ADS170638-2

রোহিঙ্গা বসতি বিতর্ক- ১, চিন্তিত নোয়াখালীবাসি

আনোয়ারবারী পিন্টু : অপরাধ কবলিত রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে শংকিত হয়ে উঠেছে সাধারণ জনগন। আর এর মাধ্যমে নোয়াখালীকে অস্থির করে তুলবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এ জেলায় স্থানান্তর করা হলে এখানেও সামাজিক এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটবে। শান্তির নোয়াখালী অশান্ত হয়ে পড়বে। এ জেলায় মাদক, অস্ত্র ও চোরা কারবারীর রাজত্ব কায়েম হবে। চরাঞ্চলে বিগত বছর গুলোতে বন ও জলদস্যুদের উৎপাতে স্থানীয় অধিবাসিরা এমনিতেই অতিষ্ট। সর্বদলীয়ভাবে দস্যুদের দমন করার পর চরাঞ্চলের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। এখন রোহিঙ্গাদের বসতিত গড়া হলে পূনরায় এখানে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। বিশ্লেষনে আরো উঠে আসে, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নোয়াখালীতে হলে উপকূলীয় চরাঞ্চলে লক্ষাধিক ভূমিহীন পরিবার ব্যপক ক্ষতির মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে যারা সরকারি খাস ভূমিতে বসবাস করছেন। এমন সিদ্ধান্তে এ উপকূলীয় চরাঞ্চলে নিধন হবে বন, হারাবে সম্পত্তি, ধংস হবে মৎস্য সম্পদ, হারিয়ে যাবে শষ্য ভান্ডারের নামটিও। বাধাগ্রস্থ হবে অর্থনৈতিক এরিয়া নির্মাণেন সকল প্রচেষ্টা। জানা যায়, সরকারি তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজারে দুটি শরণার্থী ক্যাম্পে ৩২ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন। এর বাইরে পাঁচলাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে বলে সরকারের হিসাব বলছে। বর্তমানে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের সর্বাধিক সহিংসতা ও অপরাধের নায়ক। এরা বেশীরভাগই নানা অপরাধের সাথে জড়িত। রোহিঙ্গাদের অপরাধ সংগঠিত করেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এছাড়াও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিশ্ব তোলপাড় করা মানবপাচারের নেপথ্য নায়কও এই রোহিঙ্গারা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এরাই সর্বপ্রথস মানবপাচারের রুট আবিষ্কার করে। এরপর অর্থের বিনিময়ে শ্রমিকদের উত্থাল সাগরে ভাসিয়ে দেয়। মুক্তিপণ না দিতে পারায় এই রোহিঙ্গাদের হাতেই জীবন দিতে হয়েছে অসংখ্য শ্রমিকদের। নৌকা থেকে জোর করে ফেলে দিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করা, না খাইয়ে অভুক্ত রেখে হত্যা করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও অন্য যারা আছে তাদের মধ্যেই সবাই নি¤œমানের জীবন চর্চা করে। তাদের অনেকেরই পেশা ভবঘুরে জীবিকা। অন্যরা কেউ রিক্সা চালায়, কেউ গাছের গুঁড়ি টানে, কেউ মাছ ধরে, কেউ জুতা সেলাইয়ের কাজ করে। এদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষনের অভিযোগও বিস্তর। মিয়ানমার থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে এরা অভুক্ত ও আধমরা হয়ে দেশে প্রবশ করে। মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসতে পারলেই এরা আরো ভয়ংকর হয়ে উঠে। তারা মনে করে, মরে তো গেলামই যতদিন বাঁচি মনের জালা মিটিয়ে বাঁচবো। তাদের এই জালা মিটাতেই এতোদিন কক্সবাজার এবং এর অধিবাসীরা শংকিত ছিলো। এবার সেই জালা মেটাতে নোয়াখালীকেই জোগান দিতে হবে। হঠাৎ করেই সরকারী সিদ্ধান্ত তাদেরকে নোয়াখালীর হাতিয়া নিয়ে আসা হবে। অনেকের ধারনা, নোয়াখালীর জনমতকে আরো তীব্র করতেই সরকারের সংশ্লিষ্টদের ভুল বুঝিয়ে এই কাজটি করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যদের ভুল তথ্য দিয়ে রোহিঙ্গা দিয়ে নোয়াখালীকে অস্থির করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কেননা এরা এসেই পুরো নোয়াখালীতে ছড়িয়ে যাবে এবং নানা অপরাধে লিপ্ত হয়ে নোয়াখালীকে বিষিয়ে তুলবে। মানুষকে অশান্ত করে তুলবে। আইনশৃঙ্খলার অবনিত ঘটবে চরমভাবে। তাই নোয়াখালী বাসীর দাবী অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। (চলবে)

 

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সোনাইমুড়ীতে একুশে পরিবহনের ধাক্কায় ৩ মোটর বাইক আরোহী নিহত

» চৌমুহনীতে অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই, শত কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির আশংকা

» পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফেলতি মুছাপুর রেগুলেটর বন্ধ: জলাবদ্ধতায় কৃষকের মাথায় হাত

» চাটখিলের কৃতি সন্তান ড. আজাদ বুলবুলের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন

» সোনাইমুড়ীতে স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় ইউপি সদস্য আটক

» সেনবাগে ১টি কুকুরের কামড়ে আহত ১৭

» বিআরটিসির এস্টেট অফিসার হিসেবে যোগদান করলেন কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান আজগর

» রামগঞ্জের শাহাদাত হোসেন সেলিম সহ ৪ এলডিপি নেতা বিএনপিতে ফিরছেন

» অবশেষে ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেছে

» ব্যরিস্টার মওদুদের বিরুদ্ধে নিজ এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

রোহিঙ্গা বসতি বিতর্ক- ১, চিন্তিত নোয়াখালীবাসি

আনোয়ারবারী পিন্টু : অপরাধ কবলিত রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে শংকিত হয়ে উঠেছে সাধারণ জনগন। আর এর মাধ্যমে নোয়াখালীকে অস্থির করে তুলবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এ জেলায় স্থানান্তর করা হলে এখানেও সামাজিক এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটবে। শান্তির নোয়াখালী অশান্ত হয়ে পড়বে। এ জেলায় মাদক, অস্ত্র ও চোরা কারবারীর রাজত্ব কায়েম হবে। চরাঞ্চলে বিগত বছর গুলোতে বন ও জলদস্যুদের উৎপাতে স্থানীয় অধিবাসিরা এমনিতেই অতিষ্ট। সর্বদলীয়ভাবে দস্যুদের দমন করার পর চরাঞ্চলের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। এখন রোহিঙ্গাদের বসতিত গড়া হলে পূনরায় এখানে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে। বিশ্লেষনে আরো উঠে আসে, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নোয়াখালীতে হলে উপকূলীয় চরাঞ্চলে লক্ষাধিক ভূমিহীন পরিবার ব্যপক ক্ষতির মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে যারা সরকারি খাস ভূমিতে বসবাস করছেন। এমন সিদ্ধান্তে এ উপকূলীয় চরাঞ্চলে নিধন হবে বন, হারাবে সম্পত্তি, ধংস হবে মৎস্য সম্পদ, হারিয়ে যাবে শষ্য ভান্ডারের নামটিও। বাধাগ্রস্থ হবে অর্থনৈতিক এরিয়া নির্মাণেন সকল প্রচেষ্টা। জানা যায়, সরকারি তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজারে দুটি শরণার্থী ক্যাম্পে ৩২ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন। এর বাইরে পাঁচলাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে বলে সরকারের হিসাব বলছে। বর্তমানে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের সর্বাধিক সহিংসতা ও অপরাধের নায়ক। এরা বেশীরভাগই নানা অপরাধের সাথে জড়িত। রোহিঙ্গাদের অপরাধ সংগঠিত করেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এছাড়াও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিশ্ব তোলপাড় করা মানবপাচারের নেপথ্য নায়কও এই রোহিঙ্গারা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এরাই সর্বপ্রথস মানবপাচারের রুট আবিষ্কার করে। এরপর অর্থের বিনিময়ে শ্রমিকদের উত্থাল সাগরে ভাসিয়ে দেয়। মুক্তিপণ না দিতে পারায় এই রোহিঙ্গাদের হাতেই জীবন দিতে হয়েছে অসংখ্য শ্রমিকদের। নৌকা থেকে জোর করে ফেলে দিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করা, না খাইয়ে অভুক্ত রেখে হত্যা করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও অন্য যারা আছে তাদের মধ্যেই সবাই নি¤œমানের জীবন চর্চা করে। তাদের অনেকেরই পেশা ভবঘুরে জীবিকা। অন্যরা কেউ রিক্সা চালায়, কেউ গাছের গুঁড়ি টানে, কেউ মাছ ধরে, কেউ জুতা সেলাইয়ের কাজ করে। এদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষনের অভিযোগও বিস্তর। মিয়ানমার থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে এরা অভুক্ত ও আধমরা হয়ে দেশে প্রবশ করে। মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসতে পারলেই এরা আরো ভয়ংকর হয়ে উঠে। তারা মনে করে, মরে তো গেলামই যতদিন বাঁচি মনের জালা মিটিয়ে বাঁচবো। তাদের এই জালা মিটাতেই এতোদিন কক্সবাজার এবং এর অধিবাসীরা শংকিত ছিলো। এবার সেই জালা মেটাতে নোয়াখালীকেই জোগান দিতে হবে। হঠাৎ করেই সরকারী সিদ্ধান্ত তাদেরকে নোয়াখালীর হাতিয়া নিয়ে আসা হবে। অনেকের ধারনা, নোয়াখালীর জনমতকে আরো তীব্র করতেই সরকারের সংশ্লিষ্টদের ভুল বুঝিয়ে এই কাজটি করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যদের ভুল তথ্য দিয়ে রোহিঙ্গা দিয়ে নোয়াখালীকে অস্থির করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কেননা এরা এসেই পুরো নোয়াখালীতে ছড়িয়ে যাবে এবং নানা অপরাধে লিপ্ত হয়ে নোয়াখালীকে বিষিয়ে তুলবে। মানুষকে অশান্ত করে তুলবে। আইনশৃঙ্খলার অবনিত ঘটবে চরমভাবে। তাই নোয়াখালী বাসীর দাবী অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। (চলবে)

 

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd