ADS170638-2

নোয়াখালীর সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক

দীপু সরোয়ারঃ

মোহাম্মদ আলী, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দল বদল আর দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে টিকে থাকা এক আওয়ামী লীগ নেতা।ভূমিহীন সেজে সরকারি খাস জমি নিজের এবং পরিবারের নামে বন্দোবস্ত নেওয়া মোহাম্মদ আলী ঠিক কত টাকার মালিক, তার অনুসন্ধান এখনও শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধানে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী, হাতিয়ার বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস, তিন সন্তান ও দুই শ্যালকের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
একটি পৌরসভা (হাতিয়া) ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৬ আসন। হাতিয়া দ্বীপের তমরুদ্দিন ঘাট থেকে জাহাজমারা চর, আর নিঝুম দ্বীপের মৌলভীচর, কমলাদীঘি থেকে সূর্যমুখী পর্যন্ত মোহাম্মদ আলীর রয়েছে অঢেল সম্পদ, প্রভাব আর প্রতিপত্তি। তিনটি হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ তার সন্তানরা ব্যবসা করেন এবং তাদের সবার ইনকাম ট্যাক্স ফাইলও আছে বলে জানান তিনি।
গত ৫ মে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, বনভূমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোহাম্মদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নেতৃত্ব দেন দুদক উপপরিচালক সেলিনা আক্তার মনি। টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন— সহকারী পরিচালক সিফাত উদ্দিন ও উপসহকারী পরিচালক শিহাব সালাম। এর আগে ২৮ এপ্রিল তাকে তলবি নোটিশ পাঠানো হয়।
দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বিষয়ে অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এখন প্রাপ্ত তথ্যের পর্যালোচনা চলছে। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুদকের অনুসন্ধানে মোহাম্মদ আলী পরিবারের যত সম্পদ
১. রাজধানীর ধানমন্ডিতে চার কাঠা জমিতে পাঁচ তলা বাড়ি
২. হাতিয়ায় ইশিতা নামে পাঁচ তলা আবাসিক হোটেল
৩. হাতিয়ায় ৪০ বিঘা জমি
৪. গাজীপুরে চার বিঘা জমি
৫. পূর্বাচলে তিন বিঘা জমি
৬. ইসলামী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর
৭. শেয়ার বাজারে শত কোটি টাকার বিনিয়োগ
৮. চৌমুহনী বাজারের দুই পাশে খাল দখল করে দু’টি মার্কেট
৯. আসকা বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে আরও একটি মার্কেট
দুদকের তথ্য বলছে, হাতিয়া পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের টেন্ডার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন মোহাম্মদ আলী এবং তার পরিবার।
ভূমিহীনদের সম্পদ দখল
দুদকের নথি থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে নদী ভাঙনে সব হারিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ হাতিয়া বাজারের ভূমি অফিস সংলগ্ন খাস জমিতে আশ্রয় নেন এবং বসবাস শুরু করেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হয়। এরপর ভূমি অফিসের মাধ্যমে ওই জমি লিজ নেন মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভূমি অফিসের নথি অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে হাতিয়া বাজারের খাস জমিকে কৃষি খাস জমি হিসেবে উল্লেখ করে ৯৯ বছরের বন্দোবস্তের (লিজ) জন্য আবেদন করা হয়। তবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে এক বছরের জন্য।
এ জমি বন্দোবস্ত নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ আলী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৯৩), তার স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮৬), ছেলে মাহতাব আলী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮১) , আশিক আলী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮২), মেয়ে সুমাইয়া আলী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮৩), শ্যালক ছাইফুর রহমান চৌধুরী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮৪) ও ফরিদুজ্জামান (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮৫) ও ছেলের বউ নাঈমা সুলতানা (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৯৪)। বন্দোবস্ত নেওয়ার সময় মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস তার স্বামীর পরিচয় উল্লেখ না করে বাবার নাম ব্যবহার করেন। ছেলের বউ নাঈমা সুলতানাও তার স্বামীর নাম উল্লেখ না করে বাবার নাম ব্যবহার করেন। এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে খাস জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউসকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
রাজনীতিতে মোহাম্মদ আলী
ছাত্রজীবনে বামপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে যোগ দেন যুবদলে। সেখান থেকে জাতীয় পার্টি। ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হন মোহাম্মদ আলী। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন, তবে হেরে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান। তবে ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। সেবার তার স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং হেরে যান। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন আয়েশা।
তিন হত্যা মামলার আসামি
যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, হাতিয়া কলেজের প্রভাষক আশরাফ উদ্দিন খুন হন ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। একই বছরের ১৩ এপ্রিল খুন হন চরকিং ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা নুর হোসেন। আর একই বছরের ৩০ আগস্ট খুন হন সোনাদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন। হাতিয়ার চাঞ্চল্যকর এই তিন হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী। আধিপত্য আর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই তিন ব্যক্তি খুনের শিকার হন। তিনটি হত্যা মামলার কোনোটিতেই জামিন নেননি মোহাম্মদ আলী। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসন কেউই তার টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেন না।
২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভাঙচুর হয় হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শিল্পপতি মাহমুদ আলী রাতুলের বাসভবন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায়ও আসামি ছিলেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে বাদ যায় তার নাম।

নিউজ ক্রেডিটঃ বাংলা ট্রবিউন।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগে সোনাইমুড়ির পৌর মেয়র বরখাস্ত

» কোম্পানীগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবক খুন

» সুবর্ণচরের থানার হাটে শর্ট ক্রীজ রৌপ্যকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

» ফেনীতে বিষাক্ত সাপের দংশনে যুবকের মৃত্যু

» কবিরহাটে চোরাই মোটর সাইকেলসহ ছাত্রলীগ সভাপতি র‍্যাবের হাতে আটক

» সেনবাগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

» চাটখিলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

» বাবার দেয়া বাইকেই প্রাণ গেল কলেজ পড়ুয়া ছেলের

» এখনো অধরা সুবর্ণচরে কিশোরী গণধর্ষণের সে ধর্ষকরা

» কোম্পানীগঞ্জে সিএনজি চাপায় ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

নোয়াখালীর সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক

দীপু সরোয়ারঃ

মোহাম্মদ আলী, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দল বদল আর দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে টিকে থাকা এক আওয়ামী লীগ নেতা।ভূমিহীন সেজে সরকারি খাস জমি নিজের এবং পরিবারের নামে বন্দোবস্ত নেওয়া মোহাম্মদ আলী ঠিক কত টাকার মালিক, তার অনুসন্ধান এখনও শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধানে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী, হাতিয়ার বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস, তিন সন্তান ও দুই শ্যালকের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
একটি পৌরসভা (হাতিয়া) ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৬ আসন। হাতিয়া দ্বীপের তমরুদ্দিন ঘাট থেকে জাহাজমারা চর, আর নিঝুম দ্বীপের মৌলভীচর, কমলাদীঘি থেকে সূর্যমুখী পর্যন্ত মোহাম্মদ আলীর রয়েছে অঢেল সম্পদ, প্রভাব আর প্রতিপত্তি। তিনটি হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ তার সন্তানরা ব্যবসা করেন এবং তাদের সবার ইনকাম ট্যাক্স ফাইলও আছে বলে জানান তিনি।
গত ৫ মে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, বনভূমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোহাম্মদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নেতৃত্ব দেন দুদক উপপরিচালক সেলিনা আক্তার মনি। টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন— সহকারী পরিচালক সিফাত উদ্দিন ও উপসহকারী পরিচালক শিহাব সালাম। এর আগে ২৮ এপ্রিল তাকে তলবি নোটিশ পাঠানো হয়।
দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বিষয়ে অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এখন প্রাপ্ত তথ্যের পর্যালোচনা চলছে। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুদকের অনুসন্ধানে মোহাম্মদ আলী পরিবারের যত সম্পদ
১. রাজধানীর ধানমন্ডিতে চার কাঠা জমিতে পাঁচ তলা বাড়ি
২. হাতিয়ায় ইশিতা নামে পাঁচ তলা আবাসিক হোটেল
৩. হাতিয়ায় ৪০ বিঘা জমি
৪. গাজীপুরে চার বিঘা জমি
৫. পূর্বাচলে তিন বিঘা জমি
৬. ইসলামী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর
৭. শেয়ার বাজারে শত কোটি টাকার বিনিয়োগ
৮. চৌমুহনী বাজারের দুই পাশে খাল দখল করে দু’টি মার্কেট
৯. আসকা বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে আরও একটি মার্কেট
দুদকের তথ্য বলছে, হাতিয়া পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের টেন্ডার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন মোহাম্মদ আলী এবং তার পরিবার।
ভূমিহীনদের সম্পদ দখল
দুদকের নথি থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে নদী ভাঙনে সব হারিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ হাতিয়া বাজারের ভূমি অফিস সংলগ্ন খাস জমিতে আশ্রয় নেন এবং বসবাস শুরু করেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হয়। এরপর ভূমি অফিসের মাধ্যমে ওই জমি লিজ নেন মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভূমি অফিসের নথি অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে হাতিয়া বাজারের খাস জমিকে কৃষি খাস জমি হিসেবে উল্লেখ করে ৯৯ বছরের বন্দোবস্তের (লিজ) জন্য আবেদন করা হয়। তবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে এক বছরের জন্য।
এ জমি বন্দোবস্ত নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ আলী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৯৩), তার স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮৬), ছেলে মাহতাব আলী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮১) , আশিক আলী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮২), মেয়ে সুমাইয়া আলী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮৩), শ্যালক ছাইফুর রহমান চৌধুরী (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮৪) ও ফরিদুজ্জামান (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৮৫) ও ছেলের বউ নাঈমা সুলতানা (বন্দোবস্ত নথি নম্বর-১৯৪)। বন্দোবস্ত নেওয়ার সময় মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস তার স্বামীর পরিচয় উল্লেখ না করে বাবার নাম ব্যবহার করেন। ছেলের বউ নাঈমা সুলতানাও তার স্বামীর নাম উল্লেখ না করে বাবার নাম ব্যবহার করেন। এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে খাস জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউসকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
রাজনীতিতে মোহাম্মদ আলী
ছাত্রজীবনে বামপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে যোগ দেন যুবদলে। সেখান থেকে জাতীয় পার্টি। ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হন মোহাম্মদ আলী। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন, তবে হেরে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান। তবে ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। সেবার তার স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং হেরে যান। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন আয়েশা।
তিন হত্যা মামলার আসামি
যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, হাতিয়া কলেজের প্রভাষক আশরাফ উদ্দিন খুন হন ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। একই বছরের ১৩ এপ্রিল খুন হন চরকিং ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা নুর হোসেন। আর একই বছরের ৩০ আগস্ট খুন হন সোনাদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন। হাতিয়ার চাঞ্চল্যকর এই তিন হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী। আধিপত্য আর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই তিন ব্যক্তি খুনের শিকার হন। তিনটি হত্যা মামলার কোনোটিতেই জামিন নেননি মোহাম্মদ আলী। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসন কেউই তার টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেন না।
২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভাঙচুর হয় হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শিল্পপতি মাহমুদ আলী রাতুলের বাসভবন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায়ও আসামি ছিলেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে বাদ যায় তার নাম।

নিউজ ক্রেডিটঃ বাংলা ট্রবিউন।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd