ADS170638-2

রোহিঙ্গা নির্যাতন প্রসঙ্গে ফেসবুকে বাংলাদেশ

শিবলু মোশারফঃ

বেশ কিছু দিন থেকে রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হওয়া এবং মিয়ানমার-বাংলাদেশ বিষয়ে কিছু কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে । কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তথ্য-উপাত্ত ছাড়া লেখা বিপদজনক । অপরদিকে, কতিপয় অতিউৎসাহী ফেসবুক ব্যবহারকারীগন বিভিন্ন ধরনের পোষ্ট দিয়ে বিষয়টিকে আরো জটিল করে ফেলেছে। অধিকাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারীগন হয়ত জানেনই না যে, ফেসবুকে ফ্যানপেইজ তৈরী করে লাইক, কমেন্টস, শেয়ার কালেক্ট করা একটি অনলাইন বিজনেস। এসব পেইজ গুলোতে সাধারনত চলমান ইস্যুতে তিলকে তাল বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়। কোন চলমান ইস্যু না থাকলে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা বিষয়কে ব্যবহার করা হয়। মায়ের ভালবাসা কিম্বা শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দাড়ি,চুল,লাঠি,টুপি,জুতা নিয়েও অনেকে লাইক কমেন্টস এর নোংরা বিজনেস করছে। ( উদহারনঃ ” মুসলমান হলে আমীন না লিখে যাবেন না”)। এসব কারনে বুঝে হোক অথবা না বুঝে হোক ইতিমধ্যে অনেক সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক দাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছে। এবার আসল প্রসঙ্গে আসা যাক। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলমান রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে ঘটনার মুলে প্রবেশ না করেই বিভিন্ন ধরনের ভুয়া ছবিতে লাইক কমেন্টস করে ফেসবুক ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা দিয়েছেন অনেকেই। আমার এই কথার অর্থ এই নয় যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার হচ্ছেনা। বরং আমার মতে, মানবতার সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর । আমি ঘৃনা এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এমন জঘন্য নির্যাতন ইতিহাসে বিরল। একমাত্র অমানুষদের পক্ষেই এত কুৎসিত কাজ করা সম্ভব। ১৯৭৪,১৯৭৮-৭৯, ২০০২, ২০১২, ২০১৫-১৬ এই সময় গুলোতে অনেক বেশী অত্যাচারিত হয়েছে রোহিঙ্গা’রা। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সাথে তিনটি বড় চুক্তি সাক্ষরিত হয় তার একটি বিষয় ছিলো সীমান্তে রোহিঙ্গা। ভৌগলিক কারনে বাংলাদেশ রাখাইন রাজ্যের সবচেয়ে কাছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যা সৌদি আরব সহ অনেক দেশের চেয়েও বেশী। সরকারী হিসেবে এর পরিমান কম হলেও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা অনেক। ভারতে ৩৬০০০ এবং অপর সীমান্তবর্তী দেশ থাইল্যান্ড এ আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ। নেপাল মাত্র ২০০ লোককে আশ্রয় দিলেও মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ চীন ইতিপূর্বে কখনও ১ জন রোহিঙ্গাকেও আশ্রয় দেয়নি। কয়েকদিন আগে চীন-মিয়ানমার সীমান্তে শান প্রদেশে বিদ্রোহী ও মিলিটারী দাঙ্গায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ বিভিন্ন ভাবে চীনে আশ্রয় নিয়েছে। তাতেই বেইজিং মুখপাত্র এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশে কে বা কাহারা প্রচার করছে চীন বিধর্মী দেশ হয়েও আশ্রয় দিচ্ছে বাংলাদেশ কেন সীমান্ত খুলে দিচ্ছেনা? এ দাবী কি আদৌ যৌক্তিক? মালয়েশিয়ার বিখ্যাত মোনাস ইউনিভার্সিটি র “দ্যা ডিপ্লোম্যাট” নামে প্রকাশিত একটি অনলাইন আর্টিকেল পড়ছিলাম সেদিন, তাদের মতে “রাখাইনের কতিপয় উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলমানদেরকে অনেক আগে থেকেই বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে যা বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক”। ঐদিকে তারা ঠেলে দিচ্ছে আর এইদিকে কতিপয় লোক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সীমান্ত খুলে দেয়ার দাবী জানাচ্ছে। তাহলে কি বিষয়টি ধর্মের দোহাই দিয়ে আন্তর্জাতিক কোন ষড়যন্ত্র? নাকি কোন উছিলায় ধর্মীয় ইস্যু বানিয়ে সরকারের প্রতি অঙ্গুলি প্রদর্শনের রাজনৈতিক কুট কৌশল? ১.৩ মিলিয়ন অর্থাৎ আরো তের লক্ষ রোহিঙ্গা যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করে সব মিলিয়ে মোট প্রায় ২০ লক্ষ রোহিঙ্গার বাসস্থান বাংলাদেশের কোথায় হবে? অন্ন-বস্ত্রের কি ব্যবস্থা হবে? যারা ফেসবুকে আবেগিক কমেন্টস করেন, নতুন দূরে থাক পূরোনো যে রোহিঙ্গারা রয়েছে তাদের খোঁজ নিয়েছেন কোনদিন? জানেন কি পার্বত্য অঞ্চলে তাদের আয়ের উৎস কি? ২০ লক্ষ লোক যদি এদেশে কোনো নতুন দাঙ্গায় জড়িত হয়, এ দায় কি নেবেন তথাকথিত ফেসবুক পোষ্ট, লাইক, শেয়ার, কমেন্টস কারীরা? অনেকে আবার ৭১ এ ভারতের ভূমিকা টেনে এনে এখানে জোড়া দেয়। কিসের মধ্যে কি? সেই প্রেক্ষাপট আর এই ঘটনা এক নয়। তখন যুদ্ধ করে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। তাছাড়া ৭১ এ ভারত শুধু শরণার্থীদের আশ্রয়ই দেয়নি, তারা ঘোষনা দিয়ে মিত্রবাহিনী হয়ে একত্রে যুদ্ধ করেছে। কিছুসত্য, কিছু মিথ্যা জড়ানো বিতর্কিত ছবিতে লাইক প্রদানকারী আবেগিক ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কি চান, বাংলাদেশও এখন রাখাইনদের মিত্রবাহিনী হয়ে জাতিসংঘকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে লিপ্ত হোক? সামরিক শক্তিতে দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় ভিয়েত নামের পরে মিয়ানমার, বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে সেই খবরও কি নেয়া শেষ? ১৮ কোটি মানুষ এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত কিনা সেই মতামত নেয়া শেষ? নাকি একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধের জন্য কয়েকটি লাইক আর শেয়ার ই যথেষ্ঠ? নাকি যাদের স্মার্ট ফোন অথবা ফেসবুক আইডি নেই তারা বাংলাদেশের নাগরিক ই না? রাজপথে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবেলার ইস্যু তৈরি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারগারে বন্দি করা আর দুইটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া এক নয়। আর এক লক্ষ ভোট হলে সুচীর নোবেল বাতিল হবে, সময় নেই তাড়াতাড়ি লাইকদিন শেয়ার করুন, হায়রে পোঁড়া কপাল, নোবেল ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্রে পুরষ্কার ফেরত বা বাজেয়াপ্তের কোনো বিধান ই নেই। তবু চেষ্টা করুন আপনার লাইক কমেন্টস এ যদি গঠনতন্ত্রে নতুন কোনো সংশোধনী আসে। অপরদিকে নোবেল কমিটি নোবেল বিজয়ীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা না করে সারাদিন শুধু ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকবে আপনার লাইক কমেন্টস দেখার জন্য। আমার একজন সহকর্মীর পোষ্ট “ইতিহাস জানলে ফেসবুক বাদদিয়ে কামলা দিত”। আমি বলি, না জেনে মন্তব্য করার চেয়ে বাচ্চাদের সাথে বসে কার্টুন দেখা অনেক ভালো, অন্তত সামাজিক অশান্তি তৈরী হবেনা। সাইবার কিলিং নামে যে সব হত্যাকান্ড হচ্ছে তা হতো না।

আসলে সীমান্ত খুলে দিয়ে সবাইকে নিয়ে আসা কোনো সমাধান নয়, উপরন্ত নিজের দেশে সমস্যা সৃষ্টি করা। তারচেয়ে আমরা মানব বন্ধন এবং সমজাতীয় কর্মকান্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে পারি, যা আল-জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন এর মত মিডিয়াতে কাভারেজ পায়। আর রাষ্ট্রযন্ত্র তার নিজস্ব প্রক্রিয়াতে কিছু ক্ষমতাধর রাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের মাধ্যমে কুটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে। মনে রাখতে হবে, ফেসবুকে ফেইক আইডি খোলা যায় কিন্তু দুটি স্বাধীন দেশ ফেইক যুদ্ধ করতে পারেনা। পরিশেষে বলি, ধিক্ তব মূল্যহীন নোবেল, ধিক্ সূচি পরাজিত মানবতা । আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, হে আল্লাহ মুসলিম হিসেবে একমাত্র ভরসা তোমার উপরই,তোমার অসহায় মুসলমানদের রক্ষা করো।
লেখকঃ শিবলু মোশারফ কলামিষ্ট,সাংবাদিক এবং সাধারণ সম্পাদক, সোনাইমুড়ী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্ট, নোয়াখালী । (ইতালি প্রবাসী)
 

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সুবর্ণচরে পানি সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে ১ জনের মৃত্যু

» সোনাইমুড়ীতে একুশে পরিবহনের ধাক্কায় ৩ মোটর বাইক আরোহী নিহত

» চৌমুহনীতে অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই, শত কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির আশংকা

» পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফেলতি মুছাপুর রেগুলেটর বন্ধ: জলাবদ্ধতায় কৃষকের মাথায় হাত

» চাটখিলের কৃতি সন্তান ড. আজাদ বুলবুলের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন

» সোনাইমুড়ীতে স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় ইউপি সদস্য আটক

» সেনবাগে ১টি কুকুরের কামড়ে আহত ১৭

» বিআরটিসির এস্টেট অফিসার হিসেবে যোগদান করলেন কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান আজগর

» রামগঞ্জের শাহাদাত হোসেন সেলিম সহ ৪ এলডিপি নেতা বিএনপিতে ফিরছেন

» অবশেষে ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেছে

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

রোহিঙ্গা নির্যাতন প্রসঙ্গে ফেসবুকে বাংলাদেশ

শিবলু মোশারফঃ

বেশ কিছু দিন থেকে রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হওয়া এবং মিয়ানমার-বাংলাদেশ বিষয়ে কিছু কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে । কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তথ্য-উপাত্ত ছাড়া লেখা বিপদজনক । অপরদিকে, কতিপয় অতিউৎসাহী ফেসবুক ব্যবহারকারীগন বিভিন্ন ধরনের পোষ্ট দিয়ে বিষয়টিকে আরো জটিল করে ফেলেছে। অধিকাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারীগন হয়ত জানেনই না যে, ফেসবুকে ফ্যানপেইজ তৈরী করে লাইক, কমেন্টস, শেয়ার কালেক্ট করা একটি অনলাইন বিজনেস। এসব পেইজ গুলোতে সাধারনত চলমান ইস্যুতে তিলকে তাল বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়। কোন চলমান ইস্যু না থাকলে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা বিষয়কে ব্যবহার করা হয়। মায়ের ভালবাসা কিম্বা শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দাড়ি,চুল,লাঠি,টুপি,জুতা নিয়েও অনেকে লাইক কমেন্টস এর নোংরা বিজনেস করছে। ( উদহারনঃ ” মুসলমান হলে আমীন না লিখে যাবেন না”)। এসব কারনে বুঝে হোক অথবা না বুঝে হোক ইতিমধ্যে অনেক সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক দাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছে। এবার আসল প্রসঙ্গে আসা যাক। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলমান রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে ঘটনার মুলে প্রবেশ না করেই বিভিন্ন ধরনের ভুয়া ছবিতে লাইক কমেন্টস করে ফেসবুক ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পা দিয়েছেন অনেকেই। আমার এই কথার অর্থ এই নয় যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার হচ্ছেনা। বরং আমার মতে, মানবতার সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর । আমি ঘৃনা এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এমন জঘন্য নির্যাতন ইতিহাসে বিরল। একমাত্র অমানুষদের পক্ষেই এত কুৎসিত কাজ করা সম্ভব। ১৯৭৪,১৯৭৮-৭৯, ২০০২, ২০১২, ২০১৫-১৬ এই সময় গুলোতে অনেক বেশী অত্যাচারিত হয়েছে রোহিঙ্গা’রা। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সাথে তিনটি বড় চুক্তি সাক্ষরিত হয় তার একটি বিষয় ছিলো সীমান্তে রোহিঙ্গা। ভৌগলিক কারনে বাংলাদেশ রাখাইন রাজ্যের সবচেয়ে কাছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যা সৌদি আরব সহ অনেক দেশের চেয়েও বেশী। সরকারী হিসেবে এর পরিমান কম হলেও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা অনেক। ভারতে ৩৬০০০ এবং অপর সীমান্তবর্তী দেশ থাইল্যান্ড এ আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ। নেপাল মাত্র ২০০ লোককে আশ্রয় দিলেও মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ চীন ইতিপূর্বে কখনও ১ জন রোহিঙ্গাকেও আশ্রয় দেয়নি। কয়েকদিন আগে চীন-মিয়ানমার সীমান্তে শান প্রদেশে বিদ্রোহী ও মিলিটারী দাঙ্গায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ বিভিন্ন ভাবে চীনে আশ্রয় নিয়েছে। তাতেই বেইজিং মুখপাত্র এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশে কে বা কাহারা প্রচার করছে চীন বিধর্মী দেশ হয়েও আশ্রয় দিচ্ছে বাংলাদেশ কেন সীমান্ত খুলে দিচ্ছেনা? এ দাবী কি আদৌ যৌক্তিক? মালয়েশিয়ার বিখ্যাত মোনাস ইউনিভার্সিটি র “দ্যা ডিপ্লোম্যাট” নামে প্রকাশিত একটি অনলাইন আর্টিকেল পড়ছিলাম সেদিন, তাদের মতে “রাখাইনের কতিপয় উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলমানদেরকে অনেক আগে থেকেই বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে যা বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক”। ঐদিকে তারা ঠেলে দিচ্ছে আর এইদিকে কতিপয় লোক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সীমান্ত খুলে দেয়ার দাবী জানাচ্ছে। তাহলে কি বিষয়টি ধর্মের দোহাই দিয়ে আন্তর্জাতিক কোন ষড়যন্ত্র? নাকি কোন উছিলায় ধর্মীয় ইস্যু বানিয়ে সরকারের প্রতি অঙ্গুলি প্রদর্শনের রাজনৈতিক কুট কৌশল? ১.৩ মিলিয়ন অর্থাৎ আরো তের লক্ষ রোহিঙ্গা যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করে সব মিলিয়ে মোট প্রায় ২০ লক্ষ রোহিঙ্গার বাসস্থান বাংলাদেশের কোথায় হবে? অন্ন-বস্ত্রের কি ব্যবস্থা হবে? যারা ফেসবুকে আবেগিক কমেন্টস করেন, নতুন দূরে থাক পূরোনো যে রোহিঙ্গারা রয়েছে তাদের খোঁজ নিয়েছেন কোনদিন? জানেন কি পার্বত্য অঞ্চলে তাদের আয়ের উৎস কি? ২০ লক্ষ লোক যদি এদেশে কোনো নতুন দাঙ্গায় জড়িত হয়, এ দায় কি নেবেন তথাকথিত ফেসবুক পোষ্ট, লাইক, শেয়ার, কমেন্টস কারীরা? অনেকে আবার ৭১ এ ভারতের ভূমিকা টেনে এনে এখানে জোড়া দেয়। কিসের মধ্যে কি? সেই প্রেক্ষাপট আর এই ঘটনা এক নয়। তখন যুদ্ধ করে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। তাছাড়া ৭১ এ ভারত শুধু শরণার্থীদের আশ্রয়ই দেয়নি, তারা ঘোষনা দিয়ে মিত্রবাহিনী হয়ে একত্রে যুদ্ধ করেছে। কিছুসত্য, কিছু মিথ্যা জড়ানো বিতর্কিত ছবিতে লাইক প্রদানকারী আবেগিক ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কি চান, বাংলাদেশও এখন রাখাইনদের মিত্রবাহিনী হয়ে জাতিসংঘকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে লিপ্ত হোক? সামরিক শক্তিতে দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় ভিয়েত নামের পরে মিয়ানমার, বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে সেই খবরও কি নেয়া শেষ? ১৮ কোটি মানুষ এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত কিনা সেই মতামত নেয়া শেষ? নাকি একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধের জন্য কয়েকটি লাইক আর শেয়ার ই যথেষ্ঠ? নাকি যাদের স্মার্ট ফোন অথবা ফেসবুক আইডি নেই তারা বাংলাদেশের নাগরিক ই না? রাজপথে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবেলার ইস্যু তৈরি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারগারে বন্দি করা আর দুইটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া এক নয়। আর এক লক্ষ ভোট হলে সুচীর নোবেল বাতিল হবে, সময় নেই তাড়াতাড়ি লাইকদিন শেয়ার করুন, হায়রে পোঁড়া কপাল, নোবেল ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্রে পুরষ্কার ফেরত বা বাজেয়াপ্তের কোনো বিধান ই নেই। তবু চেষ্টা করুন আপনার লাইক কমেন্টস এ যদি গঠনতন্ত্রে নতুন কোনো সংশোধনী আসে। অপরদিকে নোবেল কমিটি নোবেল বিজয়ীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা না করে সারাদিন শুধু ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকবে আপনার লাইক কমেন্টস দেখার জন্য। আমার একজন সহকর্মীর পোষ্ট “ইতিহাস জানলে ফেসবুক বাদদিয়ে কামলা দিত”। আমি বলি, না জেনে মন্তব্য করার চেয়ে বাচ্চাদের সাথে বসে কার্টুন দেখা অনেক ভালো, অন্তত সামাজিক অশান্তি তৈরী হবেনা। সাইবার কিলিং নামে যে সব হত্যাকান্ড হচ্ছে তা হতো না।

আসলে সীমান্ত খুলে দিয়ে সবাইকে নিয়ে আসা কোনো সমাধান নয়, উপরন্ত নিজের দেশে সমস্যা সৃষ্টি করা। তারচেয়ে আমরা মানব বন্ধন এবং সমজাতীয় কর্মকান্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে পারি, যা আল-জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন এর মত মিডিয়াতে কাভারেজ পায়। আর রাষ্ট্রযন্ত্র তার নিজস্ব প্রক্রিয়াতে কিছু ক্ষমতাধর রাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের মাধ্যমে কুটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে। মনে রাখতে হবে, ফেসবুকে ফেইক আইডি খোলা যায় কিন্তু দুটি স্বাধীন দেশ ফেইক যুদ্ধ করতে পারেনা। পরিশেষে বলি, ধিক্ তব মূল্যহীন নোবেল, ধিক্ সূচি পরাজিত মানবতা । আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, হে আল্লাহ মুসলিম হিসেবে একমাত্র ভরসা তোমার উপরই,তোমার অসহায় মুসলমানদের রক্ষা করো।
লেখকঃ শিবলু মোশারফ কলামিষ্ট,সাংবাদিক এবং সাধারণ সম্পাদক, সোনাইমুড়ী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্ট, নোয়াখালী । (ইতালি প্রবাসী)
 

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd