সোনাইমুড়ী উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি

শিবলু মোশারফ:

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা ,
আমার শ্রদ্ধেয় সালাম গ্রহণ করুন। আশা করে সবাই ভালো আছেন। দীর্ঘদিন দিন থেকে আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করে আসছি । সময় সল্পতা আর কর্মময় ব্যস্ততার জন্য পারিনি । আজ বিদেশের মাটিতে বসে বুঝতে পারছি মা-মাতৃভুতি কত আপন ! যাই হোক । দীর্ঘদিন আপনাদের সাথে কাটানো কর্ম ব্যস্তময় সময় সঠিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিকূল পরিস্হিতিতে পড়তে হয়েছে । আপনাদের একান্ত সহযোগীতায় হয়তো সাময়িক ভাবে প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে পারলে ও সামনে আমাদের প্রত্যেকের জন্যই তা অপেক্ষা করছে । প্রকৃত পক্ষে এসব প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদের নিজেদেরই সৃষ্ট । এর মূল কারণ হচ্ছে হিংসা,সাংবাদিক এর দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকা, অর্থের প্রতি মনোযোগী হওয়া সহ সর্বোপরি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মত ক্ষমতার লোভ । যার কারণে সোনাইমুড়ী উপজেলায় রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করার সুযোগ পায় । হাতেগোনা কয়েকজন এর বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করলেও বাকীরা সংগত কারণে এড়িয়ে যায়। যারা সংবাদ পরিবেশন করেন তাদেরকে মোকাবেলা করতে হয় নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি। আজ আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা অনেক বেশী অবহেলিত।

আমার পরম শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ,
আমাদের মনে রাখতে হবে গণমাধ্যম কে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে অবহিত করা হয়। তাই সৎ সাংবাদিকতা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে । সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে রাজনৈতিক ব্যক্তি তথা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে । দেশের উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল রাখতে হলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশেন করতে হবে । সংবাদের তথ্য যাচাই ও সত্যতা নিরূপণ করা সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের অপরিহার্য্য কর্তব্য । ভাষিক আগ্রাসন ও শব্দ সন্ত্রাস রোধ করাও সাংবাদিকের দায়িত্ব । কারণ সাংবাদিকদের জাতির বিবেক বলা হয় । সাংবাদিকদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে দেশ ও জাতি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের রয়েছে বিশাল ভূমিকা । আঞ্চলিক সকল সমস্যা একমাত্র স্থানীয় সাংবাদপত্রই প্রকাশ করতে পারে । মূলত স্থানীয় সংবাদপত্র শাসক গোষ্ঠী ও জনগণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে । এর একমাত্র অবদান স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের । তাই জাতীয় পর্যায়ের চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার প্রচার প্রসার বস্তুনিষ্ঠ পেশাগত চর্চা ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,
অতীব দুঃখের বিষয় আমার জন্মস্থান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীরা এ মহান পেশার আদর্শ থেকে আজ অনেক দূরে সরে গেছে। আজ আমরা কতিপয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মত ক্ষমতার মোহে পড়ে কয়েক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেছি। যে বিভক্তি আমাদেরকে এক সময় অস্তিত্ব সংকটের দিকে নিয়ে যাবে । সারা দেশে যেভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের উপর দমন-পীড়ন আর প্রভাব বিস্তার চলছে তাতে সবচেয়ে বেশী সোনাইমুড়ীতে কর্মরতরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে । এতে করে ব্যক্তি স্বার্থ ও গণমাধ্যমের স্বার্থ দুটিই হুমকির মুখে পড়বে। সাংবাদিক যদি ভাড়াটে লোকের মত তার পেশাকে ব্যবহার করেন তাহলে তা সমাজ তথা দেশের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।বলা সমীচীন সংবাদপত্র কে প্রতিটি সূর্যোদয়ে দেশের নাগরিকদের সমীপে উপস্থিত হতে হয় সত্যবাদিতা ও ন্যায়নিষ্ঠার পরীক্ষা দিতে। সবচেয়ে বেশি অবাক হই , যখন দেখি একজন তৃণমূল সাংবাদিক রাজনৈতিক কর্মীর ভূমিকায় উঠে আসছেন । আর যাই হোক তাকে তো আর সাংবাদিক বলা যায়না ।কারণ সাংবাদিক রাজনীতি সচেতন হবেন । হতেও পারে রাজনৈতিক কর্মী কিন্তু পেশার সঙ্গে তা গুলিয়ে ফেললে চলবে না । সেই সঙ্গে রয়েছে লেজুড়বৃত্তি । সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে এটি পুলিশ সদস্যদের সাথে ।এরপরই রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের দপ্তরের লোকজন । রাজনৈতিক নেতাদের কথা না হয় বাদই দিলাম । ফলে গণমাধ্যমে উঠে আসছে না বাস্তব চিত্র । পুলিশ সাংবাদিক সম্পর্ক আমার কাছে রহস্যজনক । পেশার খাতিরে পুলিশ এর সাথে সাংবাদিকদের যোগাযোগ রাখতে হয় ।এতে গড়ে উঠে বন্ধুত্ব । কিন্তু যখন উল্টো চিত্র আসে তখন অবাক হই! যাই হোক না কেন আমাদের নিরাপত্তার ও ন্যায়বিচারের জন্য আমাদেরই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ।অন্য কেউ আমাদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে না । যে কোনো সমস্যা সমাধানে তথ্য গোপন নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হয়। মনে রাখতে হবে সাংবাদিকতা ব্যবসা নয় এটি মহান দায়িত্ব ।

প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ,
সাংবাদিকতা কে আমি পেশা হিসেবে নয় নেশা হিসেবে নিয়েছি । সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকতায় আমি বিশ্বাসী ছিলাম ।তাই এর সম্মান রাখতে সব সময় সচেষ্ট ছিলাম । সব সময় চেয়েছি সত্যের ভিতর দিয়ে যেতে । সাংবাদিকতার কুৎসিত চিত্র আমি দেখেছি । এতো বেশি নোংরামি-সততার জলাঞ্জলী ! সেখানে আমি এসব কে দূরে সরাতে চেয়েছিলাম । আমি যে সব সংবাদপত্র গুলোতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি , প্রতিনিয়ত আমার শ্রদ্ধেয় সহকর্মীদের অতি উৎসাহী কেউ কেউ ঐ সংবাদপত্র গুলোর অফিসে বারবার বারণ করেছেন যেন আমার সংবাদ প্রকাশ করা না হয়। শুধু তাই নয় পত্রিকার এজেন্ট এবং বিক্রয়কারী হকার কেও ঐ পত্রিকা গুলো সোনাইমুড়ীতে পাঠকের হাতে না পৌঁছানোর জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন । কিন্তু কখনো তাতে কষ্ট পাইনি । সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এসব প্রতিকূলতা দূর করে আপনাদের সাথেই ছিলাম । কিন্তু পরিবারের বারণ থাকায় আমার স্মৃতি বিজড়িত এ মহান পেশার কর্মস্থল ছেড়ে দেশের বাহিরে অবস্থান করছি। আজ অনেক বেশি মনে পড়ে আপনাদের সবার স্নেহ , মায়া-মমতা, হিংসা-বিদ্বেশ ,রাগ-ক্ষোভ, উপদেশ, সর্বোপরি সবার ভালোবাসা ।
আমার বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক গণমাধ্যমের বন্ধুগণ ,

আর পিছনে ফিরে তাকানোর সময় নাই। আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভূলে আমাদের প্রিয় জন্মস্থান সোনাইমুড়ীর উন্নয়নের স্বার্থে , গণমাধ্যম এর স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। আর শুনতে চাইনা কারো মূখ থেকে আমাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য ! আর কাউকে বা কোন গোষ্ঠীকে আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসুদপায় অবলম্বন করতে দিব না । মনে রাখবেন বিভাজন কারো জন্যই সুখকর নয়। এতে সাময়িক সুযোগ পাওয়া গেলেও ভবিষ্যতে করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে। আমাদের কারো ব্যক্তিগত বিষয় কে সামনে না এনে সবাই গণমাধ্যম পরিবারের সদস্য হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হই। আমি সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি দয়াকরে সবাই একই ছায়াতলে আসুন। আমরা প্রতিজ্ঞা করি এ মহান পেশায় যতদিন থাকবো ততদিন হাসি মূখে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে থাকবো। সত্যের ব্রত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই । এর জন্য সিনিয়রদের সহযোগীতা আর সহমর্মিতাই যথেষ্ট বলে আমি মনেকরি । আপনাদের ত্যাগ আমাদের চলার পাথেয় হবে । কেউ যদি আমার কথায় কোন কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।

পরিশেষে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকলের সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শেষ করলাম । আমার জন্য দোয়া করবেন যেন সুস্থ ভাবে দেশের মাটিতে ফিরে আসতে পারি ।

লেখকঃ শিবলু মোশারফ, সাধারণ সম্পাদক ,সোনাইমুড়ী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্ট, নোয়াখালী।(ইতালি প্রবাসী)

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» চাটখিলের সন্তান বাঁধনের জিপিএ ফাইভ অর্জন

» নারীর লাশ ঝুলছে, সন্তানের পানিতে,স্বামী পলাতক

» সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের নুতন সভাপতি খোরশেদ আলম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া

» করোনা দুর্যোগে নোয়াখালীর ৩০ হাজার মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম

» বেগমগঞ্জে ঈদের রাতে আ,লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সহ আহত ৯ গ্রেফতার ৩

» নোয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসের ফেসবুক আইডি হ্যাক

» চাটখিলে বাবার বাড়ী থেকে ১ সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

» করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘন্টা পরে মারা গেলেন বেগমগঞ্জের একজন

» স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উইফরইউ পাঠশালা’র ১২০ শিক্ষার্থী পেল ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ

» নোয়াখালীতে নুতন আক্রান্ত ৭৭, চাটখিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগ বাদে সব বন্ধ

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

সোনাইমুড়ী উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি

শিবলু মোশারফ:

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা ,
আমার শ্রদ্ধেয় সালাম গ্রহণ করুন। আশা করে সবাই ভালো আছেন। দীর্ঘদিন দিন থেকে আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করে আসছি । সময় সল্পতা আর কর্মময় ব্যস্ততার জন্য পারিনি । আজ বিদেশের মাটিতে বসে বুঝতে পারছি মা-মাতৃভুতি কত আপন ! যাই হোক । দীর্ঘদিন আপনাদের সাথে কাটানো কর্ম ব্যস্তময় সময় সঠিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিকূল পরিস্হিতিতে পড়তে হয়েছে । আপনাদের একান্ত সহযোগীতায় হয়তো সাময়িক ভাবে প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে পারলে ও সামনে আমাদের প্রত্যেকের জন্যই তা অপেক্ষা করছে । প্রকৃত পক্ষে এসব প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদের নিজেদেরই সৃষ্ট । এর মূল কারণ হচ্ছে হিংসা,সাংবাদিক এর দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকা, অর্থের প্রতি মনোযোগী হওয়া সহ সর্বোপরি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মত ক্ষমতার লোভ । যার কারণে সোনাইমুড়ী উপজেলায় রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করার সুযোগ পায় । হাতেগোনা কয়েকজন এর বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করলেও বাকীরা সংগত কারণে এড়িয়ে যায়। যারা সংবাদ পরিবেশন করেন তাদেরকে মোকাবেলা করতে হয় নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি। আজ আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা অনেক বেশী অবহেলিত।

আমার পরম শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ,
আমাদের মনে রাখতে হবে গণমাধ্যম কে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে অবহিত করা হয়। তাই সৎ সাংবাদিকতা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে । সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে রাজনৈতিক ব্যক্তি তথা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে । দেশের উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল রাখতে হলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশেন করতে হবে । সংবাদের তথ্য যাচাই ও সত্যতা নিরূপণ করা সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের অপরিহার্য্য কর্তব্য । ভাষিক আগ্রাসন ও শব্দ সন্ত্রাস রোধ করাও সাংবাদিকের দায়িত্ব । কারণ সাংবাদিকদের জাতির বিবেক বলা হয় । সাংবাদিকদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে দেশ ও জাতি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের রয়েছে বিশাল ভূমিকা । আঞ্চলিক সকল সমস্যা একমাত্র স্থানীয় সাংবাদপত্রই প্রকাশ করতে পারে । মূলত স্থানীয় সংবাদপত্র শাসক গোষ্ঠী ও জনগণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে । এর একমাত্র অবদান স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের । তাই জাতীয় পর্যায়ের চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার প্রচার প্রসার বস্তুনিষ্ঠ পেশাগত চর্চা ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগন,
অতীব দুঃখের বিষয় আমার জন্মস্থান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীরা এ মহান পেশার আদর্শ থেকে আজ অনেক দূরে সরে গেছে। আজ আমরা কতিপয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মত ক্ষমতার মোহে পড়ে কয়েক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেছি। যে বিভক্তি আমাদেরকে এক সময় অস্তিত্ব সংকটের দিকে নিয়ে যাবে । সারা দেশে যেভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের উপর দমন-পীড়ন আর প্রভাব বিস্তার চলছে তাতে সবচেয়ে বেশী সোনাইমুড়ীতে কর্মরতরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে । এতে করে ব্যক্তি স্বার্থ ও গণমাধ্যমের স্বার্থ দুটিই হুমকির মুখে পড়বে। সাংবাদিক যদি ভাড়াটে লোকের মত তার পেশাকে ব্যবহার করেন তাহলে তা সমাজ তথা দেশের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।বলা সমীচীন সংবাদপত্র কে প্রতিটি সূর্যোদয়ে দেশের নাগরিকদের সমীপে উপস্থিত হতে হয় সত্যবাদিতা ও ন্যায়নিষ্ঠার পরীক্ষা দিতে। সবচেয়ে বেশি অবাক হই , যখন দেখি একজন তৃণমূল সাংবাদিক রাজনৈতিক কর্মীর ভূমিকায় উঠে আসছেন । আর যাই হোক তাকে তো আর সাংবাদিক বলা যায়না ।কারণ সাংবাদিক রাজনীতি সচেতন হবেন । হতেও পারে রাজনৈতিক কর্মী কিন্তু পেশার সঙ্গে তা গুলিয়ে ফেললে চলবে না । সেই সঙ্গে রয়েছে লেজুড়বৃত্তি । সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে এটি পুলিশ সদস্যদের সাথে ।এরপরই রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের দপ্তরের লোকজন । রাজনৈতিক নেতাদের কথা না হয় বাদই দিলাম । ফলে গণমাধ্যমে উঠে আসছে না বাস্তব চিত্র । পুলিশ সাংবাদিক সম্পর্ক আমার কাছে রহস্যজনক । পেশার খাতিরে পুলিশ এর সাথে সাংবাদিকদের যোগাযোগ রাখতে হয় ।এতে গড়ে উঠে বন্ধুত্ব । কিন্তু যখন উল্টো চিত্র আসে তখন অবাক হই! যাই হোক না কেন আমাদের নিরাপত্তার ও ন্যায়বিচারের জন্য আমাদেরই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ।অন্য কেউ আমাদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে না । যে কোনো সমস্যা সমাধানে তথ্য গোপন নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হয়। মনে রাখতে হবে সাংবাদিকতা ব্যবসা নয় এটি মহান দায়িত্ব ।

প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ,
সাংবাদিকতা কে আমি পেশা হিসেবে নয় নেশা হিসেবে নিয়েছি । সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকতায় আমি বিশ্বাসী ছিলাম ।তাই এর সম্মান রাখতে সব সময় সচেষ্ট ছিলাম । সব সময় চেয়েছি সত্যের ভিতর দিয়ে যেতে । সাংবাদিকতার কুৎসিত চিত্র আমি দেখেছি । এতো বেশি নোংরামি-সততার জলাঞ্জলী ! সেখানে আমি এসব কে দূরে সরাতে চেয়েছিলাম । আমি যে সব সংবাদপত্র গুলোতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি , প্রতিনিয়ত আমার শ্রদ্ধেয় সহকর্মীদের অতি উৎসাহী কেউ কেউ ঐ সংবাদপত্র গুলোর অফিসে বারবার বারণ করেছেন যেন আমার সংবাদ প্রকাশ করা না হয়। শুধু তাই নয় পত্রিকার এজেন্ট এবং বিক্রয়কারী হকার কেও ঐ পত্রিকা গুলো সোনাইমুড়ীতে পাঠকের হাতে না পৌঁছানোর জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন । কিন্তু কখনো তাতে কষ্ট পাইনি । সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এসব প্রতিকূলতা দূর করে আপনাদের সাথেই ছিলাম । কিন্তু পরিবারের বারণ থাকায় আমার স্মৃতি বিজড়িত এ মহান পেশার কর্মস্থল ছেড়ে দেশের বাহিরে অবস্থান করছি। আজ অনেক বেশি মনে পড়ে আপনাদের সবার স্নেহ , মায়া-মমতা, হিংসা-বিদ্বেশ ,রাগ-ক্ষোভ, উপদেশ, সর্বোপরি সবার ভালোবাসা ।
আমার বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক গণমাধ্যমের বন্ধুগণ ,

আর পিছনে ফিরে তাকানোর সময় নাই। আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভূলে আমাদের প্রিয় জন্মস্থান সোনাইমুড়ীর উন্নয়নের স্বার্থে , গণমাধ্যম এর স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই। আর শুনতে চাইনা কারো মূখ থেকে আমাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য ! আর কাউকে বা কোন গোষ্ঠীকে আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসুদপায় অবলম্বন করতে দিব না । মনে রাখবেন বিভাজন কারো জন্যই সুখকর নয়। এতে সাময়িক সুযোগ পাওয়া গেলেও ভবিষ্যতে করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে। আমাদের কারো ব্যক্তিগত বিষয় কে সামনে না এনে সবাই গণমাধ্যম পরিবারের সদস্য হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হই। আমি সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি দয়াকরে সবাই একই ছায়াতলে আসুন। আমরা প্রতিজ্ঞা করি এ মহান পেশায় যতদিন থাকবো ততদিন হাসি মূখে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে থাকবো। সত্যের ব্রত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই । এর জন্য সিনিয়রদের সহযোগীতা আর সহমর্মিতাই যথেষ্ট বলে আমি মনেকরি । আপনাদের ত্যাগ আমাদের চলার পাথেয় হবে । কেউ যদি আমার কথায় কোন কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।

পরিশেষে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকলের সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শেষ করলাম । আমার জন্য দোয়া করবেন যেন সুস্থ ভাবে দেশের মাটিতে ফিরে আসতে পারি ।

লেখকঃ শিবলু মোশারফ, সাধারণ সম্পাদক ,সোনাইমুড়ী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্ট, নোয়াখালী।(ইতালি প্রবাসী)

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd