ADS170638-2

ভুলে যাবেন না ৩২ নম্বরের ক্যামেরা

আনোয়ার বারী পিন্টু

বইটির পাতা উল্টে পাল্টে দেখছিলাম। দেশের সেরা ফটোগ্রাফারদের তোলা ছবিতে সমৃদ্ধ ছিলো বইটি। প্রিয়অগ্রজ সাংবাদিক বাবুল তালুকদার বইটি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত ফটো সাংবাদিকরা বইটির প্রকাশক। বইতে ফটো সাংবাদিকদের কার্যক্রম বর্ণিত হয়েছে। দেখলাম, সিঁড়িতে পড়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর রক্তমাখা দেহের ছবিটিও তুলেছেন ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর এক সাংবাদিক। এই দেশের গনমাধ্যম কর্মীরাই সেই দিন নিজের জীবনের মায়াত্যাগ করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে ছবি তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে দৈনিক বাংলার প্রধান আলোকচিত্রী (প্রয়াত) গোলাম মওলা।
সাংবাদিক পাভেল রহমানের একটা লেখায় পড়লাম-সেনাবাহিনীর জিপটা এসে ঢুকল দৈনিক বাংলার ভেতর। ১ নম্বর ডিআইটি এভিনিউ তখন দৈনিক বাংলার ঠিকানা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা শহরের রাস্থায় ট্যাংক আর সেনাবাহিনীর জিপ ছাড়া সাধারণ গাড়ির চলাচল নেই বললেই চলে। পথচারী আর দৈনিক বাংলার কর্মচারীরা সেই কারণে একটু বাড়তি ঔৎসুক্য নিয়ে তাকায় দৈনিক বাংলায় ঢুকে পড়া জিপটির দিকে। জিপ থেকে সেনাসদস্যদের পর পরই নামলেন ছোট্ট ক্যামেরার ব্যাগটি হাতে দৈনিক বাংলার তৎকালীন প্রধান আলোকচিত্রী গোলাম মওলা। চোখের মোটা পুরু লেন্সের চশমাটা বারবার নেমে আসছে নাকের দিকে। যেকোনো অ্যাসাইনমেন্ট থেকে ফেরার সময় মোটরসাইকেল থেকে যে উদ্দীপনা নিয়ে গোলাম মওলা নামেন, আজ যেন সে উদ্দীপনার লেশমাত্র নেই। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার শক্তি পর্যন্ত তাঁর নেই। দৈনিক বাংলার ছোট্ট লিফটটায় ঠাসাঠাসি করে গোলাম মওলাসহ জওয়ানেরা উঠে এলেন বার্তাকক্ষে। আরও এক ধাপ ওপরে ডার্করুম। কিন্তু ডাকরুমে যাওয়ার শক্তি পর্যন্ত তাঁর নেই। বার্তাকক্ষের বড় টেবিলটার সামনে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন তিনি। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। হাতের ইশারায় এক গ্লাস পানিও চাইলেন। চশমাটা খুলে টেবিলে রেখে রুমাল দিয়ে মুখটা মুছে নিলেন। চোখ বন্ধ করতেই যেন বীভৎস দৃশ্যগুলো ভেসে উঠল। ভয়াবহ সব দৃশ্য।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সিঁড়ির মাঝখানটায় ঘুরতেই বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখে হূদযন্ত্রের গতি বেড়ে গিয়েছিল তাঁর। এমনিতেই উচ্চরক্তচাপ। নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলেন না। সাদা পাঞ্জাবির মধ্যে লাল রক্তের ছোপ। বুকের দিকটায় একটু বেশি লাল। লাল রক্ত, সিঁড়িতে কোথায় পা রাখবেন, শুকনো জায়গাটি পর্যন্ত নেই। সেনাসদস্য কজন বঙ্গবন্ধুর লাশ টপকে ওপরে উঠে গেলেন।
১২০ মিমি রিলকর্ড বক্স ক্যামেরায় ফ্ল্যাশগানের কর্ড ততক্ষণে লাগিয়ে ফেলেছেন গোলাম মওলা। ফোকাস করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর মুখটায় চোখ রাখতে পারছিলেন না। বারবার মনে হচ্ছিল তাঁর, ‘কী দেখছি আমি? এই মানুষটির কত দুর্লভ ছবিই না তুলেছি। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে গোলাম মওলার। ফ্ল্যাশের আলোয় ঝলসে ওঠে রক্তস্নাত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সিঁড়ি’।

শুধু তাই নয়, ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল লাগাতার সংবাদপত্র ধর্মঘটের কারণে। সাংবাদিকরা সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্বৈরাচারের পতন হলেই সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে। এক সপ্তাহ পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ থাকে, অবশেষে ৬ ডিসেম্বর এরশাদের বিদায়ের পর আবার পত্রিকা প্রকাশিত হয়। কাজেই সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া একটি দেশের গণতন্ত্র সঠিক এবং অর্থবহ হয়ে ওঠে না।

ক্ষমতার মত্ততায় আজ যারা সাংবাদিকের উপর নির্মমতা চালায়। তারা হয়তো ভুলে গেছে ইতিহাস আর সাংবাদিকের সাহস। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সাংবাদিকের ক্যামেরার ফ্লাশ। নয়তো সাভারের সাংবাদিক নাজমুলের বিরুদ্ধে প্যান্ট চুরির মামলায় তাকে কারাগারে যেতো হতো না। শাহবাগে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হতো না এটিএন বাংলার সাংবাদিক আলিম, এছাড়াও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের দীর্ঘ কারাবাস, দৈনিক খুলনার কন্ঠের সম্পাদক শেখ রানা ও প্রকাশক ইশরাত ইভার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের, শ্যামনগরে কল্যান পত্রিকার প্রতিনিধি কে মারপিট করা। সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে পৌর মেয়রের গুলিতে সমকালের প্রতিনিধি শিমুল হত্যা।

বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কম আঘাত আসেনি। ইতিহাস তার নীরব সাক্ষী। বাংলাদেশ সংবিধানে সংবাদপত্রের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৩ সালে প্রিন্টিং প্র্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্টের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের হাতে সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়। ওই সময় চারটি বাদে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যার ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে। অবশেষে ১৯৯১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের সময়ে এ আইনটি বাতিল করা হয়। আর সামরিক শাসন চলাকালীন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা তেমন ছিল না
আমরা প্রবল ক্ষমতাধরদের অবগত করাতে চাই যে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ ধারায় সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, (১) চিন্তা এবং বিবেকের স্বাধীনতা দান করা হইল। (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে- (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং (খ) সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল’।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপরই যে কোন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দেশের উন্নয়ন আর অগ্রগতি সাধন হয়। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকের উপর আঘাত করে মুনয়েম খাঁ, আইয়ুবসহ কোর শাসকই টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান হামলাকারীরা তাদের থেকে শক্তিমান নয়। তাদের সতর্ক ও সাবধানতা অবশ্যই সুফল বয়ে আনবে।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সুবর্ণচরের থানার হাটে শর্ট ক্রীজ রৌপ্যকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

» ফেনীতে বিষাক্ত সাপের দংশনে যুবকের মৃত্যু

» কবিরহাটে চোরাই মোটর সাইকেলসহ ছাত্রলীগ সভাপতি র‍্যাবের হাতে আটক

» সেনবাগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

» চাটখিলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

» বাবার দেয়া বাইকেই প্রাণ গেল কলেজ পড়ুয়া ছেলের

» এখনো অধরা সুবর্ণচরে কিশোরী গণধর্ষণের সে ধর্ষকরা

» কোম্পানীগঞ্জে সিএনজি চাপায় ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

» আবারো সেই সুবর্ণচর, এবার গণধর্ষনের শিকার ১৪ বছরের কিশোরী

» রামগঞ্জে বাল্য বিয়ের প্রস্তুতির দায়ে কনের অর্থদন্ড

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

ভুলে যাবেন না ৩২ নম্বরের ক্যামেরা

আনোয়ার বারী পিন্টু

বইটির পাতা উল্টে পাল্টে দেখছিলাম। দেশের সেরা ফটোগ্রাফারদের তোলা ছবিতে সমৃদ্ধ ছিলো বইটি। প্রিয়অগ্রজ সাংবাদিক বাবুল তালুকদার বইটি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত ফটো সাংবাদিকরা বইটির প্রকাশক। বইতে ফটো সাংবাদিকদের কার্যক্রম বর্ণিত হয়েছে। দেখলাম, সিঁড়িতে পড়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর রক্তমাখা দেহের ছবিটিও তুলেছেন ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর এক সাংবাদিক। এই দেশের গনমাধ্যম কর্মীরাই সেই দিন নিজের জীবনের মায়াত্যাগ করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে ছবি তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে দৈনিক বাংলার প্রধান আলোকচিত্রী (প্রয়াত) গোলাম মওলা।
সাংবাদিক পাভেল রহমানের একটা লেখায় পড়লাম-সেনাবাহিনীর জিপটা এসে ঢুকল দৈনিক বাংলার ভেতর। ১ নম্বর ডিআইটি এভিনিউ তখন দৈনিক বাংলার ঠিকানা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা শহরের রাস্থায় ট্যাংক আর সেনাবাহিনীর জিপ ছাড়া সাধারণ গাড়ির চলাচল নেই বললেই চলে। পথচারী আর দৈনিক বাংলার কর্মচারীরা সেই কারণে একটু বাড়তি ঔৎসুক্য নিয়ে তাকায় দৈনিক বাংলায় ঢুকে পড়া জিপটির দিকে। জিপ থেকে সেনাসদস্যদের পর পরই নামলেন ছোট্ট ক্যামেরার ব্যাগটি হাতে দৈনিক বাংলার তৎকালীন প্রধান আলোকচিত্রী গোলাম মওলা। চোখের মোটা পুরু লেন্সের চশমাটা বারবার নেমে আসছে নাকের দিকে। যেকোনো অ্যাসাইনমেন্ট থেকে ফেরার সময় মোটরসাইকেল থেকে যে উদ্দীপনা নিয়ে গোলাম মওলা নামেন, আজ যেন সে উদ্দীপনার লেশমাত্র নেই। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার শক্তি পর্যন্ত তাঁর নেই। দৈনিক বাংলার ছোট্ট লিফটটায় ঠাসাঠাসি করে গোলাম মওলাসহ জওয়ানেরা উঠে এলেন বার্তাকক্ষে। আরও এক ধাপ ওপরে ডার্করুম। কিন্তু ডাকরুমে যাওয়ার শক্তি পর্যন্ত তাঁর নেই। বার্তাকক্ষের বড় টেবিলটার সামনে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন তিনি। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। হাতের ইশারায় এক গ্লাস পানিও চাইলেন। চশমাটা খুলে টেবিলে রেখে রুমাল দিয়ে মুখটা মুছে নিলেন। চোখ বন্ধ করতেই যেন বীভৎস দৃশ্যগুলো ভেসে উঠল। ভয়াবহ সব দৃশ্য।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সিঁড়ির মাঝখানটায় ঘুরতেই বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখে হূদযন্ত্রের গতি বেড়ে গিয়েছিল তাঁর। এমনিতেই উচ্চরক্তচাপ। নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলেন না। সাদা পাঞ্জাবির মধ্যে লাল রক্তের ছোপ। বুকের দিকটায় একটু বেশি লাল। লাল রক্ত, সিঁড়িতে কোথায় পা রাখবেন, শুকনো জায়গাটি পর্যন্ত নেই। সেনাসদস্য কজন বঙ্গবন্ধুর লাশ টপকে ওপরে উঠে গেলেন।
১২০ মিমি রিলকর্ড বক্স ক্যামেরায় ফ্ল্যাশগানের কর্ড ততক্ষণে লাগিয়ে ফেলেছেন গোলাম মওলা। ফোকাস করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর মুখটায় চোখ রাখতে পারছিলেন না। বারবার মনে হচ্ছিল তাঁর, ‘কী দেখছি আমি? এই মানুষটির কত দুর্লভ ছবিই না তুলেছি। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে গোলাম মওলার। ফ্ল্যাশের আলোয় ঝলসে ওঠে রক্তস্নাত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সিঁড়ি’।

শুধু তাই নয়, ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল লাগাতার সংবাদপত্র ধর্মঘটের কারণে। সাংবাদিকরা সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্বৈরাচারের পতন হলেই সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে। এক সপ্তাহ পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ থাকে, অবশেষে ৬ ডিসেম্বর এরশাদের বিদায়ের পর আবার পত্রিকা প্রকাশিত হয়। কাজেই সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া একটি দেশের গণতন্ত্র সঠিক এবং অর্থবহ হয়ে ওঠে না।

ক্ষমতার মত্ততায় আজ যারা সাংবাদিকের উপর নির্মমতা চালায়। তারা হয়তো ভুলে গেছে ইতিহাস আর সাংবাদিকের সাহস। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সাংবাদিকের ক্যামেরার ফ্লাশ। নয়তো সাভারের সাংবাদিক নাজমুলের বিরুদ্ধে প্যান্ট চুরির মামলায় তাকে কারাগারে যেতো হতো না। শাহবাগে পুলিশী নির্যাতনের শিকার হতো না এটিএন বাংলার সাংবাদিক আলিম, এছাড়াও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের দীর্ঘ কারাবাস, দৈনিক খুলনার কন্ঠের সম্পাদক শেখ রানা ও প্রকাশক ইশরাত ইভার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের, শ্যামনগরে কল্যান পত্রিকার প্রতিনিধি কে মারপিট করা। সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে পৌর মেয়রের গুলিতে সমকালের প্রতিনিধি শিমুল হত্যা।

বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কম আঘাত আসেনি। ইতিহাস তার নীরব সাক্ষী। বাংলাদেশ সংবিধানে সংবাদপত্রের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৩ সালে প্রিন্টিং প্র্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্টের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের হাতে সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়। ওই সময় চারটি বাদে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যার ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে। অবশেষে ১৯৯১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের সময়ে এ আইনটি বাতিল করা হয়। আর সামরিক শাসন চলাকালীন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা তেমন ছিল না
আমরা প্রবল ক্ষমতাধরদের অবগত করাতে চাই যে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ ধারায় সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, (১) চিন্তা এবং বিবেকের স্বাধীনতা দান করা হইল। (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে- (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং (খ) সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল’।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপরই যে কোন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দেশের উন্নয়ন আর অগ্রগতি সাধন হয়। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকের উপর আঘাত করে মুনয়েম খাঁ, আইয়ুবসহ কোর শাসকই টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান হামলাকারীরা তাদের থেকে শক্তিমান নয়। তাদের সতর্ক ও সাবধানতা অবশ্যই সুফল বয়ে আনবে।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd