বেগমগঞ্জে ১৫ মিনিট দেরিতে আসায় পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি!

 

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

‘১৫ মিনিট দেরি’ করে কেন্দ্রে পৌঁছায় পরীক্ষা দিতে পারেনি এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সামিয়া সুলতানা শান্তা নামে ওই শিক্ষার্থী চৌমুহনীর গণিপুর গার্লস হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।

পরিবারের দাবি, বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ওই ছাত্রী। গত পাঁচ দিন ধরে অসুস্থতা নিয়েই সে পরীক্ষা দিচ্ছে। মঙ্গলবার তার রসায়ন পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ে মায়ের সঙ্গে পৌরসভার নরোত্তমপুর বাসা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশে বের হয়। ৯টা থেকে চৌমুহনী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ছিল। যানজটে পড়ে ১৫ মিনিট দেরিতে পরীক্ষার হলে আসার কারণে ওই তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্র সচিবের হাত-পা ধরেও পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারেনি।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক এবং গণিপুর গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এ ঘটনার জন্য কেন্দ্র সচিবকে দায়ী করে বিশেষ ব্যবস্থায় তার রসায়ন পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে কেন্দ্র সচিব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পরীক্ষার্থীর মা রাবেয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে সামিয়া জ্বর, সর্দি, বমি ও কাশিতে ভুগছে। তাকে সোমবার (১৫ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখানো হয়। অসুস্থ শরীর নিয়েই ১৪ নভেম্বর পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়েছে। মঙ্গলবার অসুস্থতা নিয়ে রসায়ন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মেয়েকে নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে বের হই। চৌমুহনীতে দীর্ঘ যানজট থাকার কারণে পৌঁছাতে ১৫ মিনিট দেরি হয়। কেন্দ্রে ঢোকার পর কেন্দ্র সচিব আবদুল মান্নান তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। একবার নিচতলা আরেকবার দ্বিতীয় তলায় এভাবে আরও ১৫ মিনিট সময় নষ্ট করে আমার মেয়েকে পরীক্ষা দিতে পারবে না বলে জানান। এরপর আমি ও আমার মেয়ে কেন্দ্র সচিবের কাছে অনেক অনুনয়-বিনয় করে তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি শোনেননি।’

মায়ের দাবি, ‘পরীক্ষা দিতে না পেরে আমার মেয়ে কান্নাকাটি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ দৃশ্য দেখে গণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন ও ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া কেন্দ্র সচিবকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। পরীক্ষা দিতে না পেরে গত দুই দিন ধরে সে শুধুই কান্নাকাটি করছে। কোনও কিছুই খাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি উদার মানসিকতার পরিচয় দিলেও কেন্দ্র সচিব কী কারণে এত কঠোর হলেন তা বোধগম্য নয়। আগামী ২২ তারিখ তার জীববিজ্ঞান পরীক্ষা হবে। সে ওই পরীক্ষায়ও অংশ নেবে।’ তাই বিশেষ ব্যবস্থায় তার মেয়ের রসায়ন বিজ্ঞান পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং কুমিল্লার বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি দাবি জানান।

গণিপুর গালর্স হাই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘যানজটের কারণে ওই ছাত্রীর কেন্দ্রে পৌঁছাতে ১৫/২০ মিনিট দেরি হয়েছে। কিন্তু তার তো পরীক্ষা দেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু আমি অনেক অনুরোধ করলেও তিনি আমার কথা শোনেননি। ছাত্রীটি অনেক মেধাবী। সে ৩০ মিনিট লেখার সুযোগ পেলেও ভালো ফলাফল করতো।’ তিনি ওই ছাত্রীকে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানান। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

কেন্দ্র সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থী প্রায় এক ঘণ্টা পর কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। পরীক্ষার মোট নম্বর ৩২। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার ১২ নম্বরের জন্য ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তরপত্র ১৫ মিনিট পরে নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ২০ নম্বরের রচনামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় এবং সেটির উত্তরপত্র এক ঘণ্টা পর নিয়ে নেওয়া হয়। তাই তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, ‘এক শিক্ষার্থী এক ঘণ্টা দেরিতে কেন্দ্রে আসার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে।’

 

নিউজ ক্রেডিটঃ বাংলা ট্রিবিউন।

Share Button

সর্বশেষ আপডেট



» পরীক্ষার ২ দিন আগেই চলে গেলো আঁখি

» সেবা নিতে গিয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর মারধরের শিকার প্রবাসী

» নোয়াখালীতে নির্বাচনে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ নিয়ে পুলিশ

» দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

» নোয়াখালীর চাটখিলে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার-২

» কাতারে নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরামের কমিটি

» নোয়াখালীতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার-৩

» মাদ্রাসাছাত্র চাটখিলের সাফওয়ান গুচ্ছের পর ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটেও প্রথম

» চাটখিলের সাহাপুরে নৌকার যৌগ্য কান্ডারী হতে পারেন সাজ্জাদ হায়দার সোহেল

» কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের আটক বানিজ্যের অডিও ফাঁস,ওসি এসআই বদলী

ফেইসবুকে প্রিয় নোয়াখালী

সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল kanon.press@gmail.com
Desing & Developed BY Trust soft bd
,

বেগমগঞ্জে ১৫ মিনিট দেরিতে আসায় পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি!

 

প্রিয় নোয়াখালী ডেস্কঃ

‘১৫ মিনিট দেরি’ করে কেন্দ্রে পৌঁছায় পরীক্ষা দিতে পারেনি এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সামিয়া সুলতানা শান্তা নামে ওই শিক্ষার্থী চৌমুহনীর গণিপুর গার্লস হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।

পরিবারের দাবি, বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ওই ছাত্রী। গত পাঁচ দিন ধরে অসুস্থতা নিয়েই সে পরীক্ষা দিচ্ছে। মঙ্গলবার তার রসায়ন পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ে মায়ের সঙ্গে পৌরসভার নরোত্তমপুর বাসা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশে বের হয়। ৯টা থেকে চৌমুহনী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ছিল। যানজটে পড়ে ১৫ মিনিট দেরিতে পরীক্ষার হলে আসার কারণে ওই তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্র সচিবের হাত-পা ধরেও পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারেনি।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক এবং গণিপুর গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এ ঘটনার জন্য কেন্দ্র সচিবকে দায়ী করে বিশেষ ব্যবস্থায় তার রসায়ন পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে কেন্দ্র সচিব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পরীক্ষার্থীর মা রাবেয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে সামিয়া জ্বর, সর্দি, বমি ও কাশিতে ভুগছে। তাকে সোমবার (১৫ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখানো হয়। অসুস্থ শরীর নিয়েই ১৪ নভেম্বর পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়েছে। মঙ্গলবার অসুস্থতা নিয়ে রসায়ন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মেয়েকে নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে বের হই। চৌমুহনীতে দীর্ঘ যানজট থাকার কারণে পৌঁছাতে ১৫ মিনিট দেরি হয়। কেন্দ্রে ঢোকার পর কেন্দ্র সচিব আবদুল মান্নান তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। একবার নিচতলা আরেকবার দ্বিতীয় তলায় এভাবে আরও ১৫ মিনিট সময় নষ্ট করে আমার মেয়েকে পরীক্ষা দিতে পারবে না বলে জানান। এরপর আমি ও আমার মেয়ে কেন্দ্র সচিবের কাছে অনেক অনুনয়-বিনয় করে তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি শোনেননি।’

মায়ের দাবি, ‘পরীক্ষা দিতে না পেরে আমার মেয়ে কান্নাকাটি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ দৃশ্য দেখে গণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন ও ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া কেন্দ্র সচিবকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। পরীক্ষা দিতে না পেরে গত দুই দিন ধরে সে শুধুই কান্নাকাটি করছে। কোনও কিছুই খাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি উদার মানসিকতার পরিচয় দিলেও কেন্দ্র সচিব কী কারণে এত কঠোর হলেন তা বোধগম্য নয়। আগামী ২২ তারিখ তার জীববিজ্ঞান পরীক্ষা হবে। সে ওই পরীক্ষায়ও অংশ নেবে।’ তাই বিশেষ ব্যবস্থায় তার মেয়ের রসায়ন বিজ্ঞান পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং কুমিল্লার বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি দাবি জানান।

গণিপুর গালর্স হাই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ‘যানজটের কারণে ওই ছাত্রীর কেন্দ্রে পৌঁছাতে ১৫/২০ মিনিট দেরি হয়েছে। কিন্তু তার তো পরীক্ষা দেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু আমি অনেক অনুরোধ করলেও তিনি আমার কথা শোনেননি। ছাত্রীটি অনেক মেধাবী। সে ৩০ মিনিট লেখার সুযোগ পেলেও ভালো ফলাফল করতো।’ তিনি ওই ছাত্রীকে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানান। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

কেন্দ্র সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থী প্রায় এক ঘণ্টা পর কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। পরীক্ষার মোট নম্বর ৩২। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার ১২ নম্বরের জন্য ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তরপত্র ১৫ মিনিট পরে নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ২০ নম্বরের রচনামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় এবং সেটির উত্তরপত্র এক ঘণ্টা পর নিয়ে নেওয়া হয়। তাই তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, ‘এক শিক্ষার্থী এক ঘণ্টা দেরিতে কেন্দ্রে আসার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে।’

 

নিউজ ক্রেডিটঃ বাংলা ট্রিবিউন।

Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



web-ad

সর্বশেষ আপডেট





সম্পাদক ও প্রকাশক:: কামরুল ইসলাম কানন।
যোগাযোগ:: ০১৭১২৯৮৩৭৫১।
ইমেইল kanon.press@gmail.com

Developed BY Trustsoftbd