ADS170638-2

সাগর-রুনি হত্যার বিচার: আশ্বাসে বন্দি

এস এম ফয়েজ

print

সাগর-রুনি হত্যার বিচার: আশ্বাসে বন্দি

সেদিন ছিল ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। অফিসের রোটা অনুযায়ী নাইট ডিউটি। হঠাৎ একটি ফোন, বললো ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাটে দুই সাংবাদিক খুন হয়েছে; খবর নাও। ক্যামেরাপারসনকে সাথে নিয়ে দ্রুত বের হলাম। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখা যায়নি। মানুষ মানুষকে এভাবে কুপিয়ে খুন করতে পারে? আমার ধারণার বাইরে ছিলো এটি। তারপরও অনেক কষ্টে চোখ মুছে সকাল সাড়ে সাতটার নিউজের জন্য লাইভে দাঁড়াই। কিন্তু কান্নাভেজা কন্ঠে কি বলেছিলাম- তা মনে নেই। এতুটুক মনে আছে ছোট্ট অবুঝ সন্তানের সামনে ঘাতকরা নৃশংসভাবে হত্যা করে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে।

কিন্তু কেন এই নৃশংসতা, বর্বরতা সবার কাছে তা আজও ধোঁয়াশা। প্রতিটি হত্যাই মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক ও কষ্টের হলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডটি কাঁদিয়েছে গোটা জাতিকে। মর্মান্তিক ওই ঘটনা শুধু সাংবাদিক মহলই নয়, ব্যথিত করেছে পুরো দেশকে। প্রত্যক সন্তানের কাছে পৃথিবীতে হচ্ছেন সবচেয়ে আপন ঠিকানা ও নিরাপদ আশ্রয় তার বাবা-মা। সন্তানের সামনেই এই নিরাপদ আশ্রয়ের নির্মম হত্যা কতটা কষ্টের তা হয়তো পৃথিবীর কোন ভাষাতেই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই হত্যাকাণ্ডে গোটা জাতি শোকে স্তব্ধ হয়ে গেলেও এখনো হত্যাকারী গ্রেপ্তার তো দূরে থাক, কোনো ক্লু পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। যদিও, এটা নতুন কিছু নয়। দু-একজন ছাড়া কোন সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি, হবে কিনা সন্দেহ?

সাংবাদিক হত্যার কেন বিচার হয় না? পুলিশ কিংবা গোয়েন্দারা কেন কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারে না। অনেক খুন হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে। সব হত্যাকাণ্ডই মানুষে ঘটিয়েছে। সব খুন মানব কর্তৃক হলেও সাংবাদিক হত্যা কোনো মানুষ করে না। হয়তো আসমান থেকে অদৃশ্য কেউ বা  মাটির নিচ থেকে কোনো প্রেতাত্মা হত্যা করে সাংবাদিকদের। সেজন্যই পুলিশ, গোয়েন্দারা সাংবাদকিদের খুনিদের কখনও খুঁজে বের করতে পারে না। আর বিচারও হয় না তাদের। আমরা পুলিশ গোয়েন্দা কিংবা বিচারক কাউকে দোষারোপ করছি না। কেননা আকাশের ওপরের এবং মাটির নিচের কাউকে ধরা বা খুঁজে বের করে বিচার করার তো নিয়ম নেই।

তবে সব সাংবাদিক হত্যার বিচার না হলেও সাগর-রুনির হত্যা আশা জাগিয়েছিল সবার মাঝে, এ খুনটি আসমান থেকে কোনো ফেরেশতা কিংবা মাটির নিচ থেকে কোনো প্রেতাত্মা এসে হত্যা করলেও তারা পার পাবে না! তাদের বিচার হবে। এ স্বপ্ন সাংবাদিক মহলে জাগিয়েছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর খুন হওয়ার পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে এ খুনের বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর একটা বিহিত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল্টিমেটাম দিলেন সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের চিহ্নিত করা হবে। বের করা হবে খুনের কারণও।

দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে সাংবাদিকদের সেই আশার আলো ফুটে ওঠার আগেই ধোঁয়াশায় ম্লান হয়ে গেল। আর এ দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরই পড়ে। সাগর-রুনির খুন রহস্যে ঘেরা। এ রহস্য উদঘাটনে কেউই আন্তরিক নয়। যদি আন্তরিক হতো তাহলে কেনই-বা তারা নানা সময়ে নানা কথা বলছে। এ হত্যাকাণ্ডের তিনদিনের মাথায় সেময়কার পুলিশ মহাপরিদর্শক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক দম্পতি হত্যার কারণ ও খুনি সম্পর্কে আমাদের কাছে অনেক তথ্য রয়েছে। অচিরেই আমরা আপনাদের সেই সুসংবাদ জানাব।’- সেই সংবাদটা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানাতে পারল না।

অতীতের সব সাংবাদিক খুনের মতো এ হত্যাকাণ্ডটিও মাটির অন্ধ ঘরে পাঠাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। হয়তো তারা সফলও হবে। আস্তে আস্তে সাগর-রুনির হত্যা মামলা ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যাবে। পত্রিকা, টেলিভিশন বা রেডিওতে নিউজও হবে না। এভাবেই কি শেষ হয়ে যাবে এ খুনের বিচার? ক্ষমা করো সাগর-রুনি আমাদের।

এস এম ফয়েজ

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাভিশন, ঢাকা।

 

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সুবর্ণচরে পানি সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে ১ জনের মৃত্যু

» সোনাইমুড়ীতে একুশে পরিবহনের ধাক্কায় ৩ মোটর বাইক আরোহী নিহত

» চৌমুহনীতে অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই, শত কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির আশংকা

» পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফেলতি মুছাপুর রেগুলেটর বন্ধ: জলাবদ্ধতায় কৃষকের মাথায় হাত

» চাটখিলের কৃতি সন্তান ড. আজাদ বুলবুলের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন

» সোনাইমুড়ীতে স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় ইউপি সদস্য আটক

» সেনবাগে ১টি কুকুরের কামড়ে আহত ১৭

» বিআরটিসির এস্টেট অফিসার হিসেবে যোগদান করলেন কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান আজগর

» রামগঞ্জের শাহাদাত হোসেন সেলিম সহ ৪ এলডিপি নেতা বিএনপিতে ফিরছেন

» অবশেষে ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেছে

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

সাগর-রুনি হত্যার বিচার: আশ্বাসে বন্দি

এস এম ফয়েজ

print

সাগর-রুনি হত্যার বিচার: আশ্বাসে বন্দি

সেদিন ছিল ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। অফিসের রোটা অনুযায়ী নাইট ডিউটি। হঠাৎ একটি ফোন, বললো ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাটে দুই সাংবাদিক খুন হয়েছে; খবর নাও। ক্যামেরাপারসনকে সাথে নিয়ে দ্রুত বের হলাম। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখা যায়নি। মানুষ মানুষকে এভাবে কুপিয়ে খুন করতে পারে? আমার ধারণার বাইরে ছিলো এটি। তারপরও অনেক কষ্টে চোখ মুছে সকাল সাড়ে সাতটার নিউজের জন্য লাইভে দাঁড়াই। কিন্তু কান্নাভেজা কন্ঠে কি বলেছিলাম- তা মনে নেই। এতুটুক মনে আছে ছোট্ট অবুঝ সন্তানের সামনে ঘাতকরা নৃশংসভাবে হত্যা করে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে।

কিন্তু কেন এই নৃশংসতা, বর্বরতা সবার কাছে তা আজও ধোঁয়াশা। প্রতিটি হত্যাই মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক ও কষ্টের হলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডটি কাঁদিয়েছে গোটা জাতিকে। মর্মান্তিক ওই ঘটনা শুধু সাংবাদিক মহলই নয়, ব্যথিত করেছে পুরো দেশকে। প্রত্যক সন্তানের কাছে পৃথিবীতে হচ্ছেন সবচেয়ে আপন ঠিকানা ও নিরাপদ আশ্রয় তার বাবা-মা। সন্তানের সামনেই এই নিরাপদ আশ্রয়ের নির্মম হত্যা কতটা কষ্টের তা হয়তো পৃথিবীর কোন ভাষাতেই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই হত্যাকাণ্ডে গোটা জাতি শোকে স্তব্ধ হয়ে গেলেও এখনো হত্যাকারী গ্রেপ্তার তো দূরে থাক, কোনো ক্লু পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। যদিও, এটা নতুন কিছু নয়। দু-একজন ছাড়া কোন সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি, হবে কিনা সন্দেহ?

সাংবাদিক হত্যার কেন বিচার হয় না? পুলিশ কিংবা গোয়েন্দারা কেন কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারে না। অনেক খুন হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে। সব হত্যাকাণ্ডই মানুষে ঘটিয়েছে। সব খুন মানব কর্তৃক হলেও সাংবাদিক হত্যা কোনো মানুষ করে না। হয়তো আসমান থেকে অদৃশ্য কেউ বা  মাটির নিচ থেকে কোনো প্রেতাত্মা হত্যা করে সাংবাদিকদের। সেজন্যই পুলিশ, গোয়েন্দারা সাংবাদকিদের খুনিদের কখনও খুঁজে বের করতে পারে না। আর বিচারও হয় না তাদের। আমরা পুলিশ গোয়েন্দা কিংবা বিচারক কাউকে দোষারোপ করছি না। কেননা আকাশের ওপরের এবং মাটির নিচের কাউকে ধরা বা খুঁজে বের করে বিচার করার তো নিয়ম নেই।

তবে সব সাংবাদিক হত্যার বিচার না হলেও সাগর-রুনির হত্যা আশা জাগিয়েছিল সবার মাঝে, এ খুনটি আসমান থেকে কোনো ফেরেশতা কিংবা মাটির নিচ থেকে কোনো প্রেতাত্মা এসে হত্যা করলেও তারা পার পাবে না! তাদের বিচার হবে। এ স্বপ্ন সাংবাদিক মহলে জাগিয়েছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর খুন হওয়ার পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে এ খুনের বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর একটা বিহিত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল্টিমেটাম দিলেন সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের চিহ্নিত করা হবে। বের করা হবে খুনের কারণও।

দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে সাংবাদিকদের সেই আশার আলো ফুটে ওঠার আগেই ধোঁয়াশায় ম্লান হয়ে গেল। আর এ দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরই পড়ে। সাগর-রুনির খুন রহস্যে ঘেরা। এ রহস্য উদঘাটনে কেউই আন্তরিক নয়। যদি আন্তরিক হতো তাহলে কেনই-বা তারা নানা সময়ে নানা কথা বলছে। এ হত্যাকাণ্ডের তিনদিনের মাথায় সেময়কার পুলিশ মহাপরিদর্শক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক দম্পতি হত্যার কারণ ও খুনি সম্পর্কে আমাদের কাছে অনেক তথ্য রয়েছে। অচিরেই আমরা আপনাদের সেই সুসংবাদ জানাব।’- সেই সংবাদটা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানাতে পারল না।

অতীতের সব সাংবাদিক খুনের মতো এ হত্যাকাণ্ডটিও মাটির অন্ধ ঘরে পাঠাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। হয়তো তারা সফলও হবে। আস্তে আস্তে সাগর-রুনির হত্যা মামলা ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যাবে। পত্রিকা, টেলিভিশন বা রেডিওতে নিউজও হবে না। এভাবেই কি শেষ হয়ে যাবে এ খুনের বিচার? ক্ষমা করো সাগর-রুনি আমাদের।

এস এম ফয়েজ

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাভিশন, ঢাকা।

 

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd