ADS170638-2

এ লজ্জা রাখি কোথায়- মোঃ আবুল খায়ের (এম এসসি)

এ লজ্জা রাখি কোথায়? এ লজ্জার দায় কার? দায় আমাদের, দায় রাষ্ট্রের, দায় গোটা বাঙ্গালী জাতির। জিয়া অর্ফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সম্প্রতি রায় হয়। দেশের তিন বারের সাবেক প্রধান মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত সাবেক সেনা প্রধানেরও সাবেক রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনি বেগম খালেদা জিয়া। ৫ বছরের স্বশ্রম কারা বাস হল। যিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে গনতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্টার জন্য সংগ্রাম করছেন। এহেন পরিস্থিতিতে ধারনা করা হচ্ছে গনতন্ত্র আজ খাঁচায় বন্দি। বাংলাদেশের গনতন্ত্র ও গনন্ত্রতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো জাতি আজ উদ্বিগ্ন, দূনীতির শিখর উপড়ে আইনের প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার নাকি প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। কিন্তু পর্দার আড়ালে মনে হচ্ছে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে বিরুধী রাজনৈতিকদের অথবা জেলের কারা প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ রেখে আসন্ন নির্বাচনে খালি মাঠে গোল করার বা খেলায় ওয়াক ওভার নেয়ার। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে তাই আজ কালো মেঘের ঘনঘটা। উত্তোরনের আশায় সূদুর পরাহত ক্রমান্বয়ে ঘনীভুত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। জনগনের ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার ঘঠন করতে যা যা দরকার সরকার দল ঠিক তার উল্টো পথে হাটছে। দেশ দশ ও জাতীর মঙ্গলের কথা চিন্তা করে বড় রাজনৈতিক দল গুলোর সমঝোতা আজ ভীষন প্রয়োজন। দেশে আজ দুইটি রাজনৈতিক ধারা লক্ষনীয়। সরকার দলের ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর অন্যটি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। প্রকৃত পক্ষে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে মাটি চাপা দিয়ে সুন্দর লাল সবুজ বাংলাদেশের মাটি আলো বাতাসকে বিষাক্ত রাজনৈতিক ছোবলে রক্তে রঞ্জিত করতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনাই। প্রিয় মাতৃভূমিকে ভবিষ্যত প্রজন্মদের জন্য সুন্দর বাসযোগ্য করতে মুক্তিযুদ্ধের এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আসল উদ্দেশ্য ও প্রাণের দাবী ছিল। কিন্তু দেশে বর্তমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এখনো ঘুমিয়ে আছে।স্বেরাচারী কায়দায় ক্ষমতা আটকে রাখার নীল নকসা নস্যাত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জোর লড়াই এর জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির ব্যানারে জনগনকে মাঠে নামানোর প্রানান্তরের চেষ্টা চালাতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের দমন নীপিড়ন নির্যাতনে আজ বিরোধী শক্তি প্রায়ই কোনঠাসা। দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী আজ কারা বন্ধী। সারা দেশের সব কারাগারই আজ কানায় কানায় বিরোধী নেতা ঢুকিয়ে পরিপূর্ণ। সরকারের প্রয়োজন জেলখানার পরিসর বৃদ্ধি অথবা নতুন আরো জেলখানা বা কারাগার তৈরী। মনে হচ্ছে গোটা দেশই আজ জ্বলজ্যান্ত কারাগার। মুখে সরকারের প্রভাবশালী নেতৃত্বশীলদের নির্বাচনী নাটক মঞ্চায়ন কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে গণতন্ত্রের কবর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা অধিষ্ঠিত থাকার ফন্দি সাধারন জনগনের আজ অজানা থাকার কথা নয়। জিয়া অর্ফানেজ ট্রাষ্ট মামলা যেতে না যেতেই গ্যাটকো,বড় পুকুরিয়া দুর্নীতির ন্যায় আরো বহু মামলায় খালেদাকে ৭০ বছর বয়সে প্রায় বিপর্যস্ত করে ফেলবে। সাধারণদের মনে প্রশ্ন জাগে, স্বশ্রম কারাবাসে খালেদাজিয়া নাকি ফুল বাগানে পানি দিচ্ছে। নাকি নির্জন পুরোনো কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রতিকূল পরিবেশে বিব্রতকর বোধ করছে কে জানে? সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ ও মন্ত্রীদের বক্তব্য এবং কারাগারের আগাম সাজ সজ্জা দেখলে সহজেই অনুমান হয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সকারের সদিচ্ছার বড়ই অভাব। মনের অজান্তে চোখে ভেসে ভেসে আসে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর সিনহা বাবুর করুণ পরিনতির ঝড় ঝামেলা। প্রবীন আইনজীবি ব্যারিষ্টার রফিকুল হকের অভিমত সরকার উচ্চ আদালতের রায় মানে না, বিরোধীরা নি¤œ আদালতের রায় মানবে কিভাবে? সে যাই হোক দূনীতির বিচারে শুধু একতরফা ভাবে বিরোধী দলের হবে অথবা দুদক সক্রিয় শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিরবিদদের জন্য। তা না হলে হলমার্ক বেসিক ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ফার্মাস ব্যাংক, এনবিআরবিসি ইত্যাদি দূনীতির খবর যখন সব পত্রিকার শিরোনাম হয় তখন বড়ই দুঃখ লাগে, দূনীতিবাজদের বিচার সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে হবে কিন্তু সরকার দলীয়দের নয়। উল্লেখ্য মহা জোটের শরীক দল এরশাদ সাহেবের ৪২টি মামলা মস্তকে ঢুকিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টায় আছে সরকার। এরশাদ সাহেবকে কাত করলে কাত, চিত করলে চিত হয়ে শুইয়ে রাখা হচ্ছে বর্তমানে। খালেদাজিয়ার বেলায়ও একই রকম সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরশাদের বিরুদ্ধে মঞ্জু হত্যার মামলায় ঝুলিয়ে তাকে এদিক ওদিক করার সুযোগ দেওয়া হচেছ না। মনের অজান্তে ভেসে আসছে সেনা সমর্থিত সরকারের দেয়া ১৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি ও দূনীতি মামলা কোথায় গেল? উল্লেখ্য ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সরকারের নির্বাহী আদেশে মামলা গুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। অথচ ঐ সময়ে দায়ের করা খালেদাজিয়ার মামলাগুলো একের পর এক বিচারের আওতায় আনছে সরকার। বকশি বাজারের বিশেষ আদালত তড়িঘড়ি করে রায়ের আয়োজন ছলছে। দুদক ও বিচার বিভাগের প্রতি জনগনের আস্থা উঠেগেলে দেশ ভয়াবহ সংকটের মুখে পতিত হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবীদগন অবশ্যই সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে, সবাইকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ আচরন করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ ভাবে দূনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতিবিদরা বা বিচারকেরা যেন দুচোখে সমান ভাবে দেখে এবং দু কানে সমান ভাবে শুনে সামনের পথ চলে। যদি রাষ্ট্রীয় অর্থ সংরক্ষনের বিশ্বস্ততার পরিচয় দেখাতে অবিশ্বাস্য আচরনের জন্য খালেদাজিয়ার ৫ বছরের সাজা হয় তাহলে বড় মাপের হাজার কোটি টাকার দূনীতিবাজদের কয় বছর জেল হবে? সবাইকে স্মরন রাখতে হবে এক মাঘে শীত যায়না। ক্ষমতায় কেউ চিরস্থায়ী থাকে না। পৃথিবীতে অবিন্বশ্বর বা চিরস্থায়ী কেউ নন। ফেরাউন, হিটলার, আইয়ুব ইয়াহিয়া, সাদ্দাম, গাদ্দাফীর মত প্রভাবশালী ক্ষমতাধরদেরও পতন হয়েছে। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাই সংযত ও দায়িত্বশীল আচরন প্রত্যাশা সব রাজনীতিবিদদের কাছে। সম্প্রতি দেয়া একটি রায়কে ঘিরে সারাদেশে আইয়ুব খানের শাসনামলের মত সরকারের যুদ্ধদেহী মনোভাব। সারাদেশে কার্ফিউর মত অবস্থায় বিষ্মীত পুরো জাতি। সরকারের নিরাপত্তার চাদরের নামে আইন শ্রীংঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়োজিত রেখেছে। মনে হচেছ এ বুঝি আরেকবার ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রি বা দিন ঘনিয়ে এসেছে। তাই এখনই সময় সর্বপ্রকার নাশকতা, গুম, হত্যা রাজনীতি ধ্বংশপ্রাপ্ত হোক। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির উদগীরন ঘটুক। সব দলই সংযত আচরন করুক। সরকার গদি যত শক্ত করেই আটকে ধরুক বা রাখুক ঐক্যবদ্ধ জনতার বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারে একদিন উশৃঙ্খল রাজনীতি ভেস্তে যাবে ই যাবে। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবেই আসবে।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» লক্ষ্মীপুরের রেণুর দাফন হবে নিজগ্রামে, হত্যাকারীদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবি গ্রামবাসী স্বজনরা

» চাটখিলে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরেরর ঘটনায় থানায় অভিযোগ

» সোনাইমুড়ীতে ছাত্রীদের যৌন হয়রানী করায় প্রধান শিক্ষককে পুলিশে দিল অভিভাবকরা

» ফেনীতে চাঁদা না পেয়ে টিন খুলে বিক্রির অভিযোগ

» সুবর্ণচরে সাংবাদিক সুমনের ওপর হামলাকারী চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

» দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে সোনাইমুড়ীর ব্যবসায়ী আহত

» নোয়াখালীতে মানষিক ভারসাম্যহীন মায়ের পিটুনিতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

» আমেরিকান বউ পেয়ে আনন্দে ভাসছে লক্ষ্মীপুরের সোহেলের পরিবার

» এইচএসসিতে ৪৪ জিপিএ ফাইভ নিয়ে চাটখিল মহিলা কলেজের অনন্য রেকর্ড

» এবার প্রেমের টানে লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়ায় আমিরিকান নারী

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

এ লজ্জা রাখি কোথায়- মোঃ আবুল খায়ের (এম এসসি)

এ লজ্জা রাখি কোথায়? এ লজ্জার দায় কার? দায় আমাদের, দায় রাষ্ট্রের, দায় গোটা বাঙ্গালী জাতির। জিয়া অর্ফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সম্প্রতি রায় হয়। দেশের তিন বারের সাবেক প্রধান মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত সাবেক সেনা প্রধানেরও সাবেক রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনি বেগম খালেদা জিয়া। ৫ বছরের স্বশ্রম কারা বাস হল। যিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে গনতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্টার জন্য সংগ্রাম করছেন। এহেন পরিস্থিতিতে ধারনা করা হচ্ছে গনতন্ত্র আজ খাঁচায় বন্দি। বাংলাদেশের গনতন্ত্র ও গনন্ত্রতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো জাতি আজ উদ্বিগ্ন, দূনীতির শিখর উপড়ে আইনের প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার নাকি প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। কিন্তু পর্দার আড়ালে মনে হচ্ছে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে বিরুধী রাজনৈতিকদের অথবা জেলের কারা প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ রেখে আসন্ন নির্বাচনে খালি মাঠে গোল করার বা খেলায় ওয়াক ওভার নেয়ার। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে তাই আজ কালো মেঘের ঘনঘটা। উত্তোরনের আশায় সূদুর পরাহত ক্রমান্বয়ে ঘনীভুত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। জনগনের ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার ঘঠন করতে যা যা দরকার সরকার দল ঠিক তার উল্টো পথে হাটছে। দেশ দশ ও জাতীর মঙ্গলের কথা চিন্তা করে বড় রাজনৈতিক দল গুলোর সমঝোতা আজ ভীষন প্রয়োজন। দেশে আজ দুইটি রাজনৈতিক ধারা লক্ষনীয়। সরকার দলের ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর অন্যটি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। প্রকৃত পক্ষে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে মাটি চাপা দিয়ে সুন্দর লাল সবুজ বাংলাদেশের মাটি আলো বাতাসকে বিষাক্ত রাজনৈতিক ছোবলে রক্তে রঞ্জিত করতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনাই। প্রিয় মাতৃভূমিকে ভবিষ্যত প্রজন্মদের জন্য সুন্দর বাসযোগ্য করতে মুক্তিযুদ্ধের এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আসল উদ্দেশ্য ও প্রাণের দাবী ছিল। কিন্তু দেশে বর্তমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এখনো ঘুমিয়ে আছে।স্বেরাচারী কায়দায় ক্ষমতা আটকে রাখার নীল নকসা নস্যাত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জোর লড়াই এর জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির ব্যানারে জনগনকে মাঠে নামানোর প্রানান্তরের চেষ্টা চালাতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের দমন নীপিড়ন নির্যাতনে আজ বিরোধী শক্তি প্রায়ই কোনঠাসা। দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী আজ কারা বন্ধী। সারা দেশের সব কারাগারই আজ কানায় কানায় বিরোধী নেতা ঢুকিয়ে পরিপূর্ণ। সরকারের প্রয়োজন জেলখানার পরিসর বৃদ্ধি অথবা নতুন আরো জেলখানা বা কারাগার তৈরী। মনে হচ্ছে গোটা দেশই আজ জ্বলজ্যান্ত কারাগার। মুখে সরকারের প্রভাবশালী নেতৃত্বশীলদের নির্বাচনী নাটক মঞ্চায়ন কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে গণতন্ত্রের কবর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা অধিষ্ঠিত থাকার ফন্দি সাধারন জনগনের আজ অজানা থাকার কথা নয়। জিয়া অর্ফানেজ ট্রাষ্ট মামলা যেতে না যেতেই গ্যাটকো,বড় পুকুরিয়া দুর্নীতির ন্যায় আরো বহু মামলায় খালেদাকে ৭০ বছর বয়সে প্রায় বিপর্যস্ত করে ফেলবে। সাধারণদের মনে প্রশ্ন জাগে, স্বশ্রম কারাবাসে খালেদাজিয়া নাকি ফুল বাগানে পানি দিচ্ছে। নাকি নির্জন পুরোনো কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রতিকূল পরিবেশে বিব্রতকর বোধ করছে কে জানে? সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ ও মন্ত্রীদের বক্তব্য এবং কারাগারের আগাম সাজ সজ্জা দেখলে সহজেই অনুমান হয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সকারের সদিচ্ছার বড়ই অভাব। মনের অজান্তে চোখে ভেসে ভেসে আসে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর সিনহা বাবুর করুণ পরিনতির ঝড় ঝামেলা। প্রবীন আইনজীবি ব্যারিষ্টার রফিকুল হকের অভিমত সরকার উচ্চ আদালতের রায় মানে না, বিরোধীরা নি¤œ আদালতের রায় মানবে কিভাবে? সে যাই হোক দূনীতির বিচারে শুধু একতরফা ভাবে বিরোধী দলের হবে অথবা দুদক সক্রিয় শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিরবিদদের জন্য। তা না হলে হলমার্ক বেসিক ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ফার্মাস ব্যাংক, এনবিআরবিসি ইত্যাদি দূনীতির খবর যখন সব পত্রিকার শিরোনাম হয় তখন বড়ই দুঃখ লাগে, দূনীতিবাজদের বিচার সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে হবে কিন্তু সরকার দলীয়দের নয়। উল্লেখ্য মহা জোটের শরীক দল এরশাদ সাহেবের ৪২টি মামলা মস্তকে ঢুকিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টায় আছে সরকার। এরশাদ সাহেবকে কাত করলে কাত, চিত করলে চিত হয়ে শুইয়ে রাখা হচ্ছে বর্তমানে। খালেদাজিয়ার বেলায়ও একই রকম সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরশাদের বিরুদ্ধে মঞ্জু হত্যার মামলায় ঝুলিয়ে তাকে এদিক ওদিক করার সুযোগ দেওয়া হচেছ না। মনের অজান্তে ভেসে আসছে সেনা সমর্থিত সরকারের দেয়া ১৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি ও দূনীতি মামলা কোথায় গেল? উল্লেখ্য ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সরকারের নির্বাহী আদেশে মামলা গুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। অথচ ঐ সময়ে দায়ের করা খালেদাজিয়ার মামলাগুলো একের পর এক বিচারের আওতায় আনছে সরকার। বকশি বাজারের বিশেষ আদালত তড়িঘড়ি করে রায়ের আয়োজন ছলছে। দুদক ও বিচার বিভাগের প্রতি জনগনের আস্থা উঠেগেলে দেশ ভয়াবহ সংকটের মুখে পতিত হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবীদগন অবশ্যই সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে, সবাইকে দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ আচরন করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ ভাবে দূনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতিবিদরা বা বিচারকেরা যেন দুচোখে সমান ভাবে দেখে এবং দু কানে সমান ভাবে শুনে সামনের পথ চলে। যদি রাষ্ট্রীয় অর্থ সংরক্ষনের বিশ্বস্ততার পরিচয় দেখাতে অবিশ্বাস্য আচরনের জন্য খালেদাজিয়ার ৫ বছরের সাজা হয় তাহলে বড় মাপের হাজার কোটি টাকার দূনীতিবাজদের কয় বছর জেল হবে? সবাইকে স্মরন রাখতে হবে এক মাঘে শীত যায়না। ক্ষমতায় কেউ চিরস্থায়ী থাকে না। পৃথিবীতে অবিন্বশ্বর বা চিরস্থায়ী কেউ নন। ফেরাউন, হিটলার, আইয়ুব ইয়াহিয়া, সাদ্দাম, গাদ্দাফীর মত প্রভাবশালী ক্ষমতাধরদেরও পতন হয়েছে। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাই সংযত ও দায়িত্বশীল আচরন প্রত্যাশা সব রাজনীতিবিদদের কাছে। সম্প্রতি দেয়া একটি রায়কে ঘিরে সারাদেশে আইয়ুব খানের শাসনামলের মত সরকারের যুদ্ধদেহী মনোভাব। সারাদেশে কার্ফিউর মত অবস্থায় বিষ্মীত পুরো জাতি। সরকারের নিরাপত্তার চাদরের নামে আইন শ্রীংঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়োজিত রেখেছে। মনে হচেছ এ বুঝি আরেকবার ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রি বা দিন ঘনিয়ে এসেছে। তাই এখনই সময় সর্বপ্রকার নাশকতা, গুম, হত্যা রাজনীতি ধ্বংশপ্রাপ্ত হোক। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির উদগীরন ঘটুক। সব দলই সংযত আচরন করুক। সরকার গদি যত শক্ত করেই আটকে ধরুক বা রাখুক ঐক্যবদ্ধ জনতার বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারে একদিন উশৃঙ্খল রাজনীতি ভেস্তে যাবে ই যাবে। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবেই আসবে।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd