
চাটখিল প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর চাটখিলে প্রেমিকাকে ছিনিয়ে নেওয়ার সময় প্রেমিকের দায়ের আঘাতে সজিব হোসেন নামক এক যুবক খুন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাদারীপুর গ্রামে।
এই ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, মাদারীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে নাহিদুল ইসলামের একই গ্রামের সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা কামরুল ইসলামের মেয়ে তার সহপাঠী কাউসারা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক হয়। কাউসারার পরিবার তার বিয়ে অন্যত্র ঠিক করলে তারা দুজন ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করে। এক পর্যায কাউসারার বাবার বিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে কয়েক দিন পর তারা দুজনে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে গ্রামে আসে। গ্রামে আসার পর কাউসারার বাবা তাদের বিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার অস্বীকার করে গত ১২ ডিসেম্বর তার মেয়েকে তার দলবল নিয়ে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে নাহিদুল ইসলাম বাধা দেয়। এই সময় নাহিদুল ইসলামের হাতে লোহার আঘাতে কামরুল ইসলামের সহযোগী সজীব হোসেন গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনার সময় নাহিদুল ইসলামের বাবা মিজানুর রহমানও আহত হন।
গত ১৫ ডিসেম্বর গুরুতর আহত সজীব হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় নোয়াখালীর মাইজদীর একটি হাসপাতালে মারা যায়।
নাহিদের মা সেলিনা আক্তার সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর পরই কামরুল ইসলাম এবং তার পালিত সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়ি ঘরে আক্রমন করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন তার সন্তান নাইদুল ইসলামকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ তাদের সাথে অসদ আচরণ করে এবং তার ছেলেকে পেলে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেয়।
সেলিনা আক্তার সজিব হোসেন তার ছেলের হাতে নিহতের ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন,সে আমার ছেলের সামান্য আঘাতে মারা যেতে পারে না। হয়তো কামরুল ইসলাম আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্যে তাকে হত্যা করেছে কিংবা ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক সজীব হোসেনের মারা যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় নাহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে তার বাবা চাচা সহ ৪ জনের নামে থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে নাহিদুল ইসলামের বাবা মিজানুর রহমানকে একটি হাসপাতাল থেকে এবং চাচা মাসুদ আলমকে নিজ গ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ।