ADS170638-2

ফেনীতে সিএনজি অটোরিকশায় কোটি কোটি টাকা টোকেন বানিজ্য

 

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী:
ফেনীতে সিএনজি অটোরিক্সায় টোকেন বিক্রি করে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আদায় করছে সিএনজি চালক মালিক সমিতি নামে ভূঁইফোড় সংগঠনের নেতারা। এর ফলে প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। শ্রমিক নেতারা টোকেনের টাকার একটি বড় অংশ পুলিশের পকেটে যাওয়ার দাবী করলেও তবে পুলিশ এসব অস্বীকার করছে। সিএনজি অটোরিকশা মালিকরা জানান, মহাসড়কে ফেনীর ২৫ কিলোমিটার ও কুমিল্লার লাটিমি, বাতিসা, চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ফেনীতে যাতায়াত করে। বর্তমানে মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কারনে বিপাকে পড়ে মহাসড়কের পাশের এলাকার বাসিন্দারা। সিএনজি অটোরিকশাগুলো মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ করে দিতে টোকেন চালু করে পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা। এতে এক শ্রেণীর শ্রমিক নেতা ও পুলিশের পকেট ভারী হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চালক ও মালিকেরা। বিআরটিএ’র তথ্য মতে, রেজিষ্ট্রিকৃত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে ৯ হাজার ২শ ও নম্বরবিহীন রয়েছে প্রায় ১০-১২ হাজার। বিআরটিএ যথাসময়ে রেজিষ্ট্রেশন দিতে না পারায় ‘পুলিশ টোকেন’ নামে চাঁদা আদায়ের ফন্দি বের করে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিটি টোকেনের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে ১ থেকে দেড় কোটি টাকা সিএনজি চালকদের কাছ থেকে নিচ্ছে শ্রমিক নেতারা। একটি নতুন সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নে ভর্তি ফি বাবদ চালকদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। জেলার ছয় উপজেলায় নম্বরবিহীন সিএনজি গাড়ীগুলো টোকেন ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নম্বরবিহীন এসব সিএনজি অটোরিকশাগুলো অপরাধমূলক কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। নম্বর না থাকায় অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে তারা। যার ফলে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না এসব চতুর অপরাধীদেরকে। এদিকে রেজিষ্ট্রেশনকৃত সিএনজি অটোরিকশাগুলোও মহাসড়ক পারাপারে পুলিশি হয়রানির শিকার থেকে বাঁচতে টোকেন ব্যবহার করছে। আবার কিছু কিছু সিএনজি চালক সিএনজি’র রেজিষ্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নবায়ন করছে না। টোকেন দিয়ে চলছে। টোকেন ছাড়া রাস্তায় উঠলে সিএনজি অটোরিকশা চালকদেরকে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতি মাসে ওই টোকেনের টাকার একটি বড় অংশ পায় ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ। থানার ক্যাশিয়ারেরা শ্রমিক নেতাদের কাছ থেকে টোকেনের টাকা সংগ্রহ করে। টোকেন থাকার পরও হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির নানান হয়রানির শিকার হতে হয় চালকেরা। গাড়ী আটক করে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মামলা দিয়ে দেয়। ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ি আটক করলে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান,ফেনী সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মানিকের কাছ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করে ৫শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। জেলা দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের সিএনজি টোকেনগুলো মানিক বিতরণ করে। মহিপাল থেকে দাগনভূঞা অঞ্চলে টোকেন বিক্রি করে জাহাঙ্গীর। ফেনী শহরের শিশু নিকেতন স্ট্যান্ড থেকে গুণবতী, লাটিমি, পদুয়া, মোহাম্মদ আলী, শর্শদি, আমতলী, আমিন বাজার এসব এলাকা টোকেনে ৩ থেকে ৪ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলে। শহরের মডেল হাই স্কুলের সামনে থেকে কালিদহ, লস্করহাট ও সোনাগাজী অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজারের মতো টোকেনে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। নবী ওরফে ঢাকাইয়া নবী এ অঞ্চলের চালকদের কাছে টোকেন বিক্রি করেন। মহিপাল স্ট্যান্ড থেকে দাগনভূঞা, বসুরহাট, বেকের বাজার, সিলোনিয়া, রাজাপুর, কোরাইশমুন্সী, দরবেশেরহাট এলাকাগুলোতে ৫ থেকে ৬ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলে টোকেনে। সার্কিট হাউস থেকে বালিগাঁও, সুন্দরপুর ও মধুয়াইতে ৮শ থেকে ১ হাজার সিএনজি অটো রিকশা টোকেনে চলাচল করে। এসব টোকেনে টাকা সংগ্রহ করেন মোঃ হানিফ ও জাহাঙ্গীর, হানিফের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুই জানান বলে জানান, কিন্তু সিএনজি চালকেরা জানায়,হানিফ তাদের কাছে থেকে টোকেনের টাকা নেয়। শহীদ মার্কেটের সামনে থেকে ছাগলনাইয়া রুটে ১৫শ থেকে ২ হাজার সিএজি অটোরিকশা টোকেনে চলাচল করে। পোস্ট অফিস এর সামনে থেকে ফুলগাজী রুটেও ১৫শ থেকে ২ হাজার সিএজি অটোরিকশা চলাচল করে টোকেনে। এছাড়াও ফেনী-পরশুরাম সড়কে ৩ থেকে ৪ হাজার অটোরিকশা টোকেনে চলাচল করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাগে ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়াও বছর শেষে নবায়ন ফি বাবদ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। আর টোকেনে প্রতি বছর যাচ্ছে ৬ হাজার টাকা। এ তারা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ নেই। অনেকের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ও রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করে টোকেন দিয়ে চালান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক নেতারা জানান, ট্রাফিক এর প্রধান মুন্সী কালাম ও বিভিন্ন থানার ক্যাশিয়ারেরা তাদের কাছ থেকে টোকেনের টাকা নিয়ে যায়। সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সম্পাদক মানিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। ফেনী জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন হাজারী জানান, শ্রমিক সংগঠনের নামে এক শ্রেণীর লোকেরা চাঁদা আদায় করছে বলে তিনি শুনেছেন। এসব সংগঠনের কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৯১ সালের রেজিষ্ট্রেশন নম্বরে একটি মাত্র শ্রমিক সংগঠনের রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে। ফেনী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো: আলাউদ্দিন জানান, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ওসি আবদুল আউয়াল জানান, হাইওয়ে পুলিশ এসব টোকেন বাণিজ্যের সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন তিনি। বিআরটিএ’র পরিদর্শক মাহবুবে রাব্বানী জানান,সিএনজি অটোরিক্সা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। এতে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। টোকেনযুক্ত নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে সভায় আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে। ফেনীর নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান জানান, কোনরকম চাঁদাবাজী বরদাশত করা হবে না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সুবর্ণচরের থানার হাটে শর্ট ক্রীজ রৌপ্যকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

» ফেনীতে বিষাক্ত সাপের দংশনে যুবকের মৃত্যু

» কবিরহাটে চোরাই মোটর সাইকেলসহ ছাত্রলীগ সভাপতি র‍্যাবের হাতে আটক

» সেনবাগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

» চাটখিলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

» বাবার দেয়া বাইকেই প্রাণ গেল কলেজ পড়ুয়া ছেলের

» এখনো অধরা সুবর্ণচরে কিশোরী গণধর্ষণের সে ধর্ষকরা

» কোম্পানীগঞ্জে সিএনজি চাপায় ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

» আবারো সেই সুবর্ণচর, এবার গণধর্ষনের শিকার ১৪ বছরের কিশোরী

» রামগঞ্জে বাল্য বিয়ের প্রস্তুতির দায়ে কনের অর্থদন্ড

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

ফেনীতে সিএনজি অটোরিকশায় কোটি কোটি টাকা টোকেন বানিজ্য

 

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী:
ফেনীতে সিএনজি অটোরিক্সায় টোকেন বিক্রি করে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আদায় করছে সিএনজি চালক মালিক সমিতি নামে ভূঁইফোড় সংগঠনের নেতারা। এর ফলে প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। শ্রমিক নেতারা টোকেনের টাকার একটি বড় অংশ পুলিশের পকেটে যাওয়ার দাবী করলেও তবে পুলিশ এসব অস্বীকার করছে। সিএনজি অটোরিকশা মালিকরা জানান, মহাসড়কে ফেনীর ২৫ কিলোমিটার ও কুমিল্লার লাটিমি, বাতিসা, চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ফেনীতে যাতায়াত করে। বর্তমানে মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কারনে বিপাকে পড়ে মহাসড়কের পাশের এলাকার বাসিন্দারা। সিএনজি অটোরিকশাগুলো মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ করে দিতে টোকেন চালু করে পুলিশ ও শ্রমিক নেতারা। এতে এক শ্রেণীর শ্রমিক নেতা ও পুলিশের পকেট ভারী হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চালক ও মালিকেরা। বিআরটিএ’র তথ্য মতে, রেজিষ্ট্রিকৃত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে ৯ হাজার ২শ ও নম্বরবিহীন রয়েছে প্রায় ১০-১২ হাজার। বিআরটিএ যথাসময়ে রেজিষ্ট্রেশন দিতে না পারায় ‘পুলিশ টোকেন’ নামে চাঁদা আদায়ের ফন্দি বের করে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিটি টোকেনের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে ১ থেকে দেড় কোটি টাকা সিএনজি চালকদের কাছ থেকে নিচ্ছে শ্রমিক নেতারা। একটি নতুন সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নে ভর্তি ফি বাবদ চালকদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। জেলার ছয় উপজেলায় নম্বরবিহীন সিএনজি গাড়ীগুলো টোকেন ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নম্বরবিহীন এসব সিএনজি অটোরিকশাগুলো অপরাধমূলক কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। নম্বর না থাকায় অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে তারা। যার ফলে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না এসব চতুর অপরাধীদেরকে। এদিকে রেজিষ্ট্রেশনকৃত সিএনজি অটোরিকশাগুলোও মহাসড়ক পারাপারে পুলিশি হয়রানির শিকার থেকে বাঁচতে টোকেন ব্যবহার করছে। আবার কিছু কিছু সিএনজি চালক সিএনজি’র রেজিষ্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নবায়ন করছে না। টোকেন দিয়ে চলছে। টোকেন ছাড়া রাস্তায় উঠলে সিএনজি অটোরিকশা চালকদেরকে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতি মাসে ওই টোকেনের টাকার একটি বড় অংশ পায় ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ। থানার ক্যাশিয়ারেরা শ্রমিক নেতাদের কাছ থেকে টোকেনের টাকা সংগ্রহ করে। টোকেন থাকার পরও হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির নানান হয়রানির শিকার হতে হয় চালকেরা। গাড়ী আটক করে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মামলা দিয়ে দেয়। ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ি আটক করলে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান,ফেনী সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মানিকের কাছ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করে ৫শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। জেলা দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের সিএনজি টোকেনগুলো মানিক বিতরণ করে। মহিপাল থেকে দাগনভূঞা অঞ্চলে টোকেন বিক্রি করে জাহাঙ্গীর। ফেনী শহরের শিশু নিকেতন স্ট্যান্ড থেকে গুণবতী, লাটিমি, পদুয়া, মোহাম্মদ আলী, শর্শদি, আমতলী, আমিন বাজার এসব এলাকা টোকেনে ৩ থেকে ৪ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলে। শহরের মডেল হাই স্কুলের সামনে থেকে কালিদহ, লস্করহাট ও সোনাগাজী অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজারের মতো টোকেনে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। নবী ওরফে ঢাকাইয়া নবী এ অঞ্চলের চালকদের কাছে টোকেন বিক্রি করেন। মহিপাল স্ট্যান্ড থেকে দাগনভূঞা, বসুরহাট, বেকের বাজার, সিলোনিয়া, রাজাপুর, কোরাইশমুন্সী, দরবেশেরহাট এলাকাগুলোতে ৫ থেকে ৬ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলে টোকেনে। সার্কিট হাউস থেকে বালিগাঁও, সুন্দরপুর ও মধুয়াইতে ৮শ থেকে ১ হাজার সিএনজি অটো রিকশা টোকেনে চলাচল করে। এসব টোকেনে টাকা সংগ্রহ করেন মোঃ হানিফ ও জাহাঙ্গীর, হানিফের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুই জানান বলে জানান, কিন্তু সিএনজি চালকেরা জানায়,হানিফ তাদের কাছে থেকে টোকেনের টাকা নেয়। শহীদ মার্কেটের সামনে থেকে ছাগলনাইয়া রুটে ১৫শ থেকে ২ হাজার সিএজি অটোরিকশা টোকেনে চলাচল করে। পোস্ট অফিস এর সামনে থেকে ফুলগাজী রুটেও ১৫শ থেকে ২ হাজার সিএজি অটোরিকশা চলাচল করে টোকেনে। এছাড়াও ফেনী-পরশুরাম সড়কে ৩ থেকে ৪ হাজার অটোরিকশা টোকেনে চলাচল করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএনজি চালকরা জানান, সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাগে ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়াও বছর শেষে নবায়ন ফি বাবদ ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। আর টোকেনে প্রতি বছর যাচ্ছে ৬ হাজার টাকা। এ তারা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ নেই। অনেকের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ও রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করে টোকেন দিয়ে চালান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক নেতারা জানান, ট্রাফিক এর প্রধান মুন্সী কালাম ও বিভিন্ন থানার ক্যাশিয়ারেরা তাদের কাছ থেকে টোকেনের টাকা নিয়ে যায়। সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সম্পাদক মানিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। ফেনী জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন হাজারী জানান, শ্রমিক সংগঠনের নামে এক শ্রেণীর লোকেরা চাঁদা আদায় করছে বলে তিনি শুনেছেন। এসব সংগঠনের কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৯১ সালের রেজিষ্ট্রেশন নম্বরে একটি মাত্র শ্রমিক সংগঠনের রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে। ফেনী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো: আলাউদ্দিন জানান, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ওসি আবদুল আউয়াল জানান, হাইওয়ে পুলিশ এসব টোকেন বাণিজ্যের সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন তিনি। বিআরটিএ’র পরিদর্শক মাহবুবে রাব্বানী জানান,সিএনজি অটোরিক্সা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। এতে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। টোকেনযুক্ত নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে সভায় আলোচনা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে। ফেনীর নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান জানান, কোনরকম চাঁদাবাজী বরদাশত করা হবে না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd