ADS170638-2

বৌয়ের ঢেলে দেয়া গরম তেলে দগ্ধ সে স্বামীর মৃত্যু

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী দেওয়া ‘গরম তেলে’ ঝলসে যাওয়া স্বামী দিদার হোসেনের (৩২) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। তিনি দশদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নিহত দিদার হোসেন সদর উপজেলার চর রুহিতা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৭ জুন সোমবার পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী দিদার হোসেনের গায়ে গরম তেল ঢেলে দিয়ে প্রথম স্ত্রী জহুরা বেগম তাকে ঝলসে দেন।
এ জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার প্রথম স্ত্রী জহুরা বেগম ও তার ভাই আলমগীরকে দায়ী করেন। ঘটনার দিন দিদারের মা ভানু বেগম বাদী হয়ে স্ত্রী জহুরা বেগম ও ভাই আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সেদিন দিদারের বড় ভাই আকবর হোসেন জানান, ২০০৩ সালে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে জহুরার সঙ্গে দিদারের বিয়ে হয়। পরে পারিবারিক বিবাদে ২০১৬ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর দুইজন অন্যত্র বিয়ে করেন।
এক বছর আগে দিদার জহুরাকে আবার বিয়ে করেন। পরে তারা লক্ষ্মীপুর শহরে একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন। ওই দিন সকালে পারিবারিক কলহের জের ধরে জহুরা ও তার ভাই আলমগীর গরম তেল ঢেলে দেয় দিদারের গায়ে। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটনার দিন জহুরা ও তার ভাই আলমগীর গরম তেল ঢেলে দিদারের শরীর ঝলসে দেয়। এতে তার মুখ-হাত ও বুকসহ শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যায়। দগ্ধাবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, দিদার ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঘটনার পর থেকে জহুরা ও তার ভাই আলমগীর পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গরম তেল দিয়ে ঝলসে দেওয়ার মামলাটি এখন হত্যা মামলার ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সোনাইমুড়ীর আ,লীগ নেতা স্বপনকে গ্রেফতার নিয়ে ধুম্রজাল

» চেয়ারম্যান-মেম্বারের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ নিয়ে ‘গুজব’

» রামগঞ্জে এলডিপির সভাপতি সম্পাদকের বিএনপিতে যোগদান

» ফেনীতে মাদক বিক্রেতার বাড়ি চিহ্নিত করণে সাইনবোর্ড ফেসবুকে ভাইরাল

» সোনাইমুড়ীর ছাত্রলীগ নেতা সুজনকে গ্রেফতারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

» সোনাইমুড়ীতে ফজর পড়ে বের হয়েই মুসুল্লিরা দেখতে পেলেন খালে ভাসছে লাশ!

» দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবার পথে নোয়াখালীর ২ আপন ভাইয়ের মৃত্যু

» সোনাইমুড়ী থানায় আ,লীগের সমাঝোতা বৈঠকে ২ গ্রুপের সংঘর্ষ গুলি ওসিসহ আহত ১২

» লক্ষ্মীপুরে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষকের শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী

» রামগতির চরগাজীতে জমির মালিককে প্রকাশ্যে হত্যার চেষ্টা

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

বৌয়ের ঢেলে দেয়া গরম তেলে দগ্ধ সে স্বামীর মৃত্যু

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী দেওয়া ‘গরম তেলে’ ঝলসে যাওয়া স্বামী দিদার হোসেনের (৩২) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। তিনি দশদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নিহত দিদার হোসেন সদর উপজেলার চর রুহিতা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৭ জুন সোমবার পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী দিদার হোসেনের গায়ে গরম তেল ঢেলে দিয়ে প্রথম স্ত্রী জহুরা বেগম তাকে ঝলসে দেন।
এ জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার প্রথম স্ত্রী জহুরা বেগম ও তার ভাই আলমগীরকে দায়ী করেন। ঘটনার দিন দিদারের মা ভানু বেগম বাদী হয়ে স্ত্রী জহুরা বেগম ও ভাই আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সেদিন দিদারের বড় ভাই আকবর হোসেন জানান, ২০০৩ সালে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে জহুরার সঙ্গে দিদারের বিয়ে হয়। পরে পারিবারিক বিবাদে ২০১৬ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর দুইজন অন্যত্র বিয়ে করেন।
এক বছর আগে দিদার জহুরাকে আবার বিয়ে করেন। পরে তারা লক্ষ্মীপুর শহরে একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন। ওই দিন সকালে পারিবারিক কলহের জের ধরে জহুরা ও তার ভাই আলমগীর গরম তেল ঢেলে দেয় দিদারের গায়ে। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটনার দিন জহুরা ও তার ভাই আলমগীর গরম তেল ঢেলে দিদারের শরীর ঝলসে দেয়। এতে তার মুখ-হাত ও বুকসহ শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যায়। দগ্ধাবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, দিদার ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঘটনার পর থেকে জহুরা ও তার ভাই আলমগীর পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গরম তেল দিয়ে ঝলসে দেওয়ার মামলাটি এখন হত্যা মামলার ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd