ADS170638-2

যদি শিরোনাম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা!

জয়নাল আবেদীনঃ

প্রবাসের শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের তরফে নানান কথা শোনা যায়। কিন্তু কখনও প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কেউ কথা বলে না। এমনকি ভয়ংকর কোনো ঘটনা ঘটলেও আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘুম ভাঙে না!

অনেক কারণে মালয়েশিয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। বিশেষ করে প্রতারণার কথা এলে। সেখানে প্রবাসীরা কেবলই ঠকছে। রাঘববোয়ালদের কাছে লাখ লাখ প্রবাসী জিম্মি।

আপনি যখন প্রবাসী ইস্যুতে সৌদি আরবের নাম শুনবেন, ভেবে নেবেন শারীরিক বা পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা। সৌদির লেবাসধারীরা প্রবাসী নারীদের নিয়ে রীতিমতো খেলে বেড়াচ্ছে খুবই নির্বিঘ্নে!

আরব আমিরাত বা মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের প্রসঙ্গও মাঝে মধ্যে আলোচনায় আসে। প্রবাসীরা ভালো নেই।

তবে শিরোনামে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা, ভেবে নেবেন নিশ্চিত কোনো খুন-খারাবি! আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা সেখানে নিরাপদ নন। সর্বশেষ শিকার মিরসরাইয়ের লাভলু নামে এক যুবক। কি তরতাজা, কি প্রাণবন্ত চেহারা! নিমিষেই শেষ!

কত স্বপ্ন ছিলো বিদেশের মাটিতে কামাই করে দেশে ফিরবেন। পরিবারের স্বজনদের বুকে ফিরবেন। অথচ ফিরলেন লাশ হয়ে! তার পরিবারে এখন কি অবস্থা ভেবে দেখেছেন? সন্তান হারানোর বেদনা কত ভয়ংকর আমরা অনেকেই বুঝি। স্বজন হারানোর তীব্র যন্ত্রণা সারাজীবন কুড়ে কুড়ে খায়। আর সেই স্বজন যদি হয় গোটা সংসারের বাতি, তাহলে তো তাদের পুরো পৃথিবীই অন্ধকার।

খুব বিস্ময়কর হলো, দক্ষিণ আফ্রিকায় যে এতগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো, একটিরও কি বিচার হয়েছে? সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ আছে। হত্যাকারীকে দেখা যাচ্ছে। এত ক্লু সত্ত্বেও সেখানকার প্রশাসন, আইন-আদালতের ভূমিকা কি? আমাদের হাইকমিশনেরই বা কোনো তৎপরতা রয়েছে কি না?

শুনেছি কেউ মারা গেলে মানে খুন হলে বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজন সবার থেকে টাকা উঠিয়ে কোনমতে মরদেহ দেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত করে। কিন্তু ওই ব্যক্তির কোনো স্বজন যেহেতু সেখানে নেই, কিংবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে ঘটনার বিচার চাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই, সে জন্য এসব খুনের ঘটনাগুলো চাপাই পড়ে থাকে!

আমাদের দেশে কোনো প্রবাসী খুন হলে ওই দেশ কি ছাড় দেবে? বিচার চাইবে না? তাদের হাইকমিশন তৎপর হবে না? নিশ্চয়ই হবে। তাহলে আমার দেশের সোনার ছেলেরা এভাবে রক্ত ঝরিয়ে প্রাণ হারালে সেই দেশে এর বিচার নেই কেন?

এক-দুটি নয়, অনেকগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসীরা চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে। অসহায় তাদের পরিবারগুলোও। তাদের স্বজনেরা দিন-রাত পার করছেন অজানা আশংকায়। না জানি তাদের বুকের ধন কোনদিন খুনির পিস্তলের সামনে পড়ে যায়! এই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীদের মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ।

সুতরাং এখন সময় এসেছে আমাদের কিছু করার। আমাদের রাষ্ট্রকে অবশ্যই জাগতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত, এই ঘটনাগুলোর বিচার চাওয়ার। দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনে সমঝোতা-চুক্তি করতে হবে। ওই নিগ্রোদের কেউ ব্যবহার করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। এমনও তো হতে পারে, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের শোধ নিতে নিগ্রোদের ব্যবহার করা হচ্ছে! বিচার যেহেতু হচ্ছে না, পার পেয়ে যাবার সুযোগ চাইলে যে কেউই নিতে পারছে!

(লিখাটি সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের পেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া)

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» চাটখিলে নাইট শর্ট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরন

» সোনাইমুড়িতে এশিয়ান টিভির ৭ম বর্ষপূর্তি পালিত

» পাকিস্তান সফরে জাতীয় দলে ডাক পেলেন লক্ষ্মীপুরের ক্রিকেটার হাসান

» সোনাইমুড়ীতে শীতার্তদের পাশে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারি জাহাঙ্গীর আলম

» ফেনীতেের আল্লাহ রাসুলের নাম খচিত ভাস্কর্য দৃষ্টি কেড়েছে সবার

» নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির এলাকা পরিচালক ১ এর নির্বাচন স্থগিত করেছে আদালত

» নোয়াখালীর ৬ যুবকসহ সারদেশের ৩১ জনকে ফেরত পাঠালো আমেরিকা

» চাটখিলে ওয়াজে মিজানুর রহমান আযহারীর সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়ে বিপাকে মুফতি আছেম

» কবিরহাটে ডিবির হাতে ১৫ জুয়াড়ি আটক

» সুবর্ণচরে স্কুল উদ্ধোধনে চেয়ারম্যানকে সভাপতি না করায় প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করলেন চেয়ারমান

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

যদি শিরোনাম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা!

জয়নাল আবেদীনঃ

প্রবাসের শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের তরফে নানান কথা শোনা যায়। কিন্তু কখনও প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কেউ কথা বলে না। এমনকি ভয়ংকর কোনো ঘটনা ঘটলেও আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘুম ভাঙে না!

অনেক কারণে মালয়েশিয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। বিশেষ করে প্রতারণার কথা এলে। সেখানে প্রবাসীরা কেবলই ঠকছে। রাঘববোয়ালদের কাছে লাখ লাখ প্রবাসী জিম্মি।

আপনি যখন প্রবাসী ইস্যুতে সৌদি আরবের নাম শুনবেন, ভেবে নেবেন শারীরিক বা পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা। সৌদির লেবাসধারীরা প্রবাসী নারীদের নিয়ে রীতিমতো খেলে বেড়াচ্ছে খুবই নির্বিঘ্নে!

আরব আমিরাত বা মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের প্রসঙ্গও মাঝে মধ্যে আলোচনায় আসে। প্রবাসীরা ভালো নেই।

তবে শিরোনামে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা, ভেবে নেবেন নিশ্চিত কোনো খুন-খারাবি! আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা সেখানে নিরাপদ নন। সর্বশেষ শিকার মিরসরাইয়ের লাভলু নামে এক যুবক। কি তরতাজা, কি প্রাণবন্ত চেহারা! নিমিষেই শেষ!

কত স্বপ্ন ছিলো বিদেশের মাটিতে কামাই করে দেশে ফিরবেন। পরিবারের স্বজনদের বুকে ফিরবেন। অথচ ফিরলেন লাশ হয়ে! তার পরিবারে এখন কি অবস্থা ভেবে দেখেছেন? সন্তান হারানোর বেদনা কত ভয়ংকর আমরা অনেকেই বুঝি। স্বজন হারানোর তীব্র যন্ত্রণা সারাজীবন কুড়ে কুড়ে খায়। আর সেই স্বজন যদি হয় গোটা সংসারের বাতি, তাহলে তো তাদের পুরো পৃথিবীই অন্ধকার।

খুব বিস্ময়কর হলো, দক্ষিণ আফ্রিকায় যে এতগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো, একটিরও কি বিচার হয়েছে? সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ আছে। হত্যাকারীকে দেখা যাচ্ছে। এত ক্লু সত্ত্বেও সেখানকার প্রশাসন, আইন-আদালতের ভূমিকা কি? আমাদের হাইকমিশনেরই বা কোনো তৎপরতা রয়েছে কি না?

শুনেছি কেউ মারা গেলে মানে খুন হলে বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজন সবার থেকে টাকা উঠিয়ে কোনমতে মরদেহ দেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত করে। কিন্তু ওই ব্যক্তির কোনো স্বজন যেহেতু সেখানে নেই, কিংবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে ঘটনার বিচার চাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই, সে জন্য এসব খুনের ঘটনাগুলো চাপাই পড়ে থাকে!

আমাদের দেশে কোনো প্রবাসী খুন হলে ওই দেশ কি ছাড় দেবে? বিচার চাইবে না? তাদের হাইকমিশন তৎপর হবে না? নিশ্চয়ই হবে। তাহলে আমার দেশের সোনার ছেলেরা এভাবে রক্ত ঝরিয়ে প্রাণ হারালে সেই দেশে এর বিচার নেই কেন?

এক-দুটি নয়, অনেকগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসীরা চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে। অসহায় তাদের পরিবারগুলোও। তাদের স্বজনেরা দিন-রাত পার করছেন অজানা আশংকায়। না জানি তাদের বুকের ধন কোনদিন খুনির পিস্তলের সামনে পড়ে যায়! এই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীদের মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ।

সুতরাং এখন সময় এসেছে আমাদের কিছু করার। আমাদের রাষ্ট্রকে অবশ্যই জাগতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত, এই ঘটনাগুলোর বিচার চাওয়ার। দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনে সমঝোতা-চুক্তি করতে হবে। ওই নিগ্রোদের কেউ ব্যবহার করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। এমনও তো হতে পারে, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের শোধ নিতে নিগ্রোদের ব্যবহার করা হচ্ছে! বিচার যেহেতু হচ্ছে না, পার পেয়ে যাবার সুযোগ চাইলে যে কেউই নিতে পারছে!

(লিখাটি সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের পেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া)

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd