ADS170638-2

সরকারি হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের বাসায় নিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মী

তাবারক হোসেন আজাদ :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রফিকুল ইসলাম (৩০) নামের এক শারিরীক প্রতিবন্ধী (দু’পা খোড়া) স্ত্রীকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীর নিজ বাসায় অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃসহ্পতিবার (৮ আগষ্ট) গভীর রাতে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পিছনে মরিয়ম বেগম মায়া নামে স্বাস্থ্য কর্মীর নিজ বাসায়। ওষুধ, স্যালাইন না দিয়ে স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়ে তার টাকা ফেরত চেয়েছেন।
শনিবার সকালে প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম বলেন, ১০নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চা দোকান দিয়ে সংসার ব্যয় বহন করেন। তিনি প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে করেন। এরই মাঝে স্ত্রী শিউলি আক্তার গর্ভবতী হন। সরকারি ভাবে হাসপাতাল থেকে সুবিধা পাওয়ার জন্য হলুদ কার্ডও করা হয়। স্ত্রীর প্রচন্ড ব্যাথা উঠলে বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী শাহিনুরের পরামর্শে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ সময় দেখা হয় হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মী মরিয়ম বেগমের (মায়া) সাথে। সে কৌশলে রফিকুল ইসলামকে পরামর্শ দেন তার স্ত্রীকে নিয়ে মরিয়মের বাসায় নিয়ে যেতে। এ সময় দিশেহারা হয়ে রফিকুল তার স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীর বাসায় জান। রাত সাড়ে ৩টায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে রফিকুলের স্ত্রী সন্তান ভ‚মিষ্ট হয়। এ পরিশ্রমের জন্য কোন ওসুধ না দিয়েই রকিুলের কাছ থেকে স্বাস্থ্য কর্মী মায়া ৮ হাজার ২’শ টাকা দাবী করে। না দিলে রোগী নিয়ে বাড়ীতে যাওয়া যাবে না বললে নিরুপায় হয়ে ৭ হাজার ২’শ টাকা দিয়ে বাড়ী চলে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কর্মী জানান, মরিয়ম বেগম (মায়া) প্রায় সময় হাসপাতালে ভর্তি প্রসুতী রোগীদের বাসায় নিয়ে চিকিৎসা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৭-৮ মাস আগে এ ধরণের একটি ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ আসলে মরিয়মকে শোকোজ করা হয়। পরে এ ধরণের ঘটনা পূনরাবৃত্তি না ঘটনোর জন্য সতর্ক করা হয়।
বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে মরিয়ম বেগম, এ ঘটনা কোথায় ঘটেছে তা আমি জানি না বলে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার চেষ্টা করলেও সে ফোন রিসিভ করে নাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনা আমার জানা নাই। খোঁজ খবর নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মী মরিয়ম বেগম মায়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সুবর্ণচরের থানার হাটে শর্ট ক্রীজ রৌপ্যকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

» ফেনীতে বিষাক্ত সাপের দংশনে যুবকের মৃত্যু

» কবিরহাটে চোরাই মোটর সাইকেলসহ ছাত্রলীগ সভাপতি র‍্যাবের হাতে আটক

» সেনবাগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

» চাটখিলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

» বাবার দেয়া বাইকেই প্রাণ গেল কলেজ পড়ুয়া ছেলের

» এখনো অধরা সুবর্ণচরে কিশোরী গণধর্ষণের সে ধর্ষকরা

» কোম্পানীগঞ্জে সিএনজি চাপায় ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

» আবারো সেই সুবর্ণচর, এবার গণধর্ষনের শিকার ১৪ বছরের কিশোরী

» রামগঞ্জে বাল্য বিয়ের প্রস্তুতির দায়ে কনের অর্থদন্ড

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

সরকারি হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের বাসায় নিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মী

তাবারক হোসেন আজাদ :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রফিকুল ইসলাম (৩০) নামের এক শারিরীক প্রতিবন্ধী (দু’পা খোড়া) স্ত্রীকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীর নিজ বাসায় অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃসহ্পতিবার (৮ আগষ্ট) গভীর রাতে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পিছনে মরিয়ম বেগম মায়া নামে স্বাস্থ্য কর্মীর নিজ বাসায়। ওষুধ, স্যালাইন না দিয়ে স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়ে তার টাকা ফেরত চেয়েছেন।
শনিবার সকালে প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম বলেন, ১০নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চা দোকান দিয়ে সংসার ব্যয় বহন করেন। তিনি প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে করেন। এরই মাঝে স্ত্রী শিউলি আক্তার গর্ভবতী হন। সরকারি ভাবে হাসপাতাল থেকে সুবিধা পাওয়ার জন্য হলুদ কার্ডও করা হয়। স্ত্রীর প্রচন্ড ব্যাথা উঠলে বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী শাহিনুরের পরামর্শে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ সময় দেখা হয় হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মী মরিয়ম বেগমের (মায়া) সাথে। সে কৌশলে রফিকুল ইসলামকে পরামর্শ দেন তার স্ত্রীকে নিয়ে মরিয়মের বাসায় নিয়ে যেতে। এ সময় দিশেহারা হয়ে রফিকুল তার স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীর বাসায় জান। রাত সাড়ে ৩টায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে রফিকুলের স্ত্রী সন্তান ভ‚মিষ্ট হয়। এ পরিশ্রমের জন্য কোন ওসুধ না দিয়েই রকিুলের কাছ থেকে স্বাস্থ্য কর্মী মায়া ৮ হাজার ২’শ টাকা দাবী করে। না দিলে রোগী নিয়ে বাড়ীতে যাওয়া যাবে না বললে নিরুপায় হয়ে ৭ হাজার ২’শ টাকা দিয়ে বাড়ী চলে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কর্মী জানান, মরিয়ম বেগম (মায়া) প্রায় সময় হাসপাতালে ভর্তি প্রসুতী রোগীদের বাসায় নিয়ে চিকিৎসা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৭-৮ মাস আগে এ ধরণের একটি ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ আসলে মরিয়মকে শোকোজ করা হয়। পরে এ ধরণের ঘটনা পূনরাবৃত্তি না ঘটনোর জন্য সতর্ক করা হয়।
বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে মরিয়ম বেগম, এ ঘটনা কোথায় ঘটেছে তা আমি জানি না বলে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার চেষ্টা করলেও সে ফোন রিসিভ করে নাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনা আমার জানা নাই। খোঁজ খবর নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মী মরিয়ম বেগম মায়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd