লন্ডনে শতকণ্ঠে মুক্তির গান

প্রিয় নোয়াখালীঃ ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল রক্ত লাল/নোঙর তোল তোল সময় যে হলো হলো নোঙর তোল তোল/ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে/জয় বাংলা বাংলার জয়’ এমনই কালজয়ী, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদায়ী, রক্তে আগুন লাগা এসব গানে গানে স্মরণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধাদের। শতাধিক শিল্পীর পরিবেশনা নিয়ে লন্ডনে এটিএন বাংলা ইউকের অনবদ্য আয়োজন ছিল ‘শতকণ্ঠে মুক্তির গান।’
শিল্পী, কলা কুশলী ও আগত অতিথিদের লাল সবুজের পোশাক এনে দিয়েছিল এক ভিন্ন আবহ। বহির্বিশ্বে এই প্রথম শত শিল্পী একসঙ্গে মুক্তির গান গেয়ে বাংলাদেশের বিজয় উৎসব উদযাপন করলেন।
তিন প্রজন্মের শিল্পীরা একই মঞ্চে গলা মিলিয়েছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মাহামুদুর রহমান বেণু যেমন ছিলেন, তেমনি ব্রিটেনে জন্ম নেয়া, বেড়ে ওঠা কিশোর কিশোরীরাও কন্ঠ মিলিয়েছেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে উর্মী মাজহার ও সালাউদ্দীন শাহীন যখন আবৃত্তি করেন ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’ কিংবা ‘আমাকে বাঁচাও এই বর্বর আগুন থেকে’, তখন পুরো হল জুড়ে এক ভিন্ন নীরবতা বিরাজ করে।
বাংলাদেশের ৪৬তম বিজয় দিবস উপলক্ষে রোববার ১৮ ডিসেম্বর রয়েল রিজেন্সি হলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১শ’ ১০ জন নবীন-প্রবীণ শিল্পী মুক্তিযুদ্ধের ১২টি জনপ্রিয় গান একসঙ্গে একই মঞ্চে গেয়ে শোনান। সমবেত সঙ্গীত নির্দেশনায় ছিলেন খ্যাতিমান শিল্পী ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও লন্ডনে বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার লিখিত বাণী পাঠ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘এমন একটি উদ্যোগ প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে’। শেখ রেহানা তার লিখিত বাণীতে বলেন, ‘আমাদের সন্তান, যারা প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে উঠেছে, মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণ করতে এ ধরনের অনুষ্ঠান তাদের সাহস যোগাবে’।
শত কন্ঠে মুক্তির গানে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. নাজমুল কাওনাইন, ব্রিটেনে সফররত, পংকজ দেবনাথ এমপি, ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের প্রবীণ সংগঠক সুলতান শরীফ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জিএল এ মেম্বার উমেশ দেশাই ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ইমদাদুল হক চৌধুরী। নির্দেশনা ও সংগীত আয়োজন ছিলেন ডঃ ইমতিয়াজ আহমেদ ও ফজলুর বারী বাবু।
নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যায়, ‘শত কণ্ঠে মুক্তির গান’-এর মতো এমন অনুষ্ঠানের সঙ্গে হাইকমিশন সব সময় সম্পৃক্ত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন হাইকমিশনার। স্বাগত বক্তব্যে এটিএন বাংলা ইউকে’র সিইও হাফিজ আলম বক্স বলেন, ‘দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এ আয়োজন করেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি সংগ্রামের জন্য বাঙালিদের তিলে তিলে প্রস্তুত করার পরই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকেও আমরা তেমনি মূল শেকড়ে ফিরিয়ে নিতে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত করতে চাই’।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» আবারও দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে নোয়াখালীর যুবক খুন

» রামগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিধবার উপর হামলা

» এএসপি পদোন্নতিতে লিটনকে চাটখিলে সংবর্ধনা

» বেগমগঞ্জে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলৎকার, ২ কিশোর আটক

» চাটখিল ও সোনাইমুড়ীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও অনুদান দিলেন জাহাঙ্গীর আলম 

» ধর্ষকদের জন্য আ’লীগের দরজা চিরতরে বন্ধ:ওবায়দুল কাদের

» বাহরাইনে সড়ক দূর্ঘটনায় সেনবাগের হিরন নিহত

» চাটখিলে ধর্ষক শরীফের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জনতার মানববন্ধন

» গুলি ফুটিয়ে ভয় দেখিয়ে আরেক নারীকে ধর্ষন যুবলীগ নেতা শরীফের

» দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর রাসেল গুলিবিদ্ধ

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

লন্ডনে শতকণ্ঠে মুক্তির গান

প্রিয় নোয়াখালীঃ ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল রক্ত লাল/নোঙর তোল তোল সময় যে হলো হলো নোঙর তোল তোল/ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে/জয় বাংলা বাংলার জয়’ এমনই কালজয়ী, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদায়ী, রক্তে আগুন লাগা এসব গানে গানে স্মরণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধাদের। শতাধিক শিল্পীর পরিবেশনা নিয়ে লন্ডনে এটিএন বাংলা ইউকের অনবদ্য আয়োজন ছিল ‘শতকণ্ঠে মুক্তির গান।’
শিল্পী, কলা কুশলী ও আগত অতিথিদের লাল সবুজের পোশাক এনে দিয়েছিল এক ভিন্ন আবহ। বহির্বিশ্বে এই প্রথম শত শিল্পী একসঙ্গে মুক্তির গান গেয়ে বাংলাদেশের বিজয় উৎসব উদযাপন করলেন।
তিন প্রজন্মের শিল্পীরা একই মঞ্চে গলা মিলিয়েছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মাহামুদুর রহমান বেণু যেমন ছিলেন, তেমনি ব্রিটেনে জন্ম নেয়া, বেড়ে ওঠা কিশোর কিশোরীরাও কন্ঠ মিলিয়েছেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে উর্মী মাজহার ও সালাউদ্দীন শাহীন যখন আবৃত্তি করেন ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’ কিংবা ‘আমাকে বাঁচাও এই বর্বর আগুন থেকে’, তখন পুরো হল জুড়ে এক ভিন্ন নীরবতা বিরাজ করে।
বাংলাদেশের ৪৬তম বিজয় দিবস উপলক্ষে রোববার ১৮ ডিসেম্বর রয়েল রিজেন্সি হলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১শ’ ১০ জন নবীন-প্রবীণ শিল্পী মুক্তিযুদ্ধের ১২টি জনপ্রিয় গান একসঙ্গে একই মঞ্চে গেয়ে শোনান। সমবেত সঙ্গীত নির্দেশনায় ছিলেন খ্যাতিমান শিল্পী ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও লন্ডনে বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার লিখিত বাণী পাঠ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘এমন একটি উদ্যোগ প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তারে ভূমিকা রাখবে’। শেখ রেহানা তার লিখিত বাণীতে বলেন, ‘আমাদের সন্তান, যারা প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে উঠেছে, মুক্তিযুদ্ধকে হৃদয়ে ধারণ করতে এ ধরনের অনুষ্ঠান তাদের সাহস যোগাবে’।
শত কন্ঠে মুক্তির গানে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. নাজমুল কাওনাইন, ব্রিটেনে সফররত, পংকজ দেবনাথ এমপি, ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের প্রবীণ সংগঠক সুলতান শরীফ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জিএল এ মেম্বার উমেশ দেশাই ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ইমদাদুল হক চৌধুরী। নির্দেশনা ও সংগীত আয়োজন ছিলেন ডঃ ইমতিয়াজ আহমেদ ও ফজলুর বারী বাবু।
নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যায়, ‘শত কণ্ঠে মুক্তির গান’-এর মতো এমন অনুষ্ঠানের সঙ্গে হাইকমিশন সব সময় সম্পৃক্ত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন হাইকমিশনার। স্বাগত বক্তব্যে এটিএন বাংলা ইউকে’র সিইও হাফিজ আলম বক্স বলেন, ‘দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এ আয়োজন করেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি সংগ্রামের জন্য বাঙালিদের তিলে তিলে প্রস্তুত করার পরই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকেও আমরা তেমনি মূল শেকড়ে ফিরিয়ে নিতে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত করতে চাই’।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd