ADS170638-2

মূখে কাপড় বেধে হাত কড়া পরিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করা নোয়াখালীর সেই কারারক্ষি আটক

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

নোয়াখালীতে স্ত্রীকে হাতকড়া পরিয়ে ঘরে আটকে নির্যাতনের অভিযোগে এক কারারক্ষীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার নোয়াখালী জেলা কারাগার সড়কের নুর জাহান মহল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। পরে তার স্বামী কারারক্ষী মো. মামুনকে আটক করে।
কারারক্ষী মো. মামুন চট্টগ্রামের দারোগারহাটের মো. বকুলের ছেলে। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেলা কারাগারে কর্মরত আছেন। তার স্ত্রীর (১৯) বাবার বাড়ি জামালপুরের সানাইবান্ধা গ্রামে। তবে তার বাবা-মা এখন চট্টগ্রাম শহরে থাকেন।
মামুনের স্ত্রী বলেন, মামুন দুই বছর আগে চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায় ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন মামুনের আগেও এক স্ত্রী রয়েছেন। বিয়ের পর নেশার টাকার জন্য মামুন প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। সাত মাস আগে নোয়াখালী জেলা কারাগারে বদলি হওয়ার পর থেকে তাকে হাত ও পায়ে ‘হ্যান্ডকাপ’ পরিয়ে নির্যাতন চালাতে শুরু করেন মামুন।
আশপাশের লোকজন যাতে চিৎকার না শুনতে পায় সেজন্য নির্যাতনের সময় স্ত্রীর মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখতেন মামুন। এরপরও মাঝে মধ্যে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেতেন। এ কারণে সাত মাসে অন্তত পাঁচবার বাসা বদল করেন মামুন।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী আরও বলেন, মামুন তাকে নগ্ন করে মারধরের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতেন। এমনকি পুলিশে অভিযোগ দিলে তার বাবা ও ভাইকে মাদকের মামলা দিয়ে ফাঁসানোরও হুমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে মামুন তাকে তার বাবার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এনে দিতে বলে। তিনি রাজি না হলে রাতভর নির্যাতনের পর সকালে দুইহাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে অফিসে চলে যায়।
এ ব্যপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীষা জানান, তাদের পাশের বাসার এক নারী বিষয়টি টের পেয়ে থানায় খবর দিলে জেলা কারাগার সড়কে নুর জাহান মহলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে হাতকড়া পরা ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
বিকেলে কারারক্ষী মামুনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী কারাগারের জেল সুপার মনির আহমেদ বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এর আগে মামুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ছয় মাস পর আবার কাজে যোগ দেন।
এখন এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে কারাকর্তৃপক্ষ সহায়তা করবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» নোয়াখালী আ,লীগ সম্মেলনে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত শতাধীক, সভাপতি সম্পাদক বহাল

» দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের গুলিতে আহত ফেনীর কামালের মৃত্যু

» রামগঞ্জে ভাতিজার গরম পানিতে ঝলসে গেছে চাচা

» সুবর্ণচরে পানি সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে ১ জনের মৃত্যু

» সোনাইমুড়ীতে একুশে পরিবহনের ধাক্কায় ৩ মোটর বাইক আরোহী নিহত

» চৌমুহনীতে অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই, শত কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির আশংকা

» পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফেলতি মুছাপুর রেগুলেটর বন্ধ: জলাবদ্ধতায় কৃষকের মাথায় হাত

» চাটখিলের কৃতি সন্তান ড. আজাদ বুলবুলের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন

» সোনাইমুড়ীতে স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় ইউপি সদস্য আটক

» সেনবাগে ১টি কুকুরের কামড়ে আহত ১৭

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

মূখে কাপড় বেধে হাত কড়া পরিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করা নোয়াখালীর সেই কারারক্ষি আটক

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

নোয়াখালীতে স্ত্রীকে হাতকড়া পরিয়ে ঘরে আটকে নির্যাতনের অভিযোগে এক কারারক্ষীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার নোয়াখালী জেলা কারাগার সড়কের নুর জাহান মহল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। পরে তার স্বামী কারারক্ষী মো. মামুনকে আটক করে।
কারারক্ষী মো. মামুন চট্টগ্রামের দারোগারহাটের মো. বকুলের ছেলে। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেলা কারাগারে কর্মরত আছেন। তার স্ত্রীর (১৯) বাবার বাড়ি জামালপুরের সানাইবান্ধা গ্রামে। তবে তার বাবা-মা এখন চট্টগ্রাম শহরে থাকেন।
মামুনের স্ত্রী বলেন, মামুন দুই বছর আগে চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায় ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন মামুনের আগেও এক স্ত্রী রয়েছেন। বিয়ের পর নেশার টাকার জন্য মামুন প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। সাত মাস আগে নোয়াখালী জেলা কারাগারে বদলি হওয়ার পর থেকে তাকে হাত ও পায়ে ‘হ্যান্ডকাপ’ পরিয়ে নির্যাতন চালাতে শুরু করেন মামুন।
আশপাশের লোকজন যাতে চিৎকার না শুনতে পায় সেজন্য নির্যাতনের সময় স্ত্রীর মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখতেন মামুন। এরপরও মাঝে মধ্যে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেতেন। এ কারণে সাত মাসে অন্তত পাঁচবার বাসা বদল করেন মামুন।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী আরও বলেন, মামুন তাকে নগ্ন করে মারধরের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতেন। এমনকি পুলিশে অভিযোগ দিলে তার বাবা ও ভাইকে মাদকের মামলা দিয়ে ফাঁসানোরও হুমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে মামুন তাকে তার বাবার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এনে দিতে বলে। তিনি রাজি না হলে রাতভর নির্যাতনের পর সকালে দুইহাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে অফিসে চলে যায়।
এ ব্যপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীষা জানান, তাদের পাশের বাসার এক নারী বিষয়টি টের পেয়ে থানায় খবর দিলে জেলা কারাগার সড়কে নুর জাহান মহলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে হাতকড়া পরা ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
বিকেলে কারারক্ষী মামুনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী কারাগারের জেল সুপার মনির আহমেদ বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এর আগে মামুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ছয় মাস পর আবার কাজে যোগ দেন।
এখন এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে কারাকর্তৃপক্ষ সহায়তা করবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd