
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে চাঁদাবাজি, দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা একটি সিআর মামলায় জয়াগ ইউনিয়ন যুবদল নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মলংমুড়ী গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত, সোনাইমুড়ীতে সি.আর. মামলা নং-১৮৯/২০২৩ দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৪৪৭, ৩২৩, ৩৮০, ৩৮৫, ৪২৭, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় জয়াগ ইউনিয়নের( ১ নং ওয়ার্ড যুবদল এর সাবেক সভাপতি শওকত ও নুরুল আলম সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বাদী দীর্ঘ ২৪ বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে নিজের ও প্রবাসী ছেলের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জয়াগ বাজারে কয়েকটি দোকানঘর ক্রয় করেন। দোকান কেনার পর থেকেই যুবদল নেতা শওকত সহ আসামিরা। তার কাছে এবং দোকানঘরের ভাড়াটিয়াদের কাছ।
থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলেও। তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ বিকেলে। জয়াগ বাজারে বাদীর মালিকানাধীন দোকানের সামনে। প্রধান আসামির নেতৃত্বে যুবদল নেতা শওকত সহ। একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রসহ উপস্থিত হয়ে। বাদী ও তার ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, পরে দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের টাইলস, স্টিলের সামগ্রী, টিন, গ্রিল, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বাদীকে অস্ত্রের মুখে। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, ঘটনার পর বাদী ও তার ভাড়াটিয়ারা। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। এ ঘটনায় সোনাইমুড়ী থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও, তা গ্রহণ করা হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি আমলে নেওয়ার পর। যুবদল নেতা শওকত এবং নূরুল আলমের বিরুদ্ধে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৫ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা বাস্তবায়নের জন্য সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরো জানা যায়,, দখলকৃত দোকান ঘরটি নিজের বলে। স্থানীয় জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। যুবদল নেতা শওকত।
পরবর্তীতে মামলার বাদি তাজুল ইসলাম,দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ, প্যানেল চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
উক্ত লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ১ নং জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ, বর্তমান দায়িত্বে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান, সরোজমিন তদন্তপূর্বক জানতে পারেন।
ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া দোকান ঘরটি যুবদল নেতা শওকতের না। দোকান ঘরের প্রকৃত মালিক মামলার বাদী তাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে প্যানেল চেয়ারম্যান ট্রেড লাইসেন্সটি বাতিল করেন।
জানা যায়, ইতিপূর্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত আসামিগণ। প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করাচ্ছেন।
বাদী পক্ষের দাবি,, বর্তমানে আসামিরা আত্মগোপনে আছেন। এবং দখলকৃত দোকানটি এখনো আসামিদের দখলে রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। জয়াগ উত্তর বাজারে একটি দোকান দখল, জয়াগ বাজারের, দিঘী, লুটপাট এবং এলাকায় চাঁদাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও মামলার বাদী দাবি করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।









