ভ্যালেন্টাইন্স-ডে স্কুল জীবনের গল্প

রচনা ঃ এম.এস উদ্দিন

প্রথম দেখাতে পছন্দ, ভালোবাসা হয়ে গেল। প্রপোজের দিন নির্ধারন করলো ১৪ ফেব্রুয়ারি।ছেলে-মেয়ে দু’জনই একই স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়তো। গোলাপ ফুল দিয়ে মেয়েকে প্রপোজ করলো ছেলেটি। প্ররমিজ করলো প্রতি বছর আজকের এই দিনে তোমার সারাটি জিবন পছন্দের গোলাপ আমি দেব।

মেয়েটিও ফুল পছন্দ করতো, তাই প্রতি মাসের ১৪তারিখসহ বছর ঘুরে আসলে ১৪ফেব্রুয়ারি ছেলেটি তাকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে গোলাপের তোড়া দিতো আর সাথে থাকতো একটি চিঠি। যেখানে লেখা থাকতো সে তাকে কতোটা ভালোবাসে।

ক্লাস এইটে উঠার পর এক দুর্ঘটনায় ছেলেটি মাথায় আঘাত পায়। এতে তার দু’চোখে আঘাতের প্রভাব পড়ে। স্বাভাবিক ভাবে সবকিছু দেখতে পারেনা। তখন তার সুন্দর আনন্দোময় জীবন ব্যাহত হয়। মেয়েটি এখন আর ছেলেটিকে আগের মতো ভালোবাসে না। ৯ম শ্রেণীতে উঠার পর হঠাত্‍ একদিন স্কুলে খেলা ধুলার অনুষ্ঠানের দিন ছেলেটি স্কুলের বারান্দায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আশপাশের ছাত্র-ছাত্রী এ অবস্থা দেখে ছেলেটির কাছে ছুটে আসে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে ছেলেটির মৃত্যু হয়। কিন্তু ছেলেটি মারা যাওয়ার এক বছর পরের ভ্যালেন্টাইন্স ডে তেও মেয়েটি একি ভাবে চিঠি সহ গোলাপের তোড়া পেল, চিঠিতে লেখা ছিল“আমি গত বছরের এই দিনে তোমাকে যতটুকু ভালবাসতাম, এখন তার থেকে আরও বেশি ভালবাসি। প্রতিটি বছর পার হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তোমার জন্যে আমার এই ভালোবাসা আরো শতগুণ বাড়বে”।

মেয়েটি ভাবল, ছেলেটি মারাগেল। ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে আমার বাসায় গোলাপের তোড়া আর চিঠি কোথায় থেকে এল!! মন খারাপ করে ভাবতে লাগলো এমন একটা দিনে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে দু’জন হেটে ছিলাম। অথচ বাড়ীর নিকটবর্তী সেই হাটা চলার পথের পাশে তার কবর দেখতে হয়েছে আমাকে। ভাবতে ভাবতে সেই ফুলগুলিকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখল সে।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর দিন বাসায় সকালে বন্ধু মাসুদ এসেছিল। তার সাথে দেখা হয় দরজার সামনে। সে চিঠিসহ গোলাপের তোড়া দেয় আমায় গত বছর। স্কুল বন্ধ থাকায় মিসু সরাসরি আমায় দিতে পারেনি। বাবা-ভাইদের ভয়ে সে বাসায় আসেনি। তাই বন্ধু মাসুদের মাধ্যমে চিঠি আর গোলাপ পাঠায় সে। অবাক হয়ে চিঠিটি পড়ে দেখলাম এটা তার ভালোবাসা পাঠিয়েছে।

কিন্তুু এখন আবার কে আমার সাথে মজা করছে?

মেয়েটি তার বন্ধু নায়েবকে ফোন করে জানতে চাইলো এই কাজ কে করেছে। নায়েব তাকে যা বলল তা হল “আমি জানি যে ছেলেটি তোমাকে পছন্দ করতো, সে অনেক দিন আগে মারা গিয়াছে। আমি এও জানি তুমি আজকে আমাকে ফোন করে নিশ্চয়ই তার জীবনের সব জানতে চাইবে?

তোমার ভালোবাসা অনেক আগেই একদিন তোমার জন্য ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে গোলাপ ফুল আর চিঠি তোমারে দিতে আমাকে দিয়ে ছিলো। তখন গোলাপ আর চিঠি তোমারে না দিয়ে আমার কাছে রেখে দিলাম।

অনেক দিন পর বাসায় পুরনো জিনিষ পত্র খুঁজতে গিয়ে এই চিঠিটি পেলাম। ভাবলাম এটা তার আমানত তোমার জন্য, আগে না দিলেও এখন তোমারে দেয়া দরকার।
তাই এখন সেই চিঠির সাথে ফুল কিনে দিয়ে বন্ধু বিপুলের মাধ্যেমে পাঠিয়ে দিয়াছি তোমার কাছে।
সে তোমাকে বাসায় না পেয়ে দরজার সামনে রেখে চলে আসে।

মেয়েটি তখন বন্ধু নায়েবকে মির জাফর বলে তার উপর ভীষণ চটে গিয়ে ফোন কেটে দেয়।

যখন মেয়েটি চিঠিটি হাতে পেল, তখন সে কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটি খুলে দেখতে পেল, সেখানে তার জন্যে কিছু লিখে গেছে। সেখানে লিখা ছিল, এক সময় স্কুল জীবনে সবচেয়ে বেশি কথা তোমার সাথে হতো। আমাকে ছাড়া এক মহত্ত্ব ভালো লাগতোনা তোমার। তাই তোমার সাথে অধিক সময় কাটিয়েছি। একদিন না দেখলে কথা না বললে সেই দিনটা তোমার কষ্টে কাটতো। অভিমানে আড়ালে থাকলেও হৃদয় থেকে দূরে নয় তুমি। আমি এতোটা হতভাগ্য যে তোমার বিরক্তির কারন হয়ে গেলাম। আমি চলে গেলে তোমার কষ্ট লাঘব হবে, নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাবে তুমি। কিন্তু মনে রেখ আমি তোমাকে সব সময় সুখী দেখতে চেয়েছি, তোমার চোখের পানি নয়।
সারাজীবন তোমার সাথে থাকতে চেয়েছি। বিধির লিখন যে হৃদয়ে থাকে সে জীবনে আসেনা। তখন মানুষের কিছু করারও থাকেনা। যখনই তুমি কোন ফুল দেখবে তখনি আমাদের ভালবাসার কথা মনে করবে, মনে পড়বে স্কুল জীবনে একসাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোকে। সব সময় হাসি খুশি থাকতে চেষ্টা করবে, আমি জানি এটা অনেক কঠিন হবে, তবুও আমি আশা করি তুমি পারবে।

আজ ১৪ফেব্রুয়ারি ছেলেটির কবরের পাশে দাড়িঁয়ে মেয়েটি বলছে, তোমাকে ভালোবাসার ফুল দিয়ে যাচ্ছি, গ্রহণ কর। মনে রেখ তুমি, তোমারি ছিলাম আছি থাকবো। তুমি কি জীবনে একবার আমার সাথে কথা বলবে, দেখা করবে শুধু একবার! নিয়ে যাও তোমার কাছে চিরদিনের জন্যে আমায়। সব সময় মনে পড়ে তোমায়, আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসি। “নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি” প্রতিবিম্বে প্রতিবিম্বে শুধুই তুমি।”

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» সোনাইমুড়ীতে শিশু অপহরণ, ২ অপহরণকারী আটক

» মুক্তমতঃ প্রহসনের লকডাউন ও আমাদের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট

» চাটখিলে সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা পেলো ঈদ জামা

» মসজিদে ঢুকে নোবিপ্রবির সহকারী রেজিস্ট্রারকে ছুরিকাঘাত

» দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহানসবার্গ সিটিতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

» সোনাইমুড়ীর দেওটিতে বিএনপি নেতাদের উপহার প্রদান ও খালেদা জিয়ার জন্যে দোয়া

» সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়ায় মাদক ব্যাবসায়ীদের অভয়ারণ্য

» চাটখিলে যুবদলের কমিটি পূনঃ গঠনের দাবিতে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম

» বেগমগঞ্জে নববধূকে গলাটিপে হত্যা, স্বামী আটক

» একরাম চৌধুরী ৬ তারিখের মধ্যে আমাকে হত্যা করবে

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

ভ্যালেন্টাইন্স-ডে স্কুল জীবনের গল্প

রচনা ঃ এম.এস উদ্দিন

প্রথম দেখাতে পছন্দ, ভালোবাসা হয়ে গেল। প্রপোজের দিন নির্ধারন করলো ১৪ ফেব্রুয়ারি।ছেলে-মেয়ে দু’জনই একই স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়তো। গোলাপ ফুল দিয়ে মেয়েকে প্রপোজ করলো ছেলেটি। প্ররমিজ করলো প্রতি বছর আজকের এই দিনে তোমার সারাটি জিবন পছন্দের গোলাপ আমি দেব।

মেয়েটিও ফুল পছন্দ করতো, তাই প্রতি মাসের ১৪তারিখসহ বছর ঘুরে আসলে ১৪ফেব্রুয়ারি ছেলেটি তাকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে গোলাপের তোড়া দিতো আর সাথে থাকতো একটি চিঠি। যেখানে লেখা থাকতো সে তাকে কতোটা ভালোবাসে।

ক্লাস এইটে উঠার পর এক দুর্ঘটনায় ছেলেটি মাথায় আঘাত পায়। এতে তার দু’চোখে আঘাতের প্রভাব পড়ে। স্বাভাবিক ভাবে সবকিছু দেখতে পারেনা। তখন তার সুন্দর আনন্দোময় জীবন ব্যাহত হয়। মেয়েটি এখন আর ছেলেটিকে আগের মতো ভালোবাসে না। ৯ম শ্রেণীতে উঠার পর হঠাত্‍ একদিন স্কুলে খেলা ধুলার অনুষ্ঠানের দিন ছেলেটি স্কুলের বারান্দায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আশপাশের ছাত্র-ছাত্রী এ অবস্থা দেখে ছেলেটির কাছে ছুটে আসে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে ছেলেটির মৃত্যু হয়। কিন্তু ছেলেটি মারা যাওয়ার এক বছর পরের ভ্যালেন্টাইন্স ডে তেও মেয়েটি একি ভাবে চিঠি সহ গোলাপের তোড়া পেল, চিঠিতে লেখা ছিল“আমি গত বছরের এই দিনে তোমাকে যতটুকু ভালবাসতাম, এখন তার থেকে আরও বেশি ভালবাসি। প্রতিটি বছর পার হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তোমার জন্যে আমার এই ভালোবাসা আরো শতগুণ বাড়বে”।

মেয়েটি ভাবল, ছেলেটি মারাগেল। ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে আমার বাসায় গোলাপের তোড়া আর চিঠি কোথায় থেকে এল!! মন খারাপ করে ভাবতে লাগলো এমন একটা দিনে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে দু’জন হেটে ছিলাম। অথচ বাড়ীর নিকটবর্তী সেই হাটা চলার পথের পাশে তার কবর দেখতে হয়েছে আমাকে। ভাবতে ভাবতে সেই ফুলগুলিকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখল সে।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর দিন বাসায় সকালে বন্ধু মাসুদ এসেছিল। তার সাথে দেখা হয় দরজার সামনে। সে চিঠিসহ গোলাপের তোড়া দেয় আমায় গত বছর। স্কুল বন্ধ থাকায় মিসু সরাসরি আমায় দিতে পারেনি। বাবা-ভাইদের ভয়ে সে বাসায় আসেনি। তাই বন্ধু মাসুদের মাধ্যমে চিঠি আর গোলাপ পাঠায় সে। অবাক হয়ে চিঠিটি পড়ে দেখলাম এটা তার ভালোবাসা পাঠিয়েছে।

কিন্তুু এখন আবার কে আমার সাথে মজা করছে?

মেয়েটি তার বন্ধু নায়েবকে ফোন করে জানতে চাইলো এই কাজ কে করেছে। নায়েব তাকে যা বলল তা হল “আমি জানি যে ছেলেটি তোমাকে পছন্দ করতো, সে অনেক দিন আগে মারা গিয়াছে। আমি এও জানি তুমি আজকে আমাকে ফোন করে নিশ্চয়ই তার জীবনের সব জানতে চাইবে?

তোমার ভালোবাসা অনেক আগেই একদিন তোমার জন্য ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে গোলাপ ফুল আর চিঠি তোমারে দিতে আমাকে দিয়ে ছিলো। তখন গোলাপ আর চিঠি তোমারে না দিয়ে আমার কাছে রেখে দিলাম।

অনেক দিন পর বাসায় পুরনো জিনিষ পত্র খুঁজতে গিয়ে এই চিঠিটি পেলাম। ভাবলাম এটা তার আমানত তোমার জন্য, আগে না দিলেও এখন তোমারে দেয়া দরকার।
তাই এখন সেই চিঠির সাথে ফুল কিনে দিয়ে বন্ধু বিপুলের মাধ্যেমে পাঠিয়ে দিয়াছি তোমার কাছে।
সে তোমাকে বাসায় না পেয়ে দরজার সামনে রেখে চলে আসে।

মেয়েটি তখন বন্ধু নায়েবকে মির জাফর বলে তার উপর ভীষণ চটে গিয়ে ফোন কেটে দেয়।

যখন মেয়েটি চিঠিটি হাতে পেল, তখন সে কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটি খুলে দেখতে পেল, সেখানে তার জন্যে কিছু লিখে গেছে। সেখানে লিখা ছিল, এক সময় স্কুল জীবনে সবচেয়ে বেশি কথা তোমার সাথে হতো। আমাকে ছাড়া এক মহত্ত্ব ভালো লাগতোনা তোমার। তাই তোমার সাথে অধিক সময় কাটিয়েছি। একদিন না দেখলে কথা না বললে সেই দিনটা তোমার কষ্টে কাটতো। অভিমানে আড়ালে থাকলেও হৃদয় থেকে দূরে নয় তুমি। আমি এতোটা হতভাগ্য যে তোমার বিরক্তির কারন হয়ে গেলাম। আমি চলে গেলে তোমার কষ্ট লাঘব হবে, নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাবে তুমি। কিন্তু মনে রেখ আমি তোমাকে সব সময় সুখী দেখতে চেয়েছি, তোমার চোখের পানি নয়।
সারাজীবন তোমার সাথে থাকতে চেয়েছি। বিধির লিখন যে হৃদয়ে থাকে সে জীবনে আসেনা। তখন মানুষের কিছু করারও থাকেনা। যখনই তুমি কোন ফুল দেখবে তখনি আমাদের ভালবাসার কথা মনে করবে, মনে পড়বে স্কুল জীবনে একসাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোকে। সব সময় হাসি খুশি থাকতে চেষ্টা করবে, আমি জানি এটা অনেক কঠিন হবে, তবুও আমি আশা করি তুমি পারবে।

আজ ১৪ফেব্রুয়ারি ছেলেটির কবরের পাশে দাড়িঁয়ে মেয়েটি বলছে, তোমাকে ভালোবাসার ফুল দিয়ে যাচ্ছি, গ্রহণ কর। মনে রেখ তুমি, তোমারি ছিলাম আছি থাকবো। তুমি কি জীবনে একবার আমার সাথে কথা বলবে, দেখা করবে শুধু একবার! নিয়ে যাও তোমার কাছে চিরদিনের জন্যে আমায়। সব সময় মনে পড়ে তোমায়, আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসি। “নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি” প্রতিবিম্বে প্রতিবিম্বে শুধুই তুমি।”

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল [email protected]

Developed BY Trustsoftbd