বছরে একশরও বেশী বাংলাদেশী খুন হচ্ছে সাউথ আফ্রিকাতে

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

দক্ষিণ আফ্রিকা এখন বাংলাদেশিদের জন্য আতঙ্কের দেশে পরিণত হয়েছে। বছরে গড়ে ১৩০ জন বাংলাদেশি খুন হন দেশটিতে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় আফ্রিকানদের হাতে খুন হন।
অধিকাংশ বাংলাদেশিরাই তাদের ভাগ্য বদলানোর আশায় মানব পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে থাকেন।
আফ্রিকার সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা নানা অপরাধী গোষ্ঠী এবং বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা পেতে দক্ষিণ আফ্রিকার উগ্রপন্থী এবং সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের হাতেই বাংলাদেশিদের নিহত হতে হয়।
এসব হতাহতের সর্বশেষ শিকার হন টাঙ্গাইলের জয়নাল আবেদিন। দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে খুন হন জয়নাল। তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার টেরকী গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে।
জয়নাল আবেদীনের মামা দুদু মল্লিক জানান, এইচএসসি পাস করে দশ বছর আগে জয়নাল আবদিন দক্ষিণ আফ্রিকা যায়। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে নিজেই একটি মুদি দোকানের ব্যবসা করে।
ব্যবসায় করে তার বেশ লাভবান হয়। দোকানের পাশেই একটি কন্টেইনারে থাকতেন তিনি। বুধবার রাতে কাজ সেরে প্রতিদিনের মতো জয়নাল সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন।
স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে তাকে কেউ ডাকাডাকি করলে জয়নাল জানালা খুলে বাইরে উঁকি দেয়। সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা তার কপালের বাম পাশে গুলি করে। গুলিটি মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে প্রায় দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। যাদের বড় একটি অংশ পাচারকারীদের চ্যানেল ধরে সেখানে পৌঁছেছে।
তাদের অধিকাংশই সেখানে ব্যবসা করেন এবং বিভিন্ন মুদি দোকানে কাজ করেন। অনেকে আবার রাজনৈতিক আশ্রয় এবং শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের জন্যও চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
মানব পাচারকারীরা অধিকাংশই ভ্রমণ ভিসা বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা নিয়ে অভিবাসীদের নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এতে করে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর রোকজন বৈধভাবে অভিবাসী সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান মতে, বছরে অন্তত ১৩০ জন বাংলাদেশি দক্ষিণ আফ্রিকায় খুন হন।
স্থায়ী আফ্রিকানদের সাথে দ্বন্দ্বই এর প্রধান কারণ বলে জানা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ মিশন সূত্র জানিয়েছে, অনেক বাংলাদেশি আফ্রিকানদের বান্ধবী, স্ত্রী ও বোনদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলেও এইসব হত্যাকাণ্ড হয়ে আসছে। জোহানেন্সবার্গ এবং ডারবানে এমন ঘটনার নজির রয়েছে।
মাঝেমধ্যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশি পুরুষেরা আফ্রিকান স্থায়ী নারীদের বিয়ে করে ফেলেন। বিয়ের সময় তারা নিজেদের অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। কিন্তু যখনই পূর্বের বিয়ের কথা জানাজানি হয়ে যায়, তখনই আফ্রিকানরা বদলা নিতে গিয়ে প্রতিহিংসায় খুন খারাবির মতো ঘটনা ঘটায়।
এসব হত্যাকাণ্ড অনেক সময় ডাকাতির হামলা, ছিনতাই বা সড়ক দুর্ঘটনা বলেও চালিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে এসব ঘটনার আইনি বিচার পাওয়াও হয়ে ওঠে না। হত্যা মামলাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আর ন্যায়বিচারের প্রশ্নই ওঠে না।
আবার এমন কিছু ঘটনাও রয়েছে, বাংলাদেশিরা, যারা এখানে নতুন আসেন, তারা প্রথমে কোনো বাংলাদেশির দোকানেই বিক্রয় সহকারী বা বিক্রয়ক্রর্মী হিসেবে কাজ করে থাকে। সেই সুযোগে তারা ওই প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয় এবং ক্যাশ টাকার খবরাখবর পেয়ে যায়। যখন দোকানের মালিক বাইরে যায়, তারা অনেকেই টাকা চুরি করে। আবার অনেকে স্থানীয় আফ্রিকানদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ডাকাতির মতো ঘটনা বানিয়ে টাকা লুটে নেয়।
এতে করে পরে লুটের টাকা ভাগাভাগি নিয়েও হতাহতের ঘটনা ঘটে। অনেকদিন যাবৎ দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন এমন বাংলাদেশিরা এমনটা জানিয়েছেন।
আরও এমন কয়েকটি দেশ রয়েছে যেমন- পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে, ইথিওপিয়া, এসব দেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী। রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে থাকেন। এদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

নিউজ ক্রেডিটঃ দেশ রপান্তর।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীর তীর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

» চাটখিলে পানিতে ডুবে শিশু রাফসানের মৃত্যু

» করোনা উপসর্গে চাটখিলে স্বামী স্ত্রী ও বেগমগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু

» দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিনতাইকারীর হাতে বাংলাদেশী নিহত

» রামগঞ্জে শিশু সন্তান নিয়ে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী

» চাটখিলের সন্তান বাঁধনের জিপিএ ফাইভ অর্জন

» নারীর লাশ ঝুলছে, সন্তানের পানিতে,স্বামী পলাতক

» সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের নুতন সভাপতি খোরশেদ আলম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া

» করোনা দুর্যোগে নোয়াখালীর ৩০ হাজার মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম

» বেগমগঞ্জে ঈদের রাতে আ,লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ সহ আহত ৯ গ্রেফতার ৩

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

বছরে একশরও বেশী বাংলাদেশী খুন হচ্ছে সাউথ আফ্রিকাতে

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

দক্ষিণ আফ্রিকা এখন বাংলাদেশিদের জন্য আতঙ্কের দেশে পরিণত হয়েছে। বছরে গড়ে ১৩০ জন বাংলাদেশি খুন হন দেশটিতে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় আফ্রিকানদের হাতে খুন হন।
অধিকাংশ বাংলাদেশিরাই তাদের ভাগ্য বদলানোর আশায় মানব পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে থাকেন।
আফ্রিকার সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা নানা অপরাধী গোষ্ঠী এবং বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা পেতে দক্ষিণ আফ্রিকার উগ্রপন্থী এবং সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের হাতেই বাংলাদেশিদের নিহত হতে হয়।
এসব হতাহতের সর্বশেষ শিকার হন টাঙ্গাইলের জয়নাল আবেদিন। দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে খুন হন জয়নাল। তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার টেরকী গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে।
জয়নাল আবেদীনের মামা দুদু মল্লিক জানান, এইচএসসি পাস করে দশ বছর আগে জয়নাল আবদিন দক্ষিণ আফ্রিকা যায়। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে নিজেই একটি মুদি দোকানের ব্যবসা করে।
ব্যবসায় করে তার বেশ লাভবান হয়। দোকানের পাশেই একটি কন্টেইনারে থাকতেন তিনি। বুধবার রাতে কাজ সেরে প্রতিদিনের মতো জয়নাল সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন।
স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে তাকে কেউ ডাকাডাকি করলে জয়নাল জানালা খুলে বাইরে উঁকি দেয়। সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা তার কপালের বাম পাশে গুলি করে। গুলিটি মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে প্রায় দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। যাদের বড় একটি অংশ পাচারকারীদের চ্যানেল ধরে সেখানে পৌঁছেছে।
তাদের অধিকাংশই সেখানে ব্যবসা করেন এবং বিভিন্ন মুদি দোকানে কাজ করেন। অনেকে আবার রাজনৈতিক আশ্রয় এবং শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের জন্যও চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
মানব পাচারকারীরা অধিকাংশই ভ্রমণ ভিসা বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা নিয়ে অভিবাসীদের নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এতে করে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর রোকজন বৈধভাবে অভিবাসী সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান মতে, বছরে অন্তত ১৩০ জন বাংলাদেশি দক্ষিণ আফ্রিকায় খুন হন।
স্থায়ী আফ্রিকানদের সাথে দ্বন্দ্বই এর প্রধান কারণ বলে জানা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ মিশন সূত্র জানিয়েছে, অনেক বাংলাদেশি আফ্রিকানদের বান্ধবী, স্ত্রী ও বোনদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলেও এইসব হত্যাকাণ্ড হয়ে আসছে। জোহানেন্সবার্গ এবং ডারবানে এমন ঘটনার নজির রয়েছে।
মাঝেমধ্যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশি পুরুষেরা আফ্রিকান স্থায়ী নারীদের বিয়ে করে ফেলেন। বিয়ের সময় তারা নিজেদের অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। কিন্তু যখনই পূর্বের বিয়ের কথা জানাজানি হয়ে যায়, তখনই আফ্রিকানরা বদলা নিতে গিয়ে প্রতিহিংসায় খুন খারাবির মতো ঘটনা ঘটায়।
এসব হত্যাকাণ্ড অনেক সময় ডাকাতির হামলা, ছিনতাই বা সড়ক দুর্ঘটনা বলেও চালিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে এসব ঘটনার আইনি বিচার পাওয়াও হয়ে ওঠে না। হত্যা মামলাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আর ন্যায়বিচারের প্রশ্নই ওঠে না।
আবার এমন কিছু ঘটনাও রয়েছে, বাংলাদেশিরা, যারা এখানে নতুন আসেন, তারা প্রথমে কোনো বাংলাদেশির দোকানেই বিক্রয় সহকারী বা বিক্রয়ক্রর্মী হিসেবে কাজ করে থাকে। সেই সুযোগে তারা ওই প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয় এবং ক্যাশ টাকার খবরাখবর পেয়ে যায়। যখন দোকানের মালিক বাইরে যায়, তারা অনেকেই টাকা চুরি করে। আবার অনেকে স্থানীয় আফ্রিকানদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ডাকাতির মতো ঘটনা বানিয়ে টাকা লুটে নেয়।
এতে করে পরে লুটের টাকা ভাগাভাগি নিয়েও হতাহতের ঘটনা ঘটে। অনেকদিন যাবৎ দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন এমন বাংলাদেশিরা এমনটা জানিয়েছেন।
আরও এমন কয়েকটি দেশ রয়েছে যেমন- পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে, ইথিওপিয়া, এসব দেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী। রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে থাকেন। এদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

নিউজ ক্রেডিটঃ দেশ রপান্তর।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd