মাঝে তুই সম্পর্ক না থাকলে কেমন যেন দূরত্ব দূরত্ব (লবন ছাড়া তরকারি) মনে হয়। তুই বললে একে অন্যকে কাছের আরো বেশি আপন মনে হয়। এ জন্যই প্রকৃত বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিজের জীবন থেকে মূল্যবান হয়ে উঠে।

কথা হয় রঙ্গ রসের বন্ধু এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শাহিনের সাথে। সে থাকে নোয়াখালী মাইজদি শহরে। বর্তমানে তাকে খুব চঞ্চল মনে হচ্ছে। তার সাথে কথোপকথনে স্কুল জীবনে বন্ধুত্ব, আবেগ, খুনসুটি, মান অভিমানের কথা উঠে আসে। সকল সম্পর্কের আগে সম্মান না থাকলে কোন সম্পর্কই স্থায়ী বা টেকসই হয়না। সম্মানের জায়গায় থেকে পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে আপনি বা তুই বলা দোষের কিছু নয়। এডভোকেট সাহেব কি মনে করেন?
তখন সে বলে তাইতো আমি আপনিতে আপন খুঁজে পাই।

অবশেষে বন্ধুরা স্বীকার করতে বাধ্য হলো আমি কেন তাদেরকে না জানিয়ে প্রবাসে গেলাম এবং দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করলাম না কেন? তাই সব বন্ধুরা রাগ করেছে। মান অভিমানের কথাগুলো সবার কাছ থেকে উঠে এসেছে। (বন্ধুত্বের মান-অভিমান), (বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট থাকুক আজীবন) বন্ধুদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে পেইজবুক গ্রুপ করা হয়েছে। এখন আবার যেন বন্ধুত্বের বন্ধন সজীবতায় ফিরে এল। সম্পর্কের গুরুত্বে সাময়িক দুরুত্ব হলেও সবাই যেন হারানো কৈশোর ফিরে ফেল। চোখের আড়াল হলেও মনের আড়াল হয়না আসল প্রকৃত বন্ধুরা এটাই প্রমাণিত।

দীর্ঘদিন পর ছোট বেলার শৈশব-কৈশোরে ফিরে গেলাম। কিযে আনন্দো লাগছে কাউকে বলে বুঝাতে পারবো না।
সেই সময় সকল বন্ধুদের হাসি মুখখানা ভেসে আসলো। হঠাৎ ডোজন ডোজন এসএমএস আমার ফোনে। কনে পক্ষ থেকে এসেছে বরের কাছে। আর সেই বর হলো নায়েব। সন্তানের পিতা হয়েও নিজকে অবিবাহিত তরুন মনে করে। সে আমার স্কুল জীবনের চতুরদর্শি বন্ধু। দীর্ঘ সময় কেটেছে ফোনে গল্প আর স্কুল জীবনের স্মৃতির স্মরণিকার মধ্য দিয়ে। তখন বুঝলাম বন্ধুত্বের জীবন কতইনা মধুর। ফিরে গেলাম জীবনের সেই ফেলে আসা মুহূর্তে। সত্যি বন্ধুত্ব সম্পর্ক কখনোই বদলায় না, বদলায় সময়।

বন্ধুত্বের মূল্যায়ন সত্যি কি সবাই বুঝে? নিজকে প্রশ্ন করলে উত্তর অবিশ্যয়ই বেরিয়ে আসবে। যা কিছু বুঝি তবে ইশ…সেইটা আমরা হারিয়ে পেলার পর বুঝতে পারি। ইতি মধ্যে আমাদের মমতাজ বেগম আর আনোয়ার হোসেন পারভেজ নামে ২বন্ধুকে চিরদিনের জন্যে হারিয়েছি। জীবনে তাদের সাথে আর দেখা হবেনা। এজীবন থেকে হারিয়ে গেলেও হৃদয় থেকে নয়। তাদের নিয়ে অনেক স্মৃতি রয়েছে আমাদের। যা কখনো ভুলার নয়।

ছোট বেলায় আমাদের বন্ধুত্ব ছিল স্বার্থ এবং শর্ত ছাড়া। ঠিক তেমনি বন্ধুরা যত শিক্ষিত এবং অর্থে ধনী হোক না কেন, বন্ধু -বন্ধুই থেকে যায়। খেয়াল রাখতে হবে বড় স্বার্থপর যেন না হই কোন বন্ধু।

আমার সঙ্গে যাদের শিক্ষাজ্ঞনে সম্পর্ক ছিল তারা আমার সেই সময়ের বন্ধু। দক্ষিণ আফ্রিকা (প্রবাসে) আসার পর কয়েক বছর তেমন কারো সঙ্গে প্রথম দিকে ভালো যোগাযোগ ছিলো না। ফেসবুকের মাধ্যমে বা সোশ্যাল কাজ করতে গিয়ে একে একে প্রায় সবার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। অহংকারী ইস্পাত কঠিন মনের দু’একজন বন্ধু ছাড়া সবার সাথে যোগাযোগ আজও আব্যহত রয়েছে। বন্ধুত্বহীন জীবন সত্যি মূল্যহীন। তাই আর ঘৃণা নয়, সুমিষ্ট হাসি দিয়ে বলি বন্ধু হও হাতটা বাড়াও। হৃদয়কে কোমল করে নাও সুভাস দিয়ে।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» চাটখিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার চেষ্টাকারী সেই সামু অবশেষে গ্রেফতার

» রামগঞ্জে নিখোঁজের ১০ঘন্টা পর যেভাবে শিশুর লাশ উদ্ধার করলো পুলিশ

» চাটখিলে কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ মেম্বার প্রার্থীর

» রামগঞ্জে শীতবস্ত্র পেয়ে খুশী সুবিধা বঞ্চিতরা

» চাটখিলে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে রুপনগরবাসীর সংবর্ধনা

» এইচ এম ইব্রাহিম এমপির প্রচেষ্টায় ভারতের লাইফ সাপোর্ট এম্বুল্যান্স প্রদান

» হাতিয়ায় অস্ত্রসহ বিক্রেতা আটক

» চাটখিলে পূর্ব সুন্দরপুর ইশা’আতুস সুন্নাহ নুরাণী মাদরাসার বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ

» চাটখিলে দক্ষিন ঘাটলাবাগ মোহাম্মদিয়া মাদরাসায় বই ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরন

» সোনাইমুড়ীতে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল kanon.press@gmail.com
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

জীবন পরিবর্তনে প্রকৃত ভালো বন্ধু প্রয়োজন

শরীফ উদ্দিনঃ

“বন্ধু”তিন অক্ষরের ছোট এই শব্দের মাঝে যেন মিশে আছে সহজ সরল অনু। আর এই মায়ার বাঁধন তৈরি হয়েছে স্কুল জীবন থেকে। সেই সময় বন্ধুদের নিয়ে হাঁসি, ঠাট্টা, গল্প, আড্ডা, খেলাধুলা আর গানে গানে কাটেছে সময়। তখন আনন্দময় দিনগুলো নানা আয়োজনে মেতেছি সবাই। এসব সোনা, হিরা, রুপার বন্ধুর মধ্যে দিয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদেরকে নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে আমাদের। তবে হ্যাঁ এটা সত্যি, বন্ধুত্ব চলমান একটি প্রক্রিয়া। তাই শিশুকাল থেকে বৃদ্ধাকাল পর্যন্ত জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহুর্তে বন্ধু তৈরী হতে পারে। মনে রেখ হিরা পেয়ে সোনাকে ভুলে যেও না। কারন বাস্তব জীবনে হিরা ধারন করতে সোনাই লাগবে। আর সেই সোনা বন্ধু হলো স্কুল জীবনের বন্ধু।

এদিকে,বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমাদের ফেসবুকে-মেসেঞ্জারে নানা ধরনের বন্ধু তৈরি হয়ে থাকে। এদের স্থায়িত্ব হয় একদিন, দুদিন বা কয়েক মাস। এসব বন্ধু বিশ্বাস বা আস্থার জায়গায় থাকে হাতে গনা দু’একটি।

প্রায় ১যুগ আগে নিজ পরিবারসহ বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে বিদেশে আসতে হয়েছে আমাকে। প্রবাসে আসার পর নতুন করে আরেকটি বন্ধু মহল তৈরি হয়েছে।

জীবনে যতো বন্ধু আসবে স্কুল জীবনের বন্ধুরা হলো বেষ্ট। চিন্তা চেতনা হৃদয় জুড়ে আছে স্কুল জীবনের বন্ধুরা। বর্তমানে বন্ধুদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব দেখতে পাচ্ছি।

তাই একে একে বন্ধু সবাইকে ফোন করতে লাগলাম। ডাক্তার এম এ হাতেম, ডাঃ ফজলুল হক বারেক অপু, ডাঃ গোলাম মোস্তফা সোহেল, এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শাহীন, বি.এস.সি আবু সায়েদ সায়েম, শামছুদ্দিন, কাজী আবু সায়েম সবুজ, মোঃ সাইফুল্লাহ, শহীদ উল্লাহ সুমন, শহীদুল ইসলাম আকাশ, আনোয়ার হোসেন বাবলু , মোঃ জহির উদ্দিন, এ আর এম. ইয়াকুব হোসেন রাসেদ, মো.আব্দুল মতিন সুমন, ওয়াহিদ উল্লাহ, রহমত উল্লাহ, আজিজুর রহমান টিপু, আজিজুল হক কিরণ, আলা উদ্দিন মাসুদ, আলা উদ্দিন আলো, মোঃ গিয়াস উদ্দিন, শেখ সোহেল, মোঃ জহির উদ্দিন, আবু সালেহ ফরহাদ, কামরান হোসেন, সাহিদুল ইসলাম পলাশ, কাজী কামাল উদ্দিন, শেখ আব্দুল্লাহ সুমন, শেখ কামাল উদ্দিন, মোশারফ হোসেন সোহাগ, সিদ্দিক উল্লাহ মিলন, নুরুল হক মাসুদ, শিক্ষক আবুজর গিফারী নায়েব, শিক্ষকা খালেদা আক্তারসহ ক্লাসমেট প্রায় সব বন্ধুরা কেন আমার সাথে এমন আপনি আপনি করে কথা বলছে! স্কুল জীবনের ছোট বেলার বন্ধুরা আমাকে আপনি বলে সম্বোধন করছে শুনে নিজেকে বেশ ছোট মনে হচ্ছিল।

অর্থ, স্বার্থ, শিক্ষা নাকি অন্য কোন কারণে?
তাই পরাণ বন্ধুদের বলি ঘনিষ্ট বন্ধুরা পরস্পরকে তুই বলে ডাকে। যে কোন মর্যাদার দিক থেকে “বন্ধু” যত বড় হোক না কেন, বন্ধুত্বের মাঝে তুই সম্পর্ক না থাকলে কেমন যেন দূরত্ব দূরত্ব (লবন ছাড়া তরকারি) মনে হয়। তুই বললে একে অন্যকে কাছের আরো বেশি আপন মনে হয়। এ জন্যই প্রকৃত বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিজের জীবন থেকে মূল্যবান হয়ে উঠে।

কথা হয় রঙ্গ রসের বন্ধু এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শাহিনের সাথে। সে থাকে নোয়াখালী মাইজদি শহরে। বর্তমানে তাকে খুব চঞ্চল মনে হচ্ছে। তার সাথে কথোপকথনে স্কুল জীবনে বন্ধুত্ব, আবেগ, খুনসুটি, মান অভিমানের কথা উঠে আসে। সকল সম্পর্কের আগে সম্মান না থাকলে কোন সম্পর্কই স্থায়ী বা টেকসই হয়না। সম্মানের জায়গায় থেকে পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে আপনি বা তুই বলা দোষের কিছু নয়। এডভোকেট সাহেব কি মনে করেন?
তখন সে বলে তাইতো আমি আপনিতে আপন খুঁজে পাই।

অবশেষে বন্ধুরা স্বীকার করতে বাধ্য হলো আমি কেন তাদেরকে না জানিয়ে প্রবাসে গেলাম এবং দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করলাম না কেন? তাই সব বন্ধুরা রাগ করেছে। মান অভিমানের কথাগুলো সবার কাছ থেকে উঠে এসেছে। (বন্ধুত্বের মান-অভিমান), (বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট থাকুক আজীবন) বন্ধুদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে পেইজবুক গ্রুপ করা হয়েছে। এখন আবার যেন বন্ধুত্বের বন্ধন সজীবতায় ফিরে এল। সম্পর্কের গুরুত্বে সাময়িক দুরুত্ব হলেও সবাই যেন হারানো কৈশোর ফিরে ফেল। চোখের আড়াল হলেও মনের আড়াল হয়না আসল প্রকৃত বন্ধুরা এটাই প্রমাণিত।

দীর্ঘদিন পর ছোট বেলার শৈশব-কৈশোরে ফিরে গেলাম। কিযে আনন্দো লাগছে কাউকে বলে বুঝাতে পারবো না।
সেই সময় সকল বন্ধুদের হাসি মুখখানা ভেসে আসলো। হঠাৎ ডোজন ডোজন এসএমএস আমার ফোনে। কনে পক্ষ থেকে এসেছে বরের কাছে। আর সেই বর হলো নায়েব। সন্তানের পিতা হয়েও নিজকে অবিবাহিত তরুন মনে করে। সে আমার স্কুল জীবনের চতুরদর্শি বন্ধু। দীর্ঘ সময় কেটেছে ফোনে গল্প আর স্কুল জীবনের স্মৃতির স্মরণিকার মধ্য দিয়ে। তখন বুঝলাম বন্ধুত্বের জীবন কতইনা মধুর। ফিরে গেলাম জীবনের সেই ফেলে আসা মুহূর্তে। সত্যি বন্ধুত্ব সম্পর্ক কখনোই বদলায় না, বদলায় সময়।

বন্ধুত্বের মূল্যায়ন সত্যি কি সবাই বুঝে? নিজকে প্রশ্ন করলে উত্তর অবিশ্যয়ই বেরিয়ে আসবে। যা কিছু বুঝি তবে ইশ…সেইটা আমরা হারিয়ে পেলার পর বুঝতে পারি। ইতি মধ্যে আমাদের মমতাজ বেগম আর আনোয়ার হোসেন পারভেজ নামে ২বন্ধুকে চিরদিনের জন্যে হারিয়েছি। জীবনে তাদের সাথে আর দেখা হবেনা। এজীবন থেকে হারিয়ে গেলেও হৃদয় থেকে নয়। তাদের নিয়ে অনেক স্মৃতি রয়েছে আমাদের। যা কখনো ভুলার নয়।

ছোট বেলায় আমাদের বন্ধুত্ব ছিল স্বার্থ এবং শর্ত ছাড়া। ঠিক তেমনি বন্ধুরা যত শিক্ষিত এবং অর্থে ধনী হোক না কেন, বন্ধু -বন্ধুই থেকে যায়। খেয়াল রাখতে হবে বড় স্বার্থপর যেন না হই কোন বন্ধু।

আমার সঙ্গে যাদের শিক্ষাজ্ঞনে সম্পর্ক ছিল তারা আমার সেই সময়ের বন্ধু। দক্ষিণ আফ্রিকা (প্রবাসে) আসার পর কয়েক বছর তেমন কারো সঙ্গে প্রথম দিকে ভালো যোগাযোগ ছিলো না। ফেসবুকের মাধ্যমে বা সোশ্যাল কাজ করতে গিয়ে একে একে প্রায় সবার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। অহংকারী ইস্পাত কঠিন মনের দু’একজন বন্ধু ছাড়া সবার সাথে যোগাযোগ আজও আব্যহত রয়েছে। বন্ধুত্বহীন জীবন সত্যি মূল্যহীন। তাই আর ঘৃণা নয়, সুমিষ্ট হাসি দিয়ে বলি বন্ধু হও হাতটা বাড়াও। হৃদয়কে কোমল করে নাও সুভাস দিয়ে।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল kanon.press@gmail.com

Developed BY Trustsoftbd