ADS170638-2

আবরারের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হওয়া ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মো. আমিনুল হক এ আদেশদেন।
গত শুক্রবার ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবরারের মৃত্যুতে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে দৈনিকটির সম্পাদকের বিরুদে মামলা দায়ের করেন এই স্কুলছাত্রের বাবা মো. মুজিবুর রহমান।
পরে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবরারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে তার বাবার নালিশি মামলাটি এক সঙ্গে তদন্ত করতে বলেছেন আদালত।
আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম।
কলেজের দিবা শাখার ছাত্র আবরারের বাড়ি নোয়াখালী। সে সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামের অধিবাসী সৌদি প্রবাসী মজিবুর রহমানের ছেলে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকত।
শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, লাশ গ্রামের বাড়ি পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে, জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আবরারের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে কালক্ষেপণ করে পাশে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীতে ইউনিভার্সাল হাসপাতালে নেয়। সেখানে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে কিছুক্ষণ পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ছেলের লাশ ময়নাতদন্ত না করে আমাকে দিয়ে দেয়। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ কত যে ভারী, তা একমাত্র আমিই বলতি পারি। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
মজিবুর রহমান আরও বলেন, অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ৮টায়। রাহাত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় বিকাল ৪টায়, তার মৃত্যু হয় সন্ধ্যা ৭টায়। খবর মোবাইল ফোনে তার সহপাঠী লাভিব আমাদের জানায়। আমরা হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ দেখতে পাই। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রাহাত সবার ছোট।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জিজি বিশ্বাস বলেন, ‘কি আনন্দ’ শিরোনামের ওই অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা মঞ্চের পেছনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় আবরার। আয়োজকরা তাকে মহাখালীর একটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার কলেজের ফটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শুক্রবার আয়োজন যারা করেছেন, তারা নিজেদের দায় কতটুকু, তা তাদের প্রচারমাধ্যমে না জানালে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
‘তারা কেন আমাদের না জানিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেল, পাশে হাসপাতাল থাকতে মহাখালীতে কেন নিয়ে গেল, মধ্যরাতে কেন জানাজা হল’- প্রশ্ন তোলেন তারা।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে কলেজটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ সেখানে উপস্থিত হন। তিনি ছাত্রদের নিজের শোকানুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘এই কলেজের সাবেক ছাত্র হিসেবে এবং অধ্যক্ষ হিসেবে আমার বড় দায়িত্ব রয়েছে।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে আশ্বস্ত করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শান্ত হন।

 

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» লক্ষ্মীপুরের ছেলের জন্যে ইতালীর তরুনী বাংলাদেশে

» রামগঞ্জ গাছকেটে বিধবার সম্পত্তি দখল

» সৌদিতে লাশ হলো মাত্র ১মাসে আগে যাওয়া লক্ষ্মীপুরের ইয়ামিন

» ফেনীতে গুলিবিদ্ধ ২ লাশ উদ্ধারের দাবি পুলিশের, পরিবারের বক্তব্য ভিন্ন

» নদী ভাঙ্গনরোধের দাবীতে সুবর্ণচর উপকুলবাসীর মানববন্ধন

» চাটখিল স্কলার স্কুল এন্ড কলেজে আনন্দ আয়োজন

» জয় টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে

» নোয়াখালীতে এতিম বিলকিছের বিয়ে দিল পুলিশ নারী কল্যান সমিতি

» শুরু হতে পারলোনা নোয়াখালী পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র!

» গ্রেফতারকৃত চাটখিলের যুবলীগ নেতা জুয়েলকে নিয়ে এমপির স্টেটাস, এলাকায় বিক্ষোভ

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

add pn
সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
ADS170638-2
,

আবরারের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হওয়া ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মো. আমিনুল হক এ আদেশদেন।
গত শুক্রবার ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবরারের মৃত্যুতে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে দৈনিকটির সম্পাদকের বিরুদে মামলা দায়ের করেন এই স্কুলছাত্রের বাবা মো. মুজিবুর রহমান।
পরে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবরারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে তার বাবার নালিশি মামলাটি এক সঙ্গে তদন্ত করতে বলেছেন আদালত।
আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম।
কলেজের দিবা শাখার ছাত্র আবরারের বাড়ি নোয়াখালী। সে সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামের অধিবাসী সৌদি প্রবাসী মজিবুর রহমানের ছেলে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকত।
শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, লাশ গ্রামের বাড়ি পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে, জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আবরারের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে কালক্ষেপণ করে পাশে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীতে ইউনিভার্সাল হাসপাতালে নেয়। সেখানে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে কিছুক্ষণ পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ছেলের লাশ ময়নাতদন্ত না করে আমাকে দিয়ে দেয়। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ কত যে ভারী, তা একমাত্র আমিই বলতি পারি। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
মজিবুর রহমান আরও বলেন, অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ৮টায়। রাহাত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় বিকাল ৪টায়, তার মৃত্যু হয় সন্ধ্যা ৭টায়। খবর মোবাইল ফোনে তার সহপাঠী লাভিব আমাদের জানায়। আমরা হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ দেখতে পাই। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রাহাত সবার ছোট।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জিজি বিশ্বাস বলেন, ‘কি আনন্দ’ শিরোনামের ওই অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা মঞ্চের পেছনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় আবরার। আয়োজকরা তাকে মহাখালীর একটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার কলেজের ফটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শুক্রবার আয়োজন যারা করেছেন, তারা নিজেদের দায় কতটুকু, তা তাদের প্রচারমাধ্যমে না জানালে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
‘তারা কেন আমাদের না জানিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেল, পাশে হাসপাতাল থাকতে মহাখালীতে কেন নিয়ে গেল, মধ্যরাতে কেন জানাজা হল’- প্রশ্ন তোলেন তারা।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে কলেজটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ সেখানে উপস্থিত হন। তিনি ছাত্রদের নিজের শোকানুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘এই কলেজের সাবেক ছাত্র হিসেবে এবং অধ্যক্ষ হিসেবে আমার বড় দায়িত্ব রয়েছে।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে আশ্বস্ত করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শান্ত হন।

 

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd